সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
জর্জিয়ায় বিদ্যালয়ে গুলির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে গ্রেপ্তার তিনজন, উদ্ধার আগ্নেয়াস্ত্র ও গোলাবারুদইরান যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যয় ৪৭১০ কোটি ডলার ছাড়াল, বাড়ছে অর্থনৈতিক চাপ ও ক্ষতির শঙ্কাব্রঙ্কসে পরিচ্ছন্নতা বিভাগের বার্জে ভয়াবহ আগুন, কালো ধোঁয়ায় ঢেকে গেল নিউইয়র্কের আকাশ শহরজুড়ে ছড়াল আতঙ্কইসরায়েলের নির্বাচনে নেই স্পষ্ট বিজয়ী, সরকার গঠন নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তানেব্রাস্কায় বন্যায় ক্ষতি ২৩ মিলিয়ন ডলার ছাড়াল, আট কাউন্টির জন্য কেন্দ্রীয় সহায়তা চাইলেন গভর্নর

টেক্সাসে ট্রাম্পের জ্বালানি পরিকল্পনা, মিথেন নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বাড়ছে পরিবেশঝুঁকি ও রাজনৈতিক বিতর্ক

টেক্সাসে নির্বাচনী প্রচারণায় তেল ও গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিথেন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের বিধি শিথিলের ঘোষণা দিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টেক্সাসে ট্রাম্পের জ্বালানি পরিকল্পনা, মিথেন নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বাড়ছে পরিবেশঝুঁকি ও রাজনৈতিক বিতর্ক
টেক্সাসে ট্রাম্পের জ্বালানি পরিকল্পনা, মিথেন নিয়ন্ত্রণ শিথিলে বাড়ছে পরিবেশঝুঁকি ও রাজনৈতিক বিতর্ক

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাস অঙ্গরাজ্যে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর পরিকল্পনা সামনে এনে নতুন করে জ্বালানি নীতিকে রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে নিয়ে এসেছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬, নির্বাচনী প্রচারণার অংশ হিসেবে লাবক শহরে এক সমাবেশে তিনি সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসনের সময় প্রণীত মিথেন নির্গমন নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিধি বাতিল বা শিথিল করার উদ্যোগের কথা জানান। তাঁর দাবি, এসব নিয়মে পরিবর্তন আনলে জ্বালানি উৎপাদন বাড়বে, উৎপাদকদের ব্যয় কমবে এবং ভোক্তাদের ওপর জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির চাপ কমানো সম্ভব হবে। তবে পরিবেশবিষয়ক বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীদের আশঙ্কা, নিয়ন্ত্রণ দুর্বল হলে তেল ও গ্যাসক্ষেত্র থেকে ক্ষতিকর গ্যাসের নিঃসরণ বাড়তে পারে।

আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এবং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টেক্সাস সফরে ট্রাম্পের প্রধান লক্ষ্য ছিল আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীদের পক্ষে সমর্থন জোরদার করা। বিশেষ করে অঙ্গরাজ্যটির সিনেট নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী কেন প্যাক্সটনের পক্ষে প্রচারণা চালান তিনি। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী জেমস তালারিকোর সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ লড়াইয়ে রিপাবলিকানদের অবস্থান ধরে রাখার চেষ্টা চলছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারিত হওয়ার সম্ভাবনা থাকায় জ্বালানির দাম, উৎপাদন এবং অর্থনৈতিক চাপ গুরুত্বপূর্ণ নির্বাচনী ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।

ট্রাম্পের পরিকল্পনার কেন্দ্রে রয়েছে মিথেন নির্গমন নিয়ন্ত্রণের বিদ্যমান বিধিতে পরিবর্তন। মিথেন প্রাকৃতিক গ্যাসের অন্যতম প্রধান উপাদান এবং এটি বায়ুমণ্ডলে তাপ আটকে রাখার ক্ষেত্রে অত্যন্ত শক্তিশালী একটি গ্রিনহাউস গ্যাস। তেল ও গ্যাস উত্তোলনের সময় পাইপ, ভালভ, কূপ এবং অন্যান্য যন্ত্রপাতি থেকে এই গ্যাস ছড়িয়ে পড়তে পারে। কখনো কখনো উত্তোলনের সময় অতিরিক্ত গ্যাস সরাসরি পুড়িয়ে ফেলা হয়, যা পরিবেশগত উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

বাইডেন প্রশাসনের সময় প্রণীত বিধিতে নতুন ও পুরোনো তেল-গ্যাস স্থাপনায় নির্গমন পর্যবেক্ষণ, গ্যাসের লিক শনাক্তকরণ এবং ত্রুটি মেরামতের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। বড় ধরনের মিথেন নিঃসরণ শনাক্ত হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানকে ব্যবস্থা নিতে বাধ্য করার জন্য একটি বিশেষ কর্মসূচিও রাখা হয়। ট্রাম্প প্রশাসন এখন সেই কর্মসূচি বাতিল বা পরিবর্তন, ছোট উৎপাদনক্ষমতার কূপের জন্য তুলনামূলক শিথিল শর্ত এবং গ্যাস পোড়ানোর ওপর আরোপিত কিছু বিধিনিষেধ কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।

ট্রাম্পের বক্তব্য অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে ভোক্তা ও জ্বালানি উৎপাদকদের মোট ৪৫ বিলিয়ন ডলার সাশ্রয় হতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত ২১ কোটি ব্যারেল তেল এবং বিপুল পরিমাণ প্রাকৃতিক গ্যাস উৎপাদনের সম্ভাবনার কথাও তুলে ধরেছে তাঁর প্রশাসন। তবে এসব পরিসংখ্যান প্রশাসনের প্রত্যাশিত ফলাফলের হিসাব; এগুলোকে ইতিমধ্যে অর্জিত সাশ্রয় বা নিশ্চিত উৎপাদন বৃদ্ধি হিসেবে দেখা যাবে না। বাস্তবে কতটা উৎপাদন বাড়বে, কতটা ব্যয় কমবে এবং তার প্রভাব সাধারণ মানুষের জ্বালানি বিলে কতটা পড়বে, তা নির্ভর করবে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের বাস্তবায়ন, বাজারের পরিস্থিতি ও উৎপাদন ব্যয়ের ওপর।

টেক্সাস যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান তেল ও গ্যাস উৎপাদনকারী অঙ্গরাজ্য। ফলে সেখানে উৎপাদনসংক্রান্ত নীতি পরিবর্তনের প্রভাব শুধু স্থানীয় শিল্পে সীমাবদ্ধ থাকার সম্ভাবনা নেই। জ্বালানি সরবরাহ, পরিশোধন, পরিবহন এবং বিনিয়োগের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব পড়তে পারে। একই সঙ্গে বিশ্ববাজারে তেলের দাম নির্ধারণে আন্তর্জাতিক সংঘাত, সরবরাহের অনিশ্চয়তা, পরিবহন ব্যয় এবং উৎপাদনকারী দেশগুলোর সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তাই শুধু পরিবেশবিষয়ক বিধি শিথিল করলেই পেট্রোল বা অন্যান্য জ্বালানির দাম নিশ্চিতভাবে কমে যাবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর যথেষ্ট ভিত্তি নেই।

সমালোচকদের উদ্বেগের বড় কারণ হলো ছোট ও কম উৎপাদনক্ষমতার কূপগুলো। এসব কূপ থেকে মোট তেল ও গ্যাস উৎপাদনের পরিমাণ তুলনামূলক কম হলেও কিছু ক্ষেত্রে মিথেন নিঃসরণের পরিমাণ উল্লেখযোগ্য হতে পারে। নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও মেরামতের বাধ্যবাধকতা কমে গেলে গ্যাসের অপচয় এবং বায়ুদূষণ বাড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। পরিবেশবাদীদের মতে, মিথেন নির্গমন কমানো জলবায়ু পরিবর্তনের গতি সীমিত করার গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। অন্যদিকে প্রশাসনের যুক্তি, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ ছোট উৎপাদকদের ব্যয় বাড়ায় এবং নতুন উৎপাদন নিরুৎসাহিত করে।

এই বিতর্কে অর্থনৈতিক সুবিধা ও পরিবেশগত ক্ষতির হিসাব গুরুত্বপূর্ণ। একদিকে উৎপাদকদের ব্যয় কমলে কিছু প্রতিষ্ঠান ব্যবসা চালিয়ে যেতে এবং উৎপাদন বাড়াতে উৎসাহিত হতে পারে। অন্যদিকে গ্যাসের লিক শনাক্ত ও মেরামতের ব্যবস্থা দুর্বল হলে উৎপাদিত জ্বালানির একটি অংশ নষ্ট হতে পারে। স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য, বায়ুর মান এবং দীর্ঘমেয়াদি জলবায়ুগত প্রভাবও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন। ফলে প্রস্তাবিত পরিবর্তনের প্রকৃত ফল নির্ধারণে স্বাধীন পর্যবেক্ষণ, নির্গমনের তথ্য এবং বাস্তব ব্যয়ের তুলনামূলক বিশ্লেষণ গুরুত্বপূর্ণ হবে।

এখানে একটি আইনি বিষয়ও স্পষ্ট করা দরকার। প্রেসিডেন্টের সমাবেশে ঘোষণা এবং পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থার বিধি পরিবর্তনের প্রস্তাব একই বিষয় নয়। কোনো বিধি পরিবর্তনের জন্য প্রশাসনিক প্রক্রিয়া, আনুষ্ঠানিক নথি প্রকাশ এবং প্রযোজ্য আইনগত শর্ত পূরণ করতে হয়। তাই রাজনৈতিক বক্তব্যের ভিত্তিতে সব নিয়ম ইতিমধ্যে বাতিল হয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া সঠিক নয়। প্রস্তাবটি কোন পর্যায়ে রয়েছে এবং কখন থেকে কার্যকর হতে পারে, তা নির্ধারণে সরকারি নথি ও পরবর্তী ঘোষণা যাচাই করা জরুরি।

২৭ অক্টোবর টেক্সাসে ট্রাম্পের প্রচারণা জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানো, জ্বালানির ব্যয় কমানো এবং পরিবেশগত নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার নীতিগত অবস্থানকে সামনে এনেছে। রিপাবলিকানদের নির্বাচনী সুবিধা অর্জনের প্রচেষ্টার পাশাপাশি এই উদ্যোগ যুক্তরাষ্ট্রের জ্বালানি নিরাপত্তা ও জলবায়ুনীতির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। ঘোষিত অর্থনৈতিক সুবিধা বাস্তবে কতটা অর্জিত হবে এবং পরিবেশের ওপর কী প্রভাব পড়বে, তা জানতে প্রস্তাবিত বিধির চূড়ান্ত রূপ, বাস্তবায়ন এবং পরবর্তী নির্গমনসংক্রান্ত তথ্য পর্যবেক্ষণ করতে হবে।


ট্যাগ: ডোনাল্ড ট্রাম্পটেক্সাসজ্বালানি নীতিতেল উৎপাদনপ্রাকৃতিক গ্যাসমিথেন নির্গমনপরিবেশ সুরক্ষাজলবায়ু পরিবর্তনযুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিমধ্যবর্তী নির্বাচন

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।