গাজা শান্তিচুক্তিতে ট্রাম্পের স্বাক্ষরের দাবি, নতুন চুক্তির সত্যতা নিয়ে বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহলে প্রশ্ন
গাজা শান্তি উদ্যোগে ট্রাম্পের স্বাক্ষর সত্য, তবে পুরোনো চুক্তির ঘটনাকে নতুন ঘোষণা হিসেবে প্রচারের সত্যতা নিয়ে উঠেছে প্রশ্ন।
গাজা যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শান্তি উদ্যোগ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। ছড়িয়ে পড়া একটি পোস্টে দাবি করা হয়েছে, ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা আনুষ্ঠানিকভাবে গাজা শান্তিচুক্তিতে স্বাক্ষর করেছেন এবং এর মাধ্যমে ট্রাম্প ইতিহাসে শান্তিপ্রতিষ্ঠাকারী নেতা হিসেবে স্থান করে নিয়েছেন। তবে দাবিটির তথ্য যাচাই করে দেখা গেছে, গাজা নিয়ে শান্তি ঘোষণা স্বাক্ষরের ঘটনা সত্য হলেও, সেটিকে নতুন কোনো স্বাক্ষর অনুষ্ঠান হিসেবে প্রচার করার পক্ষে নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মিসর সরকারের সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৩ অক্টোবর মিসরের শারম আল-শেখ শহরে গাজা শান্তি সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়। ওই সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসি, তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়েপ এরদোয়ান এবং কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানি গাজা নিয়ে একটি শান্তি ঘোষণায় স্বাক্ষর করেন। ঘোষণাটিতে ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগকে সমর্থন জানানো হয়। বিষয়টি মিসরের সরকারি সূত্র এবং আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছিল।
অর্থাৎ, ট্রাম্প ও মধ্যপ্রাচ্যের নেতাদের গাজা শান্তি উদ্যোগে স্বাক্ষরের দাবির একটি বাস্তব ভিত্তি রয়েছে। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে যদি বোঝানো হয়ে থাকে যে ২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর নতুন করে একটি চূড়ান্ত শান্তিচুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, তাহলে সেই দাবির পক্ষে আলাদা প্রমাণ প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া সূত্রে ওই তারিখে নতুন কোনো স্বাক্ষর অনুষ্ঠানের নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
এ ছাড়া ২০২৬ সালের ২২ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ট্রাম্প তাঁর প্রস্তাবিত শান্তি পরিষদের সনদে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাক্ষর করেন। হোয়াইট হাউসের প্রকাশিত বিবরণে বলা হয়, পরিষদটি গাজার নিরাপত্তা, প্রশাসনিক রূপান্তর, নিরস্ত্রীকরণ এবং পুনর্গঠনের পরবর্তী পর্যায় বাস্তবায়নে সহায়তা করার উদ্দেশ্যে গঠিত হয়েছে। বিভিন্ন দেশের প্রতিষ্ঠাতা প্রতিনিধিরাও ওই অনুষ্ঠানে অংশ নেন। তবে শান্তি পরিষদের সনদে স্বাক্ষর করা এবং ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে সব বিরোধ নিষ্পত্তি করে নতুন একটি পূর্ণাঙ্গ চুক্তি স্বাক্ষর করা এক বিষয় নয়।
গাজা শান্তি উদ্যোগের গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো যুদ্ধবিরতি কার্যকর রাখা, জিম্মিদের মুক্তি, ফিলিস্তিনি বন্দিদের মুক্তি, মানবিক সহায়তা পৌঁছানো এবং ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহারের বিষয়ে সমঝোতা বাস্তবায়ন। দীর্ঘ সংঘাতে গাজার ঘরবাড়ি, হাসপাতাল, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও অন্যান্য অবকাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পাশাপাশি মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং পুনর্গঠন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়াও অত্যন্ত জরুরি।
ট্রাম্প প্রশাসন শান্তি উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক সাফল্য হিসেবে তুলে ধরেছে। তবে কোনো রাজনৈতিক নেতার উদ্যোগকে স্থায়ী শান্তির সাফল্য হিসেবে মূল্যায়ন করতে হলে ঘোষণার পাশাপাশি বাস্তব পরিস্থিতিও বিবেচনা করতে হয়। যুদ্ধবিরতি কতটা কার্যকর, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা কতটা নিশ্চিত এবং পুনর্গঠনের কাজ কতদূর এগিয়েছে এসব প্রশ্নের উত্তর গুরুত্বপূর্ণ।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।