অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভেনেজুয়েলায় ভোটের আগে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা বদলের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও
ভেনেজুয়েলায় অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের আগে নির্বাচনী পরিষদ ও বিচারব্যবস্থা সংস্কারের তাগিদ দিয়েছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, চলছে রাজনৈতিক আলোচনা।
ভেনেজুয়েলায় অবাধ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন অনুষ্ঠানের আগে দেশটির বিদ্যমান নির্বাচনী কাঠামো পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তাঁর অভিযোগ, সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোর সরকারের সময় এমন একটি নির্বাচনী ব্যবস্থা গড়ে উঠেছিল, যা ক্ষমতাসীনদের পক্ষে ফলাফল প্রভাবিত করার সুযোগ তৈরি করে। তাই বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত করতে বিচার বিভাগ ও নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সংস্কার জরুরি বলে মনে করছে ওয়াশিংটন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
রুবিও সাংবাদিকদের সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলার সময় বলেন, ভেনেজুয়েলার অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে চলমান আলোচনায় অগ্রগতি হচ্ছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, এই প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হলে দেশটির রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ ও গণতান্ত্রিক উত্তরণের ক্ষতি হতে পারে। তবে সংস্কারের আলোচনা এগোলেই যে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে, এমন কোনো নিশ্চয়তা তিনি দেননি। এখন পর্যন্ত নির্বাচনের নির্দিষ্ট তারিখও ঘোষণা করা হয়নি।
ভেনেজুয়েলার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দীর্ঘদিন ধরেই বিতর্কিত। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ক্ষমতাসীন শিবির ও বিরোধীদের মধ্যে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল। বিরোধী নেত্রী মারিয়া কোরিনা মাচাদোর সমর্থকেরা তাঁদের প্রকাশিত ভোটের হিসাবের ভিত্তিতে দাবি করেছিলেন, তাঁদের সমর্থিত প্রার্থী এদমুন্দো গনসালেস নির্বাচনে জয়ী হয়েছেন। অন্যদিকে, ক্ষমতাসীন পক্ষের ঘোষিত ফলাফল নিয়ে বিরোধীরা প্রশ্ন তোলেন। এই বিরোধের পর নির্বাচনী প্রতিষ্ঠানগুলোর নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা এবং ভোটের ফল যাচাইয়ের স্বচ্ছতা আন্তর্জাতিক আলোচনার কেন্দ্রে আসে।
চলমান সংস্কার আলোচনার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো দেশটির সর্বোচ্চ বিচারিক প্রতিষ্ঠান এবং নির্বাচন পরিচালনাকারী পরিষদের পুনর্গঠন। যুক্তরাষ্ট্রের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, আলোচনাকারীরা চলতি বছরের শেষ নাগাদ নতুন সর্বোচ্চ বিচারিক পরিষদ গঠন এবং এর পরপরই নতুন নির্বাচন পরিষদ প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অগ্রগতির আশা করছেন। তবে এটি আলোচনায় উঠে আসা সম্ভাব্য সময়সীমা, বাস্তবায়িত সিদ্ধান্ত নয়। সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো কীভাবে গঠিত হবে, তাদের সদস্য নির্বাচনের পদ্ধতি কী হবে এবং তারা কতটা স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারবে, তা এখনো গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।
এই পরিস্থিতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছেন বিরোধী নেত্রী মাচাদো। প্রায় দশ মাস দেশের বাইরে থাকার পর ২৫ অক্টোবর তিনি ভেনেজুয়েলায় ফিরে আসেন। তাঁর প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে বিভিন্ন স্থানে বিপুলসংখ্যক সমর্থক জড়ো হন। তাঁরা তাঁর যাত্রাপথে অভ্যর্থনা জানান এবং অবাধ নির্বাচনের দাবিতে স্লোগান দেন। নোবেল শান্তি পুরস্কারজয়ী এই নেত্রীর দেশে ফেরা বিরোধী রাজনীতিতে নতুন গতি তৈরি করেছে। একই সঙ্গে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতায় তাঁর ভূমিকা কী হবে, তা নিয়েও অনিশ্চয়তা বেড়েছে।
মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের পর যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থানও বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন একদিকে ভেনেজুয়েলায় গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের কথা বলছে, অন্যদিকে অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেসের সরকারের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। রদ্রিগেস আগে মাদুরোর সরকারের গুরুত্বপূর্ণ অংশ ছিলেন। বর্তমানে তাঁর নেতৃত্বাধীন প্রশাসন ও বিরোধী দলের একটি অংশের মধ্যে রাজনৈতিক উত্তরণ নিয়ে আলোচনা চলছে। তবে মাচাদোর রাজনৈতিক সংগঠন ভেনতে ভেনেজুয়েলা এই আলোচনার বাইরে রয়েছে বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ফলে বিরোধী শিবিরের সব অংশকে প্রক্রিয়ায় অন্তর্ভুক্ত করা সম্ভব হবে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়ে গেছে।
মাচাদোর সমর্থকেরা দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানালেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন রাজনৈতিক ও প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনের ওপর জোর দিচ্ছে। ওয়াশিংটনের যুক্তি, কেবল ভোটের তারিখ ঘোষণা করলেই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন নিশ্চিত হয় না। নির্বাচন পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের নিরপেক্ষতা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সুযোগ এবং সংবাদমাধ্যমে প্রবেশাধিকারের মতো বিষয়ও নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে দেশটির অর্থনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। এসব শর্ত পূরণ না হলে নির্বাচনের ফল নিয়ে নতুন করে বিরোধ দেখা দিতে পারে।
ভেনেজুয়েলার ভবিষ্যৎ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক স্বার্থও জড়িত। দেশটির জ্বালানি খাত এবং তেল উৎপাদন নিয়ে ওয়াশিংটন ও কারাকাসের মধ্যে যোগাযোগ চলছে। ট্রাম্প প্রশাসন অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে অর্থনৈতিক সহযোগিতার বিষয়েও আগ্রহ দেখিয়েছে। তবে বিরোধীদের একটি অংশের আশঙ্কা, অর্থনৈতিক সমঝোতাকে অগ্রাধিকার দিতে গিয়ে গণতান্ত্রিক সংস্কার ও দ্রুত নির্বাচনের দাবি পিছিয়ে পড়তে পারে। মাচাদোর প্রত্যাবর্তনের পর এই বিতর্ক আরও স্পষ্ট হয়েছে।
নির্বাচনী সংস্কার সফল করতে হলে শুধু নতুন পরিষদ গঠন করাই যথেষ্ট হবে না। রাজনৈতিক পক্ষগুলোর মধ্যে আস্থা তৈরি, ভোটারদের স্বাধীনভাবে মত প্রকাশের সুযোগ, প্রার্থীদের অংশগ্রহণের অধিকার এবং ভোট গণনার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা দরকার। পাশাপাশি নির্বাচন নিয়ে বিরোধ দেখা দিলে তা নিষ্পত্তির জন্য নিরপেক্ষ ও বিশ্বাসযোগ্য ব্যবস্থাও থাকতে হবে। এসব বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সমঝোতার পূর্ণ বিবরণ প্রকাশিত হয়নি।
রুবিওর বক্তব্য ভেনেজুয়েলায় নির্বাচনের আগে প্রাতিষ্ঠানিক পরিবর্তনকে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে সংস্কার কবে শেষ হবে, মাচাদোর দল আলোচনায় যুক্ত হবে কি না এবং নির্বাচনের সময়সূচি কখন নির্ধারিত হবে এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো অনিশ্চিত। আগামী কয়েক মাসের আলোচনা ও বাস্তব পদক্ষেপই নির্ধারণ করবে দেশটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে এগোচ্ছে, নাকি রাজনৈতিক মতবিরোধ আরও গভীর হচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটারদের নজর এখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে

ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক

ওয়াশিংটনে অ-নাগরিক ভোটারদের তথ্য প্রকাশে সোমবার সংবাদ সম্মেলন করবে মার্কিন প্রশাসন







মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।