অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক, মুসলিম পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন
মিশিগানে মার্কিন সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগান অঙ্গরাজ্যে সিনেট নির্বাচন সামনে রেখে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। রিপাবলিকান প্রতিদ্বন্দ্বী মাইক রজার্স ও প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তাঁর বিরুদ্ধে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ তুলে প্রচার চালাচ্ছেন। এল-সাইয়েদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই বিতর্ক গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
আবদুল এল-সাইয়েদ একজন চিকিৎসাবিদ্যায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ। তিনি এর আগে ডেট্রয়েট শহরের স্বাস্থ্য বিভাগের দায়িত্ব পালন করেছেন এবং ওয়েইন কাউন্টির স্বাস্থ্য, মানবসেবা ও ভেটেরান্সবিষয়ক বিভাগেও কাজ করেছেন। ২০১৮ সালে মিশিগানের গভর্নর পদে ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও এবার তিনি মার্কিন সিনেটের আসন জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নির্বাচনে নেমেছেন।
২০২৬ সালের ৪ আগস্ট অনুষ্ঠিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারিতে প্রতিনিধি পরিষদের সদস্য হ্যালি স্টিভেনসকে পরাজিত করে দলের মনোনয়ন পান এল-সাইয়েদ। এবার তাঁর প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী সাবেক কংগ্রেস সদস্য ও সাবেক এফবিআই কর্মকর্তা মাইক রজার্স। বর্তমান সিনেটর গ্যারি পিটার্স পুনর্নির্বাচনে অংশ না নেওয়ায় আসনটি উন্মুক্ত রয়েছে।
রিপাবলিকান প্রার্থী রজার্স এল-সাইয়েদের অতীতের কিছু বক্তব্য, রাজনৈতিক অবস্থান এবং তাঁর পরিবারের সদস্যদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া পোস্টের উল্লেখ করে মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তুলেছেন। ট্রাম্পও প্রচারে এল-সাইয়েদকে লক্ষ্য করে কঠোর বক্তব্য দিয়েছেন।
তবে প্রকাশিত সংবাদে এল-সাইয়েদের ব্যক্তিগতভাবে ওই সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত থাকার প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এল-সাইয়েদ নিজেও সংগঠনটির সঙ্গে সম্পর্ক থাকার কথা অস্বীকার করেছেন। তাঁর বক্তব্য, এসব অভিযোগের মাধ্যমে ভোটারদের দৃষ্টি স্বাস্থ্যসেবা, জীবনযাত্রার ব্যয় ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় থেকে সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে।
এই বিতর্ক মিশিগানের মুসলিম, আরব-আমেরিকান ও ইহুদি ভোটারদের মধ্যেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। গাজা যুদ্ধ, যুক্তরাষ্ট্রের ইসরায়েলনীতি এবং ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্যের কারণে বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটারদের মধ্যে মতপার্থক্য দেখা যাচ্ছে। তবে কোনো প্রার্থীর ধর্মীয় পরিচয় বা পরিবারের কারও বক্তব্যকে তাঁর ব্যক্তিগত রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতার প্রমাণ হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
বিতর্কের পাশাপাশি এল-সাইয়েদ তাঁর নির্বাচনী প্রচারে স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা, সাধারণ মানুষের ব্যয় কমানো এবং রাজনীতিতে বড় অর্থদাতাদের প্রভাব সীমিত করার বিষয়গুলো তুলে ধরছেন। তাঁর কর্মসূচিতে সবার জন্য সরকারি স্বাস্থ্যবিমা সম্প্রসারণের ধারণা এবং ইসরায়েলকে মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধ করার প্রস্তাব রয়েছে।
অন্যদিকে, রজার্স এল-সাইয়েদের বিভিন্ন নীতিগত অবস্থানের সমালোচনা করে নিজেকে বিকল্প প্রার্থী হিসেবে তুলে ধরছেন। স্বাস্থ্যসেবা, জাতীয় নিরাপত্তা, মধ্যপ্রাচ্যনীতি ও সরকারের ভূমিকা নিয়ে দুই প্রার্থীর অবস্থানে উল্লেখযোগ্য পার্থক্য রয়েছে।
মিশিগানের সিনেট নির্বাচন শুধু অঙ্গরাজ্যটির মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এর ফল যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের ক্ষমতার ভারসাম্যেও প্রভাব ফেলতে পারে। সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখা রিপাবলিকানদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটরা আসন বাড়িয়ে নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করছে।
সাম্প্রতিক নির্বাচনী জরিপগুলোতে এল-সাইয়েদ ও রজার্সের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ঘনিষ্ঠ দেখা যাচ্ছে। তবে জরিপের ফল চূড়ান্ত নির্বাচনের ফল নয়। ভোটারদের উপস্থিতি, নির্বাচনের শেষ পর্যায়ের প্রচার এবং বিভিন্ন সম্প্রদায়ের ভোটের প্রবণতা ফলাফলে ভূমিকা রাখতে পারে।
এল-সাইয়েদ নির্বাচিত হলে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে প্রথম মুসলিম সদস্য হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করবেন। তবে সেটি এখনো সম্ভাবনামাত্র; নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে নিশ্চিতভাবে কিছু বলা যায় না।
বাংলাদেশি-আমেরিকান পাঠকদের জন্য এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ, কারণ সিনেটের গঠন স্বাস্থ্যসেবা, করনীতি, অভিবাসন, কর্মসংস্থান এবং আন্তর্জাতিক সম্পর্কসংক্রান্ত আইন ও সরকারি নীতির ওপর প্রভাব ফেলতে পারে। তবে মিশিগানের এই নির্বাচনের ফল একাই অভিবাসন আইন বা কোনো ব্যক্তির বৈধ অবস্থান পরিবর্তন করবে না।
৩ নভেম্বরের ভোটের আগে তাই এল-সাইয়েদ ও রজার্সের নীতিগত অবস্থান, তাঁদের বক্তব্য এবং অভিযোগের পক্ষে থাকা প্রমাণ যাচাই করে দেখা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্যন্ত মিশিগানের ভোটাররাই সিদ্ধান্ত নেবেন, কে তাঁদের প্রতিনিধিত্ব করবেন মার্কিন সিনেটে।

ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে মামলায় বিপাকে নাগরিকত্বপ্রত্যাশী অভিবাসীরা

একই নামের দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, আলাস্কার নির্বাচন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা



