স্তন ক্যানসারের দীর্ঘ লড়াই শেষে ক্যানসারমুক্ত ভ্যানেসা ট্রাম্প, নতুন আশার বার্তা দিলেন
স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে স্বস্তির খবর জানালেন ভ্যানেসা ট্রাম্প। সর্বশেষ পরীক্ষায় ক্যানসারের লক্ষণ না মেলায় তিনি এখন নতুন আশায় ফিরছেন জীবনে।
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জ্যেষ্ঠ ছেলে ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়রের সাবেক স্ত্রী ভ্যানেসা ট্রাম্প স্তন ক্যানসারের চিকিৎসা শেষে ক্যানসারমুক্ত হওয়ার খবর জানিয়েছেন। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে তাঁর শরীরে এই রোগ শনাক্ত হয়েছিল। প্রায় ছয় মাসের চিকিৎসা ও সুস্থ হয়ে ওঠার দীর্ঘ প্রক্রিয়া শেষে সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফল স্বাভাবিক আসায় তিনি স্বস্তি প্রকাশ করেছেন। গত ২৩ অক্টোবর মেয়ে কাই ট্রাম্পের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিওতে তিনি এই সুখবর জানান। পরবর্তী সময়ে প্রকাশিত সাক্ষাৎকারেও তিনি নিজের চিকিৎসা, শারীরিক অভিজ্ঞতা এবং রোগ শনাক্ত করার গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন।
ভ্যানেসার এই ঘোষণাটি তাঁর পরিবার, অনুসারী এবং স্তন ক্যানসার নিয়ে সচেতনতা তৈরিতে কাজ করা ব্যক্তিদের মধ্যে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিতে পরীক্ষায় ক্যানসারের লক্ষণ না পাওয়া এবং ভবিষ্যতে রোগটি আর কখনো ফিরে আসবে না—এ দুটি এক বিষয় নয়। তাই তাঁর সর্বশেষ পরীক্ষার ফলকে ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখা যথাযথ, পাশাপাশি চিকিৎসকদের নিয়মিত পর্যবেক্ষণও গুরুত্বপূর্ণ।
ভ্যানেসা ৪৮ বছর বয়সে নিজের অসুস্থতার খবর প্রকাশ্যে আনেন। গত ২০ মে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে তিনি জানান, সম্প্রতি তাঁর স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছে এবং চিকিৎসকদের সঙ্গে পরবর্তী চিকিৎসা পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছেন। একই সঙ্গে তিনি জানান, ঘোষণার আগের সপ্তাহেই তাঁর একটি চিকিৎসাপদ্ধতি সম্পন্ন হয়েছিল। পরিবারের সদস্য, সন্তান এবং ঘনিষ্ঠজনদের সমর্থন তাঁকে মানসিকভাবে শক্ত থাকতে সাহায্য করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। সে সময় নিজের স্বাস্থ্য ও সুস্থতার দিকে মনোযোগ দিতে ব্যক্তিগত পরিসর বজায় রাখার অনুরোধ জানিয়েছিলেন ভ্যানেসা।
পরে জুন মাসে তিনি নিজের শারীরিক অবস্থার বিষয়ে আরেকটি হালনাগাদ তথ্য দেন। তখন জানান, অস্ত্রোপচারের পর চার সপ্তাহ ধরে সুস্থ হয়ে ওঠার প্রক্রিয়ায় ছিলেন এবং চিকিৎসার পরবর্তী ধাপ শুরু করার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন। এই সময়ের পর কয়েক মাস তাঁর চিকিৎসার বিস্তারিত প্রকাশ্যে আসেনি। অক্টোবরে মেয়ের সঙ্গে আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি আবারও নিজের অভিজ্ঞতা ভাগ করে নেন।
গত ২৩ অক্টোবর কাই ট্রাম্প তাঁর মায়ের সঙ্গে একটি সংক্ষিপ্ত ভিডিও প্রকাশ করেন। সেখানে কাই জানান, তাঁর মায়ের এপ্রিল মাসে স্তন ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল। এরপর ভ্যানেসা বলেন, তাঁর সাম্প্রতিক পরীক্ষার ফল পরিষ্কার এসেছে এবং তিনি এখন ক্যানসারমুক্ত। মায়ের মুখে এই খবর শোনার পর কাই তাঁকে জড়িয়ে ধরেন। ভিডিওটি শুধু ব্যক্তিগত সুখবর জানানোর জন্য নয়, বরং স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর উদ্দেশ্যেও প্রকাশ করা হয়েছিল।
পরবর্তী সাক্ষাৎকারে ভ্যানেসা অসুস্থতার শুরুর দিকের কিছু অভিজ্ঞতাও তুলে ধরেছেন। পেজ সিক্সের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, রোগ শনাক্ত হওয়ার আগের প্রায় ছয় মাস তিনি অস্বাভাবিক ক্লান্তিতে ভুগছিলেন। এমনকি সাধারণ দৈনন্দিন কাজের সময়ও তাঁর শরীর অত্যন্ত ক্লান্ত হয়ে পড়ত। তিনি জানান, মায়েদের দৈনন্দিন ব্যস্ততার কারণে অনেক সময় এ ধরনের ক্লান্তিকে স্বাভাবিক বলে মনে হতে পারে। কিন্তু তাঁর ক্ষেত্রে এটি অসুস্থতার প্রাথমিক লক্ষণগুলোর একটি ছিল বলে তিনি পরে উপলব্ধি করেন।
প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে বলা হয়েছে, ভ্যানেসার স্তনে আক্রমণাত্মক ধরনের ক্যানসার শনাক্ত হয়েছিল। চিকিৎসার অংশ হিসেবে তাঁর অস্ত্রোপচার করা হয় এবং পরে বিকিরণ চিকিৎসা দেওয়া হয়। তবে তাঁর রোগের পূর্ণাঙ্গ চিকিৎসা নথি প্রকাশ্যে নেই। ফলে রোগের সব বৈশিষ্ট্য, চিকিৎসার প্রতিটি ধাপ কিংবা ভবিষ্যৎ ঝুঁকি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার সুযোগ সীমিত।
সাম্প্রতিক পরীক্ষায় ক্যানসারের লক্ষণ না পাওয়া তাঁর সুস্থতার পথে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি। তবে চিকিৎসকেরা সাধারণত রোগের ধরন, পর্যায়, অস্ত্রোপচারের ফল এবং অন্যান্য চিকিৎসাগত বিষয় বিবেচনা করে পরবর্তী পর্যবেক্ষণের পরিকল্পনা নির্ধারণ করেন। ভ্যানেসার ক্ষেত্রেও নিয়মিত পরীক্ষা ও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ থাকবে।
ভ্যানেসা ট্রাম্প ও ডোনাল্ড ট্রাম্প জুনিয়র ২০০৫ সালে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। ২০১৮ সালে তাঁদের বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের পাঁচ সন্তান রয়েছে। তাঁদের বড় মেয়ে কাই ট্রাম্প মায়ের চিকিৎসার অভিজ্ঞতা প্রকাশ্যে তুলে ধরতে সহায়তা করেছেন। কাইয়ের সঙ্গে চিকিৎসক নিকোল স্যাফিয়েরও আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। ওই আলোচনার মূল বিষয় ছিল স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা, আগেভাগে রোগ শনাক্ত করা এবং স্বাস্থ্য পরীক্ষা নিয়ে মানুষের আগ্রহ বাড়ানো।
স্তন ক্যানসার সম্পর্কে সচেতনতা বাড়ানোর ক্ষেত্রে ভ্যানেসার অভিজ্ঞতা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তাঁর অভিজ্ঞতা থেকে সবার রোগের লক্ষণ বা চিকিৎসার ফল একই হবে এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া ঠিক নয়। স্তনে নতুন গাঁট, আকার বা ত্বকে অস্বাভাবিক পরিবর্তন, স্তনবৃন্ত থেকে অস্বাভাবিক নিঃসরণ কিংবা দীর্ঘস্থায়ী উদ্বেগজনক উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। উপসর্গ না থাকলেও ব্যক্তির বয়স, পারিবারিক ইতিহাস ও অন্যান্য ঝুঁকি অনুযায়ী উপযুক্ত পরীক্ষা সম্পর্কে চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা দরকার।
ভ্যানেসা ট্রাম্পের ক্যানসারমুক্ত হওয়ার ঘোষণা তাঁর ও পরিবারের জন্য আশাব্যঞ্জক সংবাদ। তাঁর অভিজ্ঞতা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দেয়, স্বাস্থ্য নিয়ে সচেতন থাকা, অস্বাভাবিক পরিবর্তন অবহেলা না করা এবং চিকিৎসার পর নিয়মিত পর্যবেক্ষণে থাকা কতটা গুরুত্বপূর্ণ। তাঁর সর্বশেষ পরীক্ষার ফল ইতিবাচক হলেও ভবিষ্যৎ স্বাস্থ্য সম্পর্কে নিশ্চিত থাকতে চিকিৎসকদের নির্দেশনা অনুসরণ করাই হবে পরবর্তী গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।