ডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন বিতর্কিত স্লোগানে উত্তপ্ত ইসরায়েলের নির্বাচনী লড়াই, কঠিন পরীক্ষায় নেতানিয়াহু!
ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রচারণায় ডানপন্থা ও ফিলিস্তিন প্রশ্ন ঘিরে উত্তেজনা বাড়ছে, কঠিন রাজনৈতিক পরীক্ষার মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
যুদ্ধ, নিরাপত্তা সংকট ও রাজনৈতিক বিতর্কের মধ্যে ইসরায়েলের রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনায় এসেছে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ভবিষ্যৎ। নির্বাচনী প্রচারণায় ডানপন্থী রাজনীতিকে সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা চলছে। অন্যদিকে গাজা যুদ্ধ, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের হামলা এবং সরকারের নিরাপত্তানীতি নিয়ে জনমনে তৈরি হওয়া প্রশ্ন নেতানিয়াহুর রাজনৈতিক অবস্থানকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।
নির্বাচনী প্রচারণার একটি বিলবোর্ডে হিব্রু ভাষায় লেখা রয়েছে, ‘ডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন’। একই বিলবোর্ডে ভোটারদের ভোট দিতে আহ্বান জানানো হয়েছে। স্লোগানটির মাধ্যমে ডানপন্থী রাজনৈতিক অবস্থানকে ফিলিস্তিন প্রশ্নের বিপরীতে দাঁড় করিয়ে ভোটারদের সমর্থন আদায়ের চেষ্টা দেখা যায়।
তবে এই স্লোগানটি কোন দল বা প্রচারগোষ্ঠীর আনুষ্ঠানিক প্রচারণা, তা মূল ছবির সূত্র ও প্রেক্ষাপট যাচাই করে নিশ্চিত করা প্রয়োজন ।
ইসরায়েলের নির্বাচনী রাজনীতিতে ফিলিস্তিন প্রশ্ন, জাতীয় নিরাপত্তা এবং গাজা যুদ্ধের ভবিষ্যৎ বরাবরই গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টি দীর্ঘদিন ধরে ডানপন্থী রাজনীতির প্রতিনিধিত্ব করে আসছে।
নির্বাচনী বিলবোর্ডের স্লোগানটি ইঙ্গিত দেয়, ফিলিস্তিন প্রশ্নকে রাজনৈতিক মেরুকরণের অংশ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে একটি বিলবোর্ডের বক্তব্যকে সব ইসরায়েলি ভোটারের মনোভাব হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের নিরাপত্তাব্যবস্থা ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে ব্যাপক বিতর্ক শুরু হয়। এরপর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নেয়। এতে বিপুলসংখ্যক ফিলিস্তিনি নিহত ও বাস্তুচ্যুত হন এবং গাজায় মানবিক সংকট গভীর হয়।
এই পরিস্থিতিতে নিরাপত্তা ব্যর্থতার জবাবদিহি, জিম্মিদের মুক্তি, যুদ্ধের ভবিষ্যৎ এবং ফিলিস্তিনিদের অধিকার ইসরায়েলের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে।
নেতানিয়াহুর সমালোচকেরা সরকারের নিরাপত্তানীতি ও যুদ্ধ পরিচালনা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। অন্যদিকে তার সমর্থকেরা নিরাপত্তা ও সামরিক অবস্থানকে গুরুত্ব দিয়ে সরকারের পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটে মোট আসন ১২০টি। সরকার গঠনের জন্য সাধারণত অন্তত ৬১ জন আইনপ্রণেতার সমর্থন প্রয়োজন। কোনো দল এককভাবে এই সংখ্যায় পৌঁছাতে না পারলে জোট গঠনের মাধ্যমে সরকার প্রতিষ্ঠা করতে হয়।
ফলে নির্বাচনে কোনো দল বেশি আসন পেলেই সরকার গঠন নিশ্চিত হয়ে যায় না। রাজনৈতিক সমঝোতা, ছোট দলগুলোর সমর্থন এবং জোটের শর্ত চূড়ান্ত ফল নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
ইসরায়েলের নির্বাচনের ফল দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির পাশাপাশি গাজা যুদ্ধ-পরবর্তী পরিস্থিতি, ফিলিস্তিন প্রশ্ন এবং মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক সম্পর্কেও প্রভাব ফেলতে পারে।
তবে নতুন সরকার গঠিত হলেও ফিলিস্তিননীতি বা গাজা পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক পরিবর্তন আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই। নির্বাচনের ফল, জোটের সমীকরণ এবং ভবিষ্যৎ সরকারের নীতির ওপর পরিস্থিতির গতিপথ নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, ইসরায়েলের নির্বাচনী প্রচারণায় ‘ডানপন্থা নাকি ফিলিস্তিন’ স্লোগানটি রাজনৈতিক মেরুকরণের একটি উল্লেখযোগ্য উদাহরণ। কিন্তু নেতানিয়াহুর ক্ষমতার ভবিষ্যৎ নির্ধারিত হবে ভোটের ফল, পার্লামেন্টের আসনসংখ্যা এবং সরকার গঠনের সমীকরণে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।