আমরাও চাই হাসিনা আসুক, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়’—মীর শাহে আলম
শেখ হাসিনা দেশে ফিরুন, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায়—এমন মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। শনিবার বগুড়ার মোকামতলায় এক সুধী সমাবেশে তিনি শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও বিচার, বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা এবং জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দেন।
বগুড়ার মোকামতলায় সুধী সমাবেশে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা, বিচার, বিএনপির উন্নয়ন পরিকল্পনা ও জামায়াতের ভূমিকা নিয়ে বক্তব্য দিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে বক্তব্য দিতে গিয়ে শেখ হাসিনার দেশে ফেরা এবং তাঁর বিচার প্রসঙ্গে মন্তব্য করেছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম এমপি। তিনি বলেছেন, ‘আমরাও চাই, তিনি দেশে ফিরে আসুন। কারণ, দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে অপেক্ষা করছে।’
শনিবার (২৪ অক্টোবর) দুপুর ১টায় বগুড়ার মোকামতলা উপজেলার সৈয়দপুর ইউনিয়নের রাধাকান্তপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত এক সুধী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। প্রতিমন্ত্রীর প্রেস সেক্রেটারির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ তুলে মীর শাহে আলম বলেন, তাঁকে মাঝেমধ্যে দেশে ফেরার হুমকি দিতে দেখা যায়। বিএনপি তাঁর দেশে ফেরা চায়, কারণ দেশের মানুষ তাঁর বিচার দেখতে চায় বলে মন্তব্য করেন তিনি। একই বক্তব্যে তারেক রহমানের দেশে ফেরার সময় মানুষের সমাগমের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের জনসমর্থনের পার্থক্য তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী।
ইতিহাস প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ যতই চেষ্টা করুক, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক—এই ইতিহাস পরিবর্তন করা যাবে না। একই সঙ্গে তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার রাজনৈতিক অবস্থানের কথা উল্লেখ করে বলেন, তিনি আমৃত্যু আপসহীন ছিলেন।
বিএনপির জনপ্রিয়তা প্রসঙ্গে মীর শাহে আলম বলেন, শহীদ জিয়ার প্রতিষ্ঠিত দলটি যুগে যুগে জনপ্রিয়তা ধরে রেখেছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, জনগণের ভালোবাসা ও আস্থাই বিএনপির সবচেয়ে বড় শক্তি।
জামায়াতে ইসলামীর সমালোচনা করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি মানুষের কাছে বেহেশতের নিশ্চয়তা দেওয়ার কথা বলে না; বরং উন্নয়ন ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিতে চায়। প্রতিটি পরিবারের হাতে ফ্যামিলি কার্ড এবং কৃষকের হাতে কৃষক কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন তিনি।
ইমাম, মুয়াজ্জিন ও খাদেমদের আর্থিক নিরাপত্তা নিয়েও বক্তব্য দেন মীর শাহে আলম। তিনি দাবি করেন, জামায়াতে ইসলামী এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নেয়নি। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁদের মাসিক সম্মানীর ব্যবস্থা করেছেন। সরকারের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রমে অনুপ্রাণিত হয়ে আগে জামায়াতকে ভোট দিয়েছেন—এমন ব্যক্তিদের বিএনপিতে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
মোকামতলাকে নতুন উপজেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠার প্রসঙ্গ তুলে প্রতিমন্ত্রী বলেন, এটি বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের অঙ্গীকার বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। স্থানীয় মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি। নতুন উপজেলার অবকাঠামোগত উন্নয়নসহ বাকি কাজ পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতিও দেন।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তাঁর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান এবং কন্যা ব্যারিস্টার জাইমা রহমানের সুস্বাস্থ্য, দীর্ঘায়ু ও কল্যাণ কামনায় উপস্থিত সবার কাছে দোয়া চান প্রতিমন্ত্রী।
মোকামতলা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মাহমুদ হাসান তৌফিকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন বগুড়া জজ আদালতের জিপি শফিকুল ইসলাম টুকু, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির সভাপতি এসএম তাজুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট আব্দুল ওহাব, মোকামতলা উপজেলা বিএনপির সদস্যসচিব রোকন-উদ-দৌলা রুবেল, শিবগঞ্জ উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মীর শাকরুল আলম সীমান্ত, পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল করিম এবং শিবগঞ্জ উপজেলা যুবদলের সভাপতি খালিদ হাসান আরমানসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা।
সমাবেশে দেওয়া বক্তব্যে প্রতিমন্ত্রী মূলত শেখ হাসিনার দেশে ফেরা ও বিচার, বিএনপির রাজনৈতিক অবস্থান, জামায়াতের সমালোচনা এবং মোকামতলার উন্নয়ন পরিকল্পনার বিষয়গুলো তুলে ধরেন।





