সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
নিউইয়র্কের ওয়েস্ট হারলেমে অভিবাসীদের আইনি ও স্বাস্থ্যসেবায় নতুন সহায়তা কেন্দ্র চালু হলোনিউইয়র্কে ২০২৭ সালে শিশুদের বিনামূল্যের শিক্ষাযত্নে যুক্ত হচ্ছে আরও দশ হাজার আসনযুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে বাড়ছে নতুন হতাশাআমেরিকায় পড়াশোনা শেষে চাকরি পেতে ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব, চাপে বিদেশি শিক্ষার্থীরাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?

নিউইয়র্কে ২০২৭ সালে শিশুদের বিনামূল্যের শিক্ষাযত্নে যুক্ত হচ্ছে আরও দশ হাজার আসন

নিউইয়র্কে দুই বছর বয়সী শিশুদের বিনামূল্যের ‘টু-কে’ কর্মসূচিতে ২০২৭ সালের শরৎ থেকে আরও দশ হাজার আসন যুক্ত হবে, পরিবারগুলোর ব্যয় কমাতে।

নিউইয়র্কে ২০২৭ সালে শিশুদের বিনামূল্যের শিক্ষাযত্নে যুক্ত হচ্ছে আরও দশ হাজার আসন
নিউইয়র্কে ২০২৭ সালে শিশুদের বিনামূল্যের শিক্ষাযত্নে যুক্ত হচ্ছে আরও দশ হাজার আসন

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যের প্রাথমিক শিক্ষাযত্ন কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছেন শহরটির মেয়র জোহরান মামদানি ও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর ক্যাথি হোকুল। ২০২৬ সালের ১৯ অক্টোবর ঘোষিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে শহরজুড়ে আরও দশ হাজার আসন যুক্ত হবে ‘টু-কে’ কর্মসূচিতে। এর ফলে পাঁচটি বরোতেই এই কর্মসূচির আওতা বাড়বে এবং মোট আসনসংখ্যা দাঁড়াবে ১২ হাজারের বেশি।

এই উদ্যোগের মূল লক্ষ্য হলো দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য বিনামূল্যে শিশুযত্ন ও প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো। একই সঙ্গে কর্মজীবী পরিবারগুলোর শিশুযত্নের আর্থিক চাপ কমানো এবং শিশুদের শৈশবের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে নিরাপদ পরিবেশে শেখা, খেলাধুলা ও সামাজিক দক্ষতা বিকাশের সুযোগ তৈরি করা। কর্তৃপক্ষের পরিকল্পনা অনুযায়ী, নতুন আসনগুলো ২০২৭ সালের শরৎকাল থেকে চালু করা হবে।

নিউইয়র্ক শহরের সরকারি ঘোষণায় বলা হয়েছে, নতুন সম্প্রসারণের আওতায় ব্রঙ্কসের সব স্কুল জেলায় এবং স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের সর্বত্র কর্মসূচিটি চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ম্যানহাটন, ব্রুকলিন ও কুইন্সের আরও কয়েকটি এলাকায় নতুন আসন যুক্ত করা হবে। এর মাধ্যমে শহরের ৩২টি ভৌগোলিক স্কুল জেলার মধ্যে মোট ২২টি জেলায় এই কর্মসূচি চালু থাকবে।

ব্রুকলিনের বেডফোর্ড-স্টাইভেস্যান্ট, ক্রাউন হাইটস, ইস্ট নিউইয়র্ক, বুশউইক, বে রিজ ও কনি আইল্যান্ডের মতো এলাকাও সম্প্রসারণ পরিকল্পনার আওতায় রয়েছে। কুইন্সের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি ম্যানহাটনের ইস্ট হারলেম, সেন্ট্রাল হারলেম ও ওয়েস্ট হারলেমের কিছু অংশেও নতুন আসন চালুর পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে প্রতিটি এলাকার জন্য আসনের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট শিশুযত্নকেন্দ্রগুলোর অংশগ্রহণ এবং পরিবারের সম্ভাব্য চাহিদা বিবেচনা করা হবে।

এই কর্মসূচির প্রথম ধাপ শুরু হয় ২০২৬ সালের শরৎকালে। তখন নিউইয়র্ক শহরের পাঁচটি স্কুল জেলায় দুই বছর বয়সী শিশুদের জন্য প্রায় দুই হাজার বিনামূল্যের আসনের ব্যবস্থা করা হয়। এসব আসনের জন্য পরিবারগুলোর পক্ষ থেকে পাঁচ হাজার সাত শতাধিক আবেদন জমা পড়ে। অর্থাৎ, প্রাথমিক পর্যায়ে উপলব্ধ আসনের তুলনায় আবেদনকারীর সংখ্যা অনেক বেশি ছিল। এই চাহিদা পরবর্তী পর্যায়ে আরও দশ হাজার আসন যুক্ত করার সিদ্ধান্তের পেছনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।

পরিকল্পনাটিতে নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্যের ১২০ কোটি ডলারের আর্থিক সহায়তা রয়েছে। শহর ও অঙ্গরাজ্য কর্তৃপক্ষের যৌথ উদ্যোগে এই অর্থ বিনামূল্যের শিশুযত্ন সম্প্রসারণে সহায়তা করবে। মেয়র মামদানি ও গভর্নর হোকুলের মতে, শিশুযত্নের ব্যয় কমানো হলে পরিবারগুলোর জীবনযাত্রার চাপ কমবে এবং বাবা-মায়েরা চাকরি, পেশাগত উন্নয়ন ও পারিবারিক দায়িত্বের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখার সুযোগ পাবেন।

‘টু-কে’ কর্মসূচির আওতায় শিশুদের জন্য শুধু দেখাশোনার ব্যবস্থা নয়, বরং প্রাথমিক শিক্ষার উপযোগী পরিবেশ তৈরির ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। ছোট শিশুদের ভাষাগত দক্ষতা, কৌতূহল, আত্মবিশ্বাস এবং অন্য শিশুদের সঙ্গে মেলামেশার সক্ষমতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। উপযুক্ত শিক্ষাযত্নের পরিবেশ শিশুর পরবর্তী শিক্ষাজীবনের ভিত্তি তৈরিতেও সহায়তা করতে পারে।

কর্মসূচিটি কর্মজীবী পরিবারগুলোর জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। নিউইয়র্কে শিশুযত্নের ব্যয় অনেক পরিবারের মাসিক বাজেটের ওপর বড় চাপ তৈরি করে। বিনামূল্যের আসন পাওয়া গেলে অভিভাবকেরা বেসরকারি শিশুযত্ন প্রতিষ্ঠানে ব্যয় কমানোর সুযোগ পেতে পারেন। বিশেষ করে যেসব বাবা-মা পূর্ণকালীন চাকরি করেন, ছোট ব্যবসা পরিচালনা করেন অথবা পড়াশোনার পাশাপাশি সন্তান লালন-পালন করছেন, তাঁদের জন্য এই উদ্যোগ স্বস্তি আনতে পারে।

নিউইয়র্কে বসবাসরত বাংলাদেশি পরিবারগুলোর জন্যও এই কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে তাঁদের সন্তানদের জন্য আসন পাওয়ার বিষয়টি সংশ্লিষ্ট এলাকার আওতা, আবেদনপ্রক্রিয়া এবং ভর্তি-সংক্রান্ত শর্তের ওপর নির্ভর করবে। তাই কর্মসূচি সম্প্রসারণের ঘোষণা শুনেই প্রত্যেক শিশু আসন পাবে বলে ধরে নেওয়া ঠিক হবে না।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৭ সালের শরৎকালের জন্য পরিবারগুলোর আবেদন গ্রহণের সময়সূচি পরবর্তী সময়ে প্রকাশ করা হবে। একই সঙ্গে শিশুযত্নসেবা দিতে আগ্রহী প্রতিষ্ঠানগুলোর কাছ থেকেও তথ্য সংগ্রহ করা হবে, যাতে নতুন আসন চালুর প্রস্তুতি নেওয়া যায়। ফলে অভিভাবকদের আবেদন শুরুর তারিখ, যোগ্যতার শর্ত এবং নিজ এলাকার সুযোগ সম্পর্কে সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করা উচিত।

সামগ্রিকভাবে, নিউইয়র্কের ‘টু-কে’ কর্মসূচির এই সম্প্রসারণ শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার সুযোগ বাড়ানো এবং পরিবারগুলোর শিশুযত্নের ব্যয় কমানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। ২০২৭ সালের শরৎকালে পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে শহরের পাঁচটি বরোর আরও বেশি পরিবার উপকৃত হওয়ার সুযোগ পাবে। তবে বাস্তবে কতটি পরিবার আসন পাবে, তা নির্ভর করবে আবেদনকারীর সংখ্যা, অংশগ্রহণকারী প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা এবং চূড়ান্ত ভর্তি ব্যবস্থার ওপর।


ট্যাগ: নিউইয়র্কবিনামূল্যের শিশুযত্নপ্রাথমিক শিক্ষাজোহরান মামদানিক্যাথি হোকুলকর্মজীবী পরিবারবাংলাদেশি পরিবারযুক্তