সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের ২৮ জনের বিরুদ্ধে নির্বাচনী অপরাধের অভিযোগছুটির মৌসুমে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি কর্মী নিয়োগ দেবে অ্যামাজন, বাড়ছে মজুরিনিউইয়র্কের বেসরকারি খাতে দুই মাসে ৩০ হাজারের বেশি চাকরি কমেছে, বাড়ছে উদ্বেগজ্যাকসন হাইটসে বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্য কমিউনিটি সেন্টার ও সুইমিং পুলের প্রকল্প এগোচ্ছেবার্গার কিংয়ের পার্কিংয়ে বাবার বন্দুক থেকে গুলিবিদ্ধ হয়ে প্রাণ গেল ৩ বছরের শিশুর

ইরানের হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নাগরিকদের লক্ষ্য করে হামলার পরিকল্পনা জোরদারের গোয়েন্দা সতর্কতা, মধ্যপ্রাচ্যে দূতাবাসের নিরাপত্তা বাড়াচ্ছে ওয়াশিংটন।

ইরানের হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র
ইরানের হামলা পরিকল্পনা চূড়ান্ত পর্যায়ে, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বজুড়ে মার্কিন নাগরিকদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তীব্র

মধ্যপ্রাচ্য ও বিশ্বের অন্যান্য অঞ্চলে মার্কিন নাগরিক, কূটনীতিক এবং সরকারি কর্মকর্তাদের লক্ষ্য করে প্রাণঘাতী হামলার পরিকল্পনা জোরদার করেছে ইরান এমন গোয়েন্দা সতর্কতার পর আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালক জে ক্লেটন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওকে পাঠানো এক স্মারকলিপিতে বলেছেন, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত প্রাণঘাতী ষড়যন্ত্র উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবরের ওই স্মারকলিপির তথ্য শনিবার বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। তবে সম্ভাব্য হামলার নির্দিষ্ট লক্ষ্য, সময় কিংবা সংশ্লিষ্ট দেশের নাম প্রকাশ করা হয়নি।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এক পাতার ওই স্মারকলিপিতে বলা হয়েছে, ইরান বিদেশে মার্কিন কর্মীদের লক্ষ্যবস্তু করার প্রচেষ্টা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়িয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের পাশাপাশি অন্য কয়েকটি দেশেও মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে পরিকল্পনা এগিয়েছে বলে গোয়েন্দা মূল্যায়নে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে এই মূল্যায়ন কোনো হামেলা অবধারিতভাবে ঘটবে, কিংবা তা অবিলম্বে ঘটতে যাচ্ছে এমন নিশ্চয়তা দেয় না।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গোয়েন্দা পরিচালকের দপ্তর থেকে পাঠানো সতর্কবার্তাটি এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা, পাল্টাপাল্টি হুমকি এবং কূটনৈতিক অচলাবস্থা অব্যাহত রয়েছে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর কাছে থাকা তথ্য আরও বেশি সরকারি কর্মকর্তার কাছে পৌঁছে দেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথাও স্মারকলিপিতে তুলে ধরা হয়েছে। সংবেদনশীল তথ্যের গোপনীয়তার মাত্রা কমিয়ে পররাষ্ট্র দপ্তরের আরও কর্মীর সঙ্গে তা ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানানো হয়েছে।

নতুন সতর্কতার প্রেক্ষাপটে মধ্যপ্রাচ্যের চারটি দেশে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাসে কর্মীর সংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তও গুরুত্ব পাচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জর্ডান, লেবানন, কাতার ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের দূতাবাসগুলোতে কর্মীসংখ্যা সীমিত করছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ইরান এবং ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠীর কাছ থেকে সম্ভাব্য হুমকি এই সিদ্ধান্তের পেছনে ভূমিকা রেখেছে।

তবে এসব দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়নি। সেখানে সীমিত কার্যক্রমের আওতায় কাজ চলবে। ওই চার দেশে কর্মরত সব কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলকভাবে দেশ ছাড়ার নির্দেশও দেওয়া হয়নি। ফলে দূতাবাসে কর্মীসংখ্যা কমানোর সিদ্ধান্তকে সম্পূর্ণ কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করা কিংবা তাৎক্ষণিক যুদ্ধ শুরুর নিশ্চিত ইঙ্গিত হিসেবে দেখার সুযোগ নেই।

সৌদি আরবের পরিস্থিতি অবশ্য কিছুটা আলাদা। চলতি সপ্তাহে রিয়াদে অবস্থিত মার্কিন দূতাবাস এবং জেদ্দা ও ধাহরানের কনস্যুলেটে কর্মরত অপ্রয়োজনীয় কর্মী ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের সৌদি আরব ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি এবং সম্ভাব্য হামলার আশঙ্কায় এই সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

একই সময়ে ইয়েমেনের হুতি গোষ্ঠীর ক্ষেপণাস্ত্র ও চালকবিহীন আকাশযান হামলার আশঙ্কাও বাড়ছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর, জ্বালানি অবকাঠামো এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ঘিরে নিরাপত্তা উদ্বেগের কথা প্রকাশিত হয়েছে। মার্কিন কর্মকর্তাদের বক্তব্য অনুযায়ী, এই গোষ্ঠীর হুমকি এবং ইরানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সম্ভাব্য ষড়যন্ত্র দুই বিষয়ই আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিকল্পনায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

মার্কিন প্রশাসনের জন্য পরিস্থিতিটি আরও জটিল হয়ে উঠেছে, কারণ ইরানের সঙ্গে সামরিক সংঘাত নতুন করে শুরু হবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ফ্লোরিডায় এক রাজনৈতিক সমাবেশে ইরানের সঙ্গে সমঝোতা না হলে নতুন সামরিক অভিযান চালানোর সম্ভাবনার কথা বলেছেন। তিনি আগের সামরিক অভিযানের নাম উল্লেখ করে তেহরানকে আলোচনায় ফেরার ইঙ্গিত দেন।

অন্যদিকে, ইরানের কর্মকর্তারা যুক্তরাষ্ট্রের নতুন হামলার সম্ভাবনা নিয়ে সতর্ক অবস্থান নিয়েছেন। তেহরানের বক্তব্য ও সামরিক হুমকির মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি এবং আঞ্চলিক স্বার্থ সুরক্ষার প্রশ্নটি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে নতুন হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে কি না, কিংবা কোন পরিস্থিতিতে সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে, সে বিষয়ে প্রকাশ্য তথ্য থেকে নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

পারস্য উপসাগর ও হরমুজ প্রণালিকে ঘিরেও উত্তেজনা রয়েছে। আন্তর্জাতিক জ্বালানি পরিবহনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বিশ্ববাজারে তেল ও গ্যাসের সরবরাহে প্রভাব পড়তে পারে। ইরানের বিপ্লবী রক্ষীবাহিনীর পক্ষ থেকে আঞ্চলিক মার্কিন সামরিক ঘাঁটি নিয়ে হুমকির খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নিরাপত্তা পরিস্থিতির অবনতি শুধু সামরিক বাহিনী বা কূটনীতিকদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না; বাণিজ্য, জ্বালানি পরিবহন এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতেও এর প্রভাব পড়তে পারে।

এই পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, গোয়েন্দা সতর্কতায় উল্লেখ করা পরিকল্পনাগুলো কতটা নির্দিষ্ট এবং সেগুলো বাস্তবায়নের প্রস্তুতি কতদূর এগিয়েছে। প্রকাশিত স্মারকলিপিতে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু, নির্দিষ্ট দেশ কিংবা হামলার সময় উল্লেখ নেই। ফলে কোনো নির্দিষ্ট মার্কিন দূতাবাস, সামরিক ঘাঁটি বা শহরে হামলা আসন্ন বলে প্রচার করা তথ্যসমর্থিত হবে না। একইভাবে, ইরানের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগকে স্বাধীনভাবে যাচাই করা চূড়ান্ত প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করাও ঠিক হবে না।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের জন্য এখন প্রধান বিবেচ্য বিষয় হচ্ছে, যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কতামূলক ব্যবস্থা এবং ইরানের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা মূল্যায়ন কূটনৈতিক আলোচনাকে আরও কঠিন করে তোলে কি না। একদিকে দূতাবাসের কর্মীসংখ্যা কমানো ও নিরাপত্তা জোরদার করা হচ্ছে, অন্যদিকে সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নিয়ে রাজনৈতিক বক্তব্য অব্যাহত রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ভুল তথ্য, অতিরঞ্জিত দাবি কিংবা যাচাইহীন হামলার খবর আঞ্চলিক উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।

২৪ অক্টোবর পর্যন্ত প্রকাশিত তথ্য থেকে বলা যায়, মার্কিন নাগরিকদের বিরুদ্ধে ইরানের কথিত হামলা পরিকল্পনা নিয়ে গুরুতর গোয়েন্দা উদ্বেগ রয়েছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ইতিমধ্যে কয়েকটি কূটনৈতিক মিশনে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নিয়েছে। তবে পরিকল্পনার পূর্ণ বিবরণ, নির্দিষ্ট লক্ষ্যবস্তু এবং হামলার সম্ভাব্য সময় এখনো প্রকাশ্যে নিশ্চিত নয়। তাই ঘটনাটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ নিরাপত্তা সতর্কতা হিসেবে দেখা যথাযথ; আসন্ন হামলার নিশ্চিত ঘোষণা হিসেবে নয়।


ট্যাগ: ইরানযুক্তরাষ্ট্রমধ্যপ্রাচ্যগোয়েন্দা সতর্কতামার্কিন নাগরিকদূতাবাসের নিরাপত্তাআন্তর্জাতিক রাজনীতিসামরিক উত্তেজনাহরমুজ প্রণালিবিশ্ব নিরাপত্তা

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।