সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরান সংঘাতে তেলের বাজার অস্থির, মূল্যস্ফীতির চাপে নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের অর্থনীতিগ্যাসসংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা, কৃষি খাতে সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কাহোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ওবামার সমালোচনা, ট্রাম্পের জবাবে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কআদালতের নিষেধাজ্ঞায় ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক গলফ কোর্স সংস্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা থমকে গেলনিউইয়র্ক অ্যাকুরিয়ামের সংস্কারে দুই মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার

গ্যাসসংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা, কৃষি খাতে সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

গ্যাসের অভাবে আবারও বন্ধ জামালপুরের যমুনা সার কারখানা। উৎপাদন ব্যাহত হওয়ায় কৃষকদের জন্য ইউরিয়া সারের সরবরাহ ও আসন্ন বোরো মৌসুম নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ।

গ্যাসসংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা, কৃষি খাতে সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা
গ্যাসসংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা, কৃষি খাতে সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কা

জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে অবস্থিত যমুনা সার কারখানায় আবারও ইউরিয়া সার উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। প্রয়োজনীয় গ্যাস সরবরাহ না থাকায় গত ২৫ অক্টোবর, রোববার ভোর পাঁচটার দিকে কারখানাটির উৎপাদন কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায়। এর মাত্র দুই দিন আগে, ২৩ অক্টোবর সকালে বয়লারের ত্রুটি মেরামত শেষে কারখানাটিতে উৎপাদন পুনরায় শুরু হয়েছিল। ফলে দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর চালু হওয়া রাষ্ট্রায়ত্ত এই শিল্পপ্রতিষ্ঠানের উৎপাদন আবারও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

২৬ অক্টোবর প্রকাশিত ঢাকা ট্রিবিউনের প্রতিবেদন এবং ২৫ অক্টোবর প্রকাশিত বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সংবাদে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি উঠে এসেছে। কারখানার উৎপাদন বিভাগের কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, নিরবচ্ছিন্নভাবে ইউরিয়া উৎপাদন চালিয়ে যেতে প্রয়োজনীয় গ্যাসের চাপ নিশ্চিত করা জরুরি। সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত উৎপাদন পুনরায় চালু করা কঠিন।

কারখানাটি বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের অধীন একটি গুরুত্বপূর্ণ সার উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার তারাকান্দিতে অবস্থিত এই কারখানার দৈনিক ইউরিয়া উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় এক হাজার সাতশ মেট্রিক টন। অনুকূল পরিচালন পরিস্থিতিতে দৈনিক প্রায় এক হাজার চারশ থেকে এক হাজার পাঁচশ মেট্রিক টন সার উৎপাদন করা সম্ভব বলে সংবাদ প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

কারখানাটির উৎপাদন বন্ধ হওয়ার ঘটনা এবারই প্রথম নয়। গ্যাসের সংকট ও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে গত কয়েক বছর ধরে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম বারবার ব্যাহত হচ্ছে। চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে গ্যাসের অভাবে উৎপাদন বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর দীর্ঘ বিরতি পেরিয়ে সেপ্টেম্বর মাসে কারখানাটিতে আবার গ্যাস সরবরাহ শুরু হয়। তবে সরবরাহ চালু হলেও প্রয়োজনীয় চাপের অভাবে উৎপাদন স্বাভাবিক করতে সময় লাগে।

পরবর্তী সময়ে অক্টোবরের শুরুতে কারখানাটি ইউরিয়া উৎপাদনে ফিরলেও বয়লারে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ৮ অক্টোবর উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। প্রায় পনেরো দিনের বিরতি ও মেরামতকাজ শেষে ২৩ অক্টোবর সকালে উৎপাদন আবার শুরু হয়। কিন্তু গ্যাস সরবরাহের ঘাটতির কারণে দুই দিনের মধ্যেই উৎপাদন বন্ধ হয়ে যায়। এই ধারাবাহিকতা কারখানাটির স্থিতিশীল উৎপাদন নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে বড় চ্যালেঞ্জের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

কারখানার অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী মো. ফজলুল হকের বক্তব্য উদ্ধৃত করে সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, নিরবচ্ছিন্ন উৎপাদনের জন্য প্রতিদিন প্রায় চার কোটি বিশ লাখ থেকে চার কোটি ত্রিশ লাখ ঘনফুট গ্যাস প্রয়োজন। গ্যাসের পর্যাপ্ত চাপ না থাকলে উৎপাদন চালু রাখা সম্ভব হয় না। গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক হলে পুনরায় উৎপাদন শুরু করা যেতে পারে বলেও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

উৎপাদন বন্ধ থাকায় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে কৃষকদের কাছে ইউরিয়া সার সরবরাহের ধারাবাহিকতা। সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, যমুনা সার কারখানার উৎপাদিত সার বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের তালিকাভুক্ত প্রায় এক হাজার নয়শ পরিবেশকের মাধ্যমে জামালপুর, শেরপুর, ময়মনসিংহ, টাঙ্গাইলসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হয়। একটি বড় উৎপাদনকেন্দ্র দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের সার বিতরণ ব্যবস্থায় চাপ তৈরি হতে পারে।

তবে উৎপাদন বন্ধ হওয়ার কারণে ইতিমধ্যে সারসংকট দেখা দিয়েছে কিংবা কৃষকেরা নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত স্বতন্ত্র তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি। প্রকৃত প্রভাব নির্ভর করবে সরকারি গুদামে থাকা সারের মজুত, অন্যান্য কারখানার উৎপাদন, আমদানি এবং পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহ পরিস্থিতির ওপর। তাই উৎপাদন বন্ধের খবরের পাশাপাশি মাঠপর্যায়ের মজুত ও বিতরণ পরিস্থিতি যাচাই করাও জরুরি।

আসন্ন বোরো মৌসুমের প্রস্তুতির সময় ইউরিয়া সারের চাহিদা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। ধানসহ বিভিন্ন ফসলের বৃদ্ধি ও ফলন নিশ্চিত করতে কৃষকেরা সঠিক সময়ে প্রয়োজন অনুযায়ী সার ব্যবহার করেন। এ সময়ে সরবরাহে দীর্ঘস্থায়ী ঘাটতি দেখা দিলে কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয়, সার সংগ্রহে ভোগান্তি কিংবা বাজারে মূল্যচাপের আশঙ্কা তৈরি হতে পারে। তবে যমুনা কারখানা বন্ধ থাকলেই এসব সমস্যা নিশ্চিতভাবে ঘটবে, এমন দাবি করার সুযোগ নেই।

কারখানাটি বন্ধ থাকলেও পরিচালন ও রক্ষণাবেক্ষণসংক্রান্ত ব্যয় বহনের বিষয়টি অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের ২৫ অক্টোবরের প্রতিবেদনে কারখানা কর্তৃপক্ষের তথ্যের ভিত্তিতে বলা হয়েছে, স্বাভাবিক গ্যাস সরবরাহে সচল থাকলে মাসে প্রায় দুইশ কোটি টাকার সার উৎপাদন করা সম্ভব এবং সংশ্লিষ্ট হিসাবে প্রায় ষাট কোটি টাকা মুনাফার সম্ভাবনা থাকে। উৎপাদন বন্ধ থাকা অবস্থায় শুধু গ্যাস বিল বাবদ মাসে প্রায় ছয় কোটি টাকা ব্যয়ের কথাও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব পরিমাণ সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট সূত্রের হিসাব; নিরীক্ষিত আর্থিক বিবরণী দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

বর্তমান পরিস্থিতিতে কারখানাটির উৎপাদন স্বাভাবিক করতে গ্যাস সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর সঙ্গে সমন্বয়, প্রয়োজনীয় চাপ নিশ্চিত করা এবং যন্ত্রপাতির নির্ভরযোগ্যতা বজায় রাখা জরুরি। একই সঙ্গে সরকারি কর্তৃপক্ষের উচিত সার মজুতের তথ্য প্রকাশ, পরিবেশক পর্যায়ে সরবরাহ পর্যবেক্ষণ এবং প্রয়োজনে বিকল্প উৎস থেকে সার সরবরাহের প্রস্তুতি রাখা। এতে কোনো একটি কারখানার উৎপাদন বন্ধ থাকলেও কৃষকদের ওপর সম্ভাব্য প্রভাব সীমিত রাখা সম্ভব হতে পারে।

যমুনা সার কারখানার উৎপাদন বন্ধ হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে একাধিক সংবাদ প্রতিবেদন। তবে কারখানাটি কবে পুনরায় চালু হবে, কত দিন উৎপাদন বন্ধ থাকবে এবং এই বিরতিতে সার সরবরাহে প্রকৃত ঘাটতি তৈরি হবে কি না এসব বিষয়ে নির্ভরযোগ্য নতুন ঘোষণা বা পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়নি। গ্যাস সরবরাহের স্থায়ী সমাধান এবং উৎপাদন পরিস্থিতির নিয়মিত হালনাগাদই এখন সংশ্লিষ্ট কৃষক, পরিবেশক ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।


ট্যাগ: যমুনা সার কারখানাগ্যাস সংকটসার উৎপাদনজামালপুরকৃষিইউরিয়া সারসার সরবরাহবাংলাদেশ সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।