মিথ্যা তথ্যের প্রমাণ মিললে মেলানিয়া ও মাস্কের নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে রিপাবলিকান নেতা ফাইন
নাগরিকত্বের আবেদনে অসততার প্রমাণ মিললে সবার ক্ষেত্রে একই আইন প্রয়োগের পক্ষে বক্তব্য দিয়েছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা র্যান্ডি ফাইন এক সাক্ষাৎকারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনসংক্রান্ত নথি যাচাই এবং নাগরিকত্ব বাতিলের ক্ষমতা নিয়ে নতুন রাজনৈতিক বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্ব অর্জনের আবেদনে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিল ও তাঁকে বহিষ্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন ফ্লোরিডার রিপাবলিকান আইনপ্রণেতা র্যান্ডি ফাইন। এ প্রসঙ্গে তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের স্ত্রী মেলানিয়া ট্রাম্প এবং ধনকুবের ইলন মাস্কের নামও আলোচনায় এনেছেন। তবে তাঁদের বিরুদ্ধে অভিবাসনসংক্রান্ত প্রতারণার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে, এমন কোনো তথ্য তিনি উপস্থাপন করেননি।
যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম মিডিয়াইটের ২৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সংবাদমাধ্যম নিউজ নেশনের উপস্থাপক নিকোল বার্লির সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ফাইন এ বক্তব্য দেন। পরদিনও বিষয়টি নিয়ে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা অব্যাহত থাকে। সাক্ষাৎকারে মূলত ডেমোক্র্যাট আইনপ্রণেতা ইলহান ওমরের নাগরিকত্বের নথি নিয়ে তদন্তের প্রসঙ্গ উঠে আসে। সেই আলোচনার ধারাবাহিকতায় অন্য বিদেশে জন্মগ্রহণকারী মার্কিন নাগরিকদের ক্ষেত্রেও একই ধরনের যাচাই হওয়া উচিত কি না, তা জানতে চান উপস্থাপক।
ফাইন বলেন, ১৯৯০ সাল থেকে যাঁরা স্বাভাবিকীকরণ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, তাঁদের নথিপত্র পুনরায় যাচাই করা উচিত বলে তিনি মনে করেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যে নাগরিকত্ব অর্জনের সময় যথাযথ তথ্য না দেওয়ার যেসব অভিযোগ সামনে এসেছে, সেগুলো তদন্ত করা প্রয়োজন। তিনি ইলহান ওমরকে প্রথমে যাচাইয়ের আওতায় আনার পক্ষে মত দেন এবং বলেন, বিষয়টি কেবল একজন ব্যক্তির মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।
সাক্ষাৎকারের পরবর্তী অংশে উপস্থাপক জানতে চান, এই যাচাইয়ের আওতায় মেলানিয়া ট্রাম্প ও ইলন মাস্ককেও অন্তর্ভুক্ত করা হবে কি না। জবাবে ফাইন বলেন, অভিবাসনসংক্রান্ত নথিতে অসততার প্রমাণ পাওয়া গেলে সবার ক্ষেত্রেই একই নীতি প্রয়োগ করা উচিত। তবে তিনি একই সঙ্গে জানান, মেলানিয়া ট্রাম্প বা ইলন মাস্কের ব্যক্তিগত অভিবাসন পরিস্থিতি সম্পর্কে তাঁর কোনো নির্দিষ্ট তথ্য নেই। তাঁদের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ রয়েছে কি না, তা সম্পর্কেও তিনি অবগত নন বলে উল্লেখ করেন।
এই বক্তব্যের সঠিক অর্থ বোঝা গুরুত্বপূর্ণ। ফাইন নীতিগতভাবে নাগরিকত্বের নথি যাচাইয়ের পক্ষে অবস্থান জানিয়েছেন। কিন্তু তিনি মেলানিয়া ট্রাম্প কিংবা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে বলে দাবি করেননি। তাঁদের নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো সরকারি সিদ্ধান্ত বা আদালতের আদেশের কথাও আলোচিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি। ফলে তাঁদের বিরুদ্ধে প্রতারণা প্রমাণিত হয়েছে কিংবা তাঁদের বহিষ্কারের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে এমনভাবে সংবাদটি উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর হবে।
