অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতি
নির্বাচনের আগে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সরকারি তদন্ত নিয়ে আদালতের নির্দেশে নতুন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়াসহ নয়টি অঙ্গরাজ্যে এই বিরোধের প্রভাব পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছেন ক্যালিফোর্নিয়ার একটি ফেডারেল আদালতের বিচারক। ২৩ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়াসহ নয়টি অঙ্গরাজ্যে এই নির্দেশ প্রযোজ্য। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনের আগে ঘটনাটি দেশটির নির্বাচনী ব্যবস্থায় নতুন বিতর্ক তৈরি করেছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার ওকল্যান্ডের ফেডারেল জেলা আদালতের বিচারক আরাসেলি মার্টিনেজ-ওলগিনের নির্দেশে ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, মিসৌরি, নেভাদা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিনে সংশ্লিষ্ট তদন্ত বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে। বিচারক নির্বাচনের দিন ভোটগ্রহণ শেষ হওয়া পর্যন্ত এই কার্যক্রম স্থগিত রাখার নির্দেশ দিয়েছিলেন। তবে প্রশাসনকে আপিলের সুযোগ দিতে আদেশটি শুক্রবার পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছিল। এরপর আপিলের বিষয়ে সর্বশেষ সিদ্ধান্ত কী হয়েছে, তা প্রকাশের আগে যাচাই করা প্রয়োজন।
মামলাটির মূল বিষয় হলো—ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই করতে গিয়ে সরকারি সংস্থাগুলো যে তথ্য ব্যবহার করছে, সেগুলোর নির্ভরযোগ্যতা কতটা। বিচারকের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, তদন্তে ব্যবহৃত কিছু তথ্য ভুল হতে পারে এবং এতে বৈধ মার্কিন নাগরিকদেরও ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার ঝুঁকি রয়েছে।
মামলাটি করেছে ক্যালিফোর্নিয়া নার্সেস অ্যাসোসিয়েশন, ন্যাশনাল নার্সেস ইউনাইটেড, ভোটো লাতিনো ফাউন্ডেশন এবং সান ফ্রান্সিসকো ও সান্তা ক্লারা কাউন্টি। তাদের অভিযোগ, নির্বাচনের আগে এ ধরনের তদন্ত ভোটারদের সহায়তাকারী সংগঠনগুলোর কার্যক্রম ব্যাহত করতে পারে এবং নাগরিকদের মধ্যে ভয় তৈরি করতে পারে।
আদালতের নথিতে বলা হয়েছে, তদন্তের সময় কিছু ব্যক্তির নাগরিকত্ব ও ভোট দেওয়ার যোগ্যতা যাচাই করতে বিভিন্ন উৎসের তথ্য ব্যবহার করা হয়েছে। বিচারকের মতে, যুক্তরাষ্ট্রের সব বাসিন্দার নাগরিকত্ব যাচাই করার জন্য একক কোনো কেন্দ্রীয় তথ্যভান্ডার না থাকায় ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি রয়েছে। তদন্তের একটি পর্যায়ে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত প্রত্যেক ব্যক্তির তথ্য যাচাই করতে কর্মকর্তাদের সর্বোচ্চ ১২ মিনিট সময় দেওয়ার বিষয়টিও আদালতের পর্যবেক্ষণে এসেছে।
অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন বলেছে, নির্বাচনে অননুমোদিত ব্যক্তিদের ভোট দেওয়া ঠেকানো এবং মার্কিন নাগরিকদের ভোটের মূল্য রক্ষা করা তাদের লক্ষ্য। প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, তারা যাদের মার্কিন নাগরিক বলে বিশ্বাস করে, তাদের জিজ্ঞাসাবাদ বা তদন্ত করার পরিকল্পনা নেই।
যুক্তরাষ্ট্রে ফেডারেল নির্বাচনে ভোটারদের যোগ্যতা নিয়ে আইন থাকলেও নির্বাচন পরিচালনার বড় দায়িত্ব অঙ্গরাজ্যগুলোর ওপর ন্যস্ত। নাগরিকত্ব যাচাইয়ের নামে কী ধরনের তথ্য সংগ্রহ করা যাবে এবং সেই তথ্যের ভিত্তিতে তদন্ত চালানোর সীমা কোথায়—এই প্রশ্নগুলো এখন আইনি বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে।
আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারিত হবে। তাই নির্বাচনের আগে ভোটার যাচাই, ডাকযোগে ভোট এবং নির্বাচনী কর্মকর্তাদের ক্ষমতা নিয়ে আইনি বিরোধগুলো রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
তবে এই আদালতের নির্দেশের অর্থ এই নয় যে যুক্তরাষ্ট্রে ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাইয়ের সব কার্যক্রম দেশজুড়ে নিষিদ্ধ হয়েছে। নির্দেশটি নির্দিষ্ট নয়টি অঙ্গরাজ্যে সংশ্লিষ্ট তদন্তের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য। মামলার পরবর্তী সিদ্ধান্ত এবং আপিলের ফলাফলের ওপর নির্ভর করবে নির্বাচনের আগে এই তদন্তের ভবিষ্যৎ কী হবে।

আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক, মুসলিম পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন

যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে মামলায় বিপাকে নাগরিকত্বপ্রত্যাশী অভিবাসীরা

একই নামের দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, আলাস্কার নির্বাচন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা



