সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
ইরান সংঘাতে তেলের বাজার অস্থির, মূল্যস্ফীতির চাপে নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের অর্থনীতিগ্যাসসংকটে ফের বন্ধ যমুনা সার কারখানা, কৃষি খাতে সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে শঙ্কাহোয়াইট হাউস সংস্কার নিয়ে ওবামার সমালোচনা, ট্রাম্পের জবাবে নতুন করে তীব্র রাজনৈতিক বিতর্কআদালতের নিষেধাজ্ঞায় ওয়াশিংটনের ঐতিহাসিক গলফ কোর্স সংস্কারে ট্রাম্প প্রশাসনের পরিকল্পনা থমকে গেলনিউইয়র্ক অ্যাকুরিয়ামের সংস্কারে দুই মিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ, সামুদ্রিক প্রাণী সংরক্ষণে নতুন আশার সঞ্চার

ইরান সংঘাতে তেলের বাজার অস্থির, মূল্যস্ফীতির চাপে নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের অর্থনীতি

ইরান সংঘাতের প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানির অস্থিরতা অব্যাহত, তেলের দাম কমলেও মূল্যস্ফীতি ও আসন্ন নির্বাচন নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে যুক্তরাষ্ট্রে।

ইরান সংঘাতে তেলের বাজার অস্থির, মূল্যস্ফীতির চাপে নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের অর্থনীতি
ইরান সংঘাতে তেলের বাজার অস্থির, মূল্যস্ফীতির চাপে নির্বাচনের মুখে ট্রাম্পের অর্থনীতি

মধ্যপ্রাচ্যে ইরানকে ঘিরে চলমান সংঘাত এবং জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে অনিশ্চয়তার কারণে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের অর্থনীতিতে নতুন চাপ তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম সামান্য কমলেও পরিস্থিতি এখনো স্বাভাবিক হয়নি। জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা, গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে বাণিজ্যিক জাহাজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ এবং সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি তেলের বাজারকে অস্থির করে রেখেছে। একই সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে জ্বালানির মূল্য সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় ও রাজনৈতিক বিতর্কের গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।

বার্তা সংস্থা রয়টার্সের ২৭ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, এশিয়ার বাজারে লেনদেনের সময় ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের ভবিষ্যৎ সরবরাহের চুক্তিমূল্য ব্যারেলপ্রতি ১১৪ দশমিক ৮১ ডলারে নেমে আসে। আগের দিনের তুলনায় এই দর প্রায় শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কম ছিল। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট অপরিশোধিত তেলের দরও প্রায় শূন্য দশমিক ৮৬ শতাংশ কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ দশমিক ৮৮ ডলারে দাঁড়ায়। এর আগে ব্রেন্ট তেলের দর গত সপ্তাহে ১১৭ ডলারের ওপরে উঠে গত এপ্রিলের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছিল। ফলে সাম্প্রতিক দরপতনকে বাজারের স্থায়ী স্বস্তি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

তেলের দাম কমার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে কূটনৈতিক তৎপরতা বৃদ্ধির বিষয়টি উঠে এসেছে। ইরান, সৌদি আরব, তুরস্ক ও পাকিস্তানের প্রতিনিধিরা সোমবার তেহরানে বৈঠক করেন। আঞ্চলিক নিরাপত্তা জোরদার, উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে দেশগুলো সম্মত হয়েছে বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়। সংঘাতের বিস্তার ঠেকাতে আলোচনার সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় ব্যবসায়ীরা জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে তাৎক্ষণিক উদ্বেগ কিছুটা কমিয়ে দেখেছেন। পাশাপাশি আগের সপ্তাহে তেলের দর দ্রুত বেড়ে যাওয়ার পর কিছু বিনিয়োগকারী মুনাফা তুলে নেওয়ায় দাম কমার প্রবণতা তৈরি হয়েছে। তবে কূটনৈতিক আলোচনা চললেও সংঘাতের স্থায়ী সমাধান হয়েছে এমন কোনো নিশ্চিত তথ্য নেই।

বাজারের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে হরমুজ প্রণালি। পারস্য উপসাগর থেকে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি পরিবহনের জন্য এই সমুদ্রপথ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যুদ্ধের আগে বিশ্বের মোট জ্বালানি সরবরাহের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ এই প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। বর্তমান সংঘাতের কারণে এখানে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হয়েছে। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রণালিটি দিয়ে তেল পরিবহনের প্রবাহ স্বাভাবিক মাত্রার প্রায় ৬০ শতাংশে নেমে এসেছে। উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে অপরিশোধিত তেল রপ্তানিও টানা চার সপ্তাহ কমেছে বলে গবেষণা সংস্থা এএনজেডের তথ্য উদ্ধৃত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের সরবরাহ ও পরিবহন ব্যয়ের ওপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব পড়তে পারে।

সৌদি আরবকে ঘিরে নিরাপত্তা পরিস্থিতিও তেলের বাজারে অনিশ্চয়তা বাড়াচ্ছে। ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠী সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি করেছে। সৌদি কর্তৃপক্ষও ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান প্রতিহত করার কথা জানিয়েছে। তবে হুতিদের কয়েকটি হামলার দাবি সম্পর্কে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সৌদি আরবের জ্বালানি অবকাঠামো কিংবা তেল পরিবহনের বিকল্প পথ ক্ষতিগ্রস্ত হলে সরবরাহ আরও ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর হামলার ঝুঁকি বেড়ে গেলে জাহাজমালিকদের নিরাপত্তা ব্যয় ও বীমার খরচ বাড়তে পারে। এতে তেল উৎপাদন স্বাভাবিক থাকলেও ক্রেতাদের কাছে জ্বালানি পৌঁছানোর মোট ব্যয় বেড়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিতে এই পরিস্থিতির প্রভাব বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। অপরিশোধিত তেল পেট্রল, ডিজেলসহ বিভিন্ন জ্বালানির প্রধান কাঁচামাল। আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বাড়লে সাধারণত জ্বালানি উৎপাদন ও পরিবহনের ব্যয় বেড়ে যায়। এর প্রভাব পড়তে পারে পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ, খাদ্য উৎপাদন, শিল্পকারখানা এবং দৈনন্দিন যাতায়াতের ওপর। ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়তে পারে। যদিও অপরিশোধিত তেলের দাম কমলেই খুচরা জ্বালানির দাম সঙ্গে সঙ্গে কমে যায় না। পরিশোধন, মজুত, পরিবহন এবং স্থানীয় বাজারের প্রতিযোগিতাসহ একাধিক বিষয় চূড়ান্ত মূল্য নির্ধারণে ভূমিকা রাখে।

যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে জ্বালানির উচ্চমূল্যের চাপ ইতিমধ্যে রাজনৈতিক আলোচনায় গুরুত্ব পেয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের মোটরচালক সমিতির উপাত্ত উদ্ধৃত করে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে নিয়মিত পেট্রলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৪৭২ ডলারে পৌঁছেছে। সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের মেয়াদে এই গড় ছিল ৩ দশমিক ৪৭১ ডলার। ব্যবধান সামান্য হলেও ডিজেলের ক্ষেত্রে চাপ বেশি। ট্রাম্পের মেয়াদে ডিজেলের গড় দাম গ্যালনপ্রতি ৪ দশমিক ৩৪৩ ডলার, যেখানে বাইডেনের মেয়াদে ছিল ৪ দশমিক ০৭৮ ডলার। এই তুলনা থেকেই বোঝা যায়, জ্বালানির ব্যয় নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক কতটা তীব্র হয়ে উঠেছে। তবে দুই মেয়াদের মূল্য তুলনা করতে মুদ্রাস্ফীতি এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক পার্থক্যও বিবেচনা করা জরুরি।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম ভোটারদের অর্থনৈতিক উদ্বেগের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক হয়ে উঠেছে। উচ্চ জ্বালানি ব্যয় নিয়ে অসন্তোষ ক্ষমতাসীন দলের নির্বাচনী সম্ভাবনাকে প্রভাবিত করতে পারে। বিশেষত যেসব পরিবার প্রতিদিন গাড়ি ব্যবহার করে এবং যেসব পেশায় ডিজেলনির্ভর পরিবহন অপরিহার্য, তাদের ওপর ব্যয়ের চাপ বেশি পড়তে পারে। তবে জ্বালানির দাম একাই নির্বাচনের ফল নির্ধারণ করবে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো তথ্য নেই। মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, আয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারের সামগ্রিক কার্যক্রমও ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখবে।

আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থার প্রধান ফাতিহ বিরোলও জ্বালানি বাজারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বলে রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ রয়েছে। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, ২০২৭ সালেও জ্বালানি বাজার সংঘাত শুরুর আগের অবস্থায় পুরোপুরি ফিরে আসবে এমন নিশ্চয়তা নেই। এর অর্থ এই নয় যে দাম অবধারিতভাবে বাড়বে; বরং সরবরাহ, পরিবহন ও নিরাপত্তার পরিস্থিতি স্বাভাবিক হতে সময় লাগতে পারে। জাহাজ চলাচলের ঝুঁকি, সীমিত মজুত এবং পরিশোধন খাতে বিঘ্ন বাজারকে দীর্ঘ সময় অস্থির রাখতে পারে।

২৭ অক্টোবরের তেলের দরপতন আন্তর্জাতিক বাজারে সাময়িক স্বস্তির ইঙ্গিত দিলেও সংকটের অবসান নির্দেশ করে না। তেলের দাম কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে মধ্যপ্রাচ্যের কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয়, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল স্বাভাবিক হয় কি না এবং জ্বালানি অবকাঠামোর নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত করা যায় তার ওপর। যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষেত্রে এই পরিস্থিতি অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি নির্বাচনী রাজনীতিতেও প্রভাব ফেলছে। তাই আগামী দিনগুলোতে তেলের দামের দৈনিক ওঠানামার পাশাপাশি সরবরাহের বাস্তব অবস্থা, পরিবহন ব্যয় এবং সংঘাত প্রশমনের অগ্রগতি পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।


ট্যাগ: ইরান সংঘাতজ্বালানি সংকটতেলের দামমার্কিন অর্থনীতিমধ্যপ্রাচ্যবিশ্ববাজারমূল্যস্ফীতিমধ্যবর্তী নির্বাচনজ্বালানি সরবরাহআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।