মেলানিয়া ট্রাম্প স্লোভেনিয়ায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরবর্তী সময়ে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেন। তিনি ২০০১ সালে বিশেষ যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের জন্য নির্ধারিত অভিবাসন শ্রেণির আওতায় প্রবেশের অনুমতি পান এবং ২০০৬ সালে মার্কিন নাগরিকত্ব অর্জন করেন। তাঁর অভিবাসন ইতিহাস নিয়ে অতীতে সংবাদমাধ্যমে আলোচনা হয়েছে। তবে এসব আলোচনা থেকে তাঁর নাগরিকত্ব অর্জনের সময় ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
ইলন মাস্ক দক্ষিণ আফ্রিকায় জন্মগ্রহণ করেন এবং পরে যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা ও ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত হন। তাঁর প্রাথমিক অভিবাসন পরিস্থিতি ও কাজের অনুমতি নিয়ে অতীতে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। কিন্তু অতীতের কোনো অভিবাসনসংক্রান্ত বিতর্ক নিজে থেকেই নাগরিকত্ব অর্জনের সময় প্রতারণার প্রমাণ হয়ে যায় না। তাঁর নাগরিকত্ব বাতিলের কোনো নিশ্চিত আদালতের সিদ্ধান্ত এই আলোচনার সূত্রগুলোতে পাওয়া যায়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের আইনে স্বাভাবিকীকরণের মাধ্যমে অর্জিত নাগরিকত্ব বাতিল করা সম্ভব, তবে এর জন্য নির্দিষ্ট আইনগত ভিত্তি ও যথাযথ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। নাগরিকত্ব বেআইনিভাবে অর্জিত হলে অথবা গুরুত্বপূর্ণ তথ্য গোপন কিংবা ইচ্ছাকৃতভাবে মিথ্যা তথ্য দেওয়ার কারণে নাগরিকত্ব পাওয়া হয়ে থাকলে সরকার আদালতের মাধ্যমে তা বাতিলের উদ্যোগ নিতে পারে। কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য, সন্দেহ কিংবা তদন্তের খবরের ভিত্তিতে কারও নাগরিকত্ব বাতিল করা যায় না। নাগরিকত্ব বাতিল এবং দেশ থেকে বহিষ্কারও পৃথক আইনগত পদক্ষেপ।
যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগ ২১ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, দুটি পৃথক মামলায় আদালত দুই ব্যক্তির নাগরিকত্ব বাতিলের আদেশ দিয়েছেন। তাঁদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্ব পাওয়ার আগে অপরাধসংক্রান্ত তথ্য গোপন করার বিষয়টি আদালতের প্রক্রিয়ায় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এসব ঘটনা নাগরিকত্ব বাতিলের আইনি ব্যবস্থার বাস্তব উদাহরণ হলেও মেলানিয়া ট্রাম্প বা ইলন মাস্কের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার প্রমাণ নয়।
অন্যদিকে, ইলহান ওমরকে ঘিরে অভিবাসনসংক্রান্ত অভিযোগ ও তদন্তের বিষয়টিও রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে। তবে তদন্ত চলা মানেই অপরাধ প্রমাণিত হওয়া নয়। অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বক্তব্য এবং আইনগত প্রক্রিয়া গুরুত্বপূর্ণ। রাজনৈতিক পরিচয়ের ভিত্তিতে কাউকে অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করাও যথাযথ নয়।
র্যান্ডি ফাইনের বক্তব্যের মূল বিষয় হলো ১৯৯০ সাল থেকে নাগরিকত্ব অর্জনকারীদের নথি পুনরায় যাচাই করার প্রস্তাব এবং প্রতারণা প্রমাণিত হলে নাগরিকত্ব বাতিলের পক্ষে তাঁর অবস্থান। মেলানিয়া ট্রাম্প ও ইলন মাস্কের নাম এসেছে সাক্ষাৎকারে উপস্থাপকের প্রশ্নের পরিপ্রেক্ষিতে। তাঁদের বিরুদ্ধে নাগরিকত্বসংক্রান্ত প্রতারণা প্রমাণিত হয়েছে এমন তথ্য নেই। তাই ঘটনাটিকে রাজনৈতিক বক্তব্য ও নাগরিকত্ব যাচাইয়ের বিতর্ক হিসেবে উপস্থাপন করাই তথ্যনিষ্ঠ সাংবাদিকতার জন্য উপযুক্ত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।