অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোট জালিয়াতির তথ্য দিলেই ১০ লাখ ডলার পুরস্কার, ট্রাম্পের ঘোষণা
যুক্তরাষ্ট্রের অতীত ও আসন্ন নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তথ্য দিয়ে অপরাধীর গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করতে পারলে ১০ লাখ ডলার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প।
যুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তথ্য প্রকাশে উৎসাহ দিতে ১০ লাখ ডলার পুরস্কারের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গত সোমবার, ২৬ অক্টোবর, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, অতীতের নির্বাচন কিংবা ২০২৬ সালের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির বিষয়ে তথ্য দিয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত করতে সহায়তা করলে তথ্যদাতাকে এই অর্থ দেওয়া হবে। তবে পুরস্কার দেওয়ার প্রক্রিয়া, অর্থের উৎস এবং তথ্য যাচাইয়ের দায়িত্ব কার হাতে থাকবে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত জানানো হয়নি।
ট্রাম্প তাঁর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রকাশিত বার্তায় অতীতের নির্বাচন এবং আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনে ভোট জালিয়াতির তথ্য দেওয়ার আহ্বান জানান। তাঁর ঘোষণায় পুরস্কার পাওয়ার শর্ত হিসেবে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার ও দণ্ড নিশ্চিত হওয়ার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। অর্থাৎ, কেবল অভিযোগ জানালেই পুরস্কার পাওয়া যাবে—এমন নিশ্চয়তা দেওয়া হয়নি।
আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে ভোট দেবেন মার্কিন নাগরিকেরা। নির্বাচনের আগে ভোটার নিবন্ধন, ডাকযোগে ভোট এবং ভোটের নিরাপত্তা নিয়ে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে বিতর্ক চলছে। এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্পের পুরস্কার ঘোষণাটি নতুন করে নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও ভোট জালিয়াতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা সৃষ্টি করেছে।
তবে ঘোষণাটির বাস্তবায়ন নিয়ে কয়েকটি প্রশ্ন এখনো অমীমাংসিত। ট্রাম্প জানাননি, পুরস্কারের অর্থ সরকারি তহবিল থেকে দেওয়া হবে, নাকি অন্য কোনো উৎস থেকে আসবে। তথ্যদাতারা কোন দপ্তরে অভিযোগ জমা দেবেন, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করবেন কারা এবং পুরস্কার দেওয়ার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কে নেবেন—এসব বিষয়েও স্পষ্ট নির্দেশনা প্রকাশ করা হয়নি। হোয়াইট হাউসও এ বিষয়ে অতিরিক্ত বিস্তারিত তথ্য দেয়নি বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে।
এটি ট্রাম্প প্রশাসনের দুর্নীতি ও অনিয়মের তথ্যদাতাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার উদ্যোগ নিয়ে সাম্প্রতিক আলোচনার অংশ। এর আগে সরকারি কর্মসূচিতে জালিয়াতি শনাক্ত করতে তথ্যদাতাদের আর্থিক পুরস্কার দেওয়ার আরেকটি উদ্যোগের কথা ঘোষণা করা হয়েছিল। তবে ভোট জালিয়াতির তথ্যের জন্য ঘোষিত ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার এবং সরকারি কর্মসূচির অনিয়ম শনাক্ত করার পুরস্কারকে একই কর্মসূচি হিসেবে বিবেচনা করা ঠিক হবে না।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী অনিয়মের ঘটনা ঘটতে পারে, তবে দেশজুড়ে ব্যাপক ভোট জালিয়াতি হচ্ছে—এমন দাবির পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ নেই বলে বিভিন্ন নির্বাচনী বিশেষজ্ঞ ও গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে। বিচ্ছিন্ন কিছু ঘটনায় ভোটসংক্রান্ত আইন ভঙ্গের প্রমাণ পাওয়া গেলেও সেগুলোকে সামগ্রিক নির্বাচনী ব্যবস্থায় ব্যাপক জালিয়াতির প্রমাণ হিসেবে ধরা যায় না। ফলে অভিযোগের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করার আগে নিরপেক্ষ তদন্ত ও যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ।
ভোট জালিয়াতির অভিযোগের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ভুল তথ্য বা ব্যক্তিগত বিরোধের কারণে নিরপরাধ ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠতে পারে। তাই কোনো অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে প্রচার করার আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত ও আদালতের সিদ্ধান্তের অপেক্ষা করা জরুরি। ট্রাম্পের ঘোষণায়ও পুরস্কার পাওয়ার শর্ত হিসেবে গ্রেপ্তার ও দণ্ডের কথা বলা হয়েছে।
নির্বাচনের আগে ভোট জালিয়াতির তথ্যদাতাদের জন্য ১০ লাখ ডলারের পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প। তবে ঘোষণাটি কীভাবে কার্যকর হবে এবং অর্থ কোথা থেকে দেওয়া হবে, তা এখনো পরিষ্কার নয়। এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের বিস্তারিত নির্দেশনা প্রকাশিত হলে পুরস্কারের যোগ্যতা ও আবেদনপ্রক্রিয়া সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।

নির্বাচনের আগে ৪০০ ভোটারের ব্যালট না গোনার অনুরোধ ট্রাম্প প্রশাসনের

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানসাসে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনে সমাবেশ করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স

ভেনেজুয়েলায় ভোটের আগে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা বদলের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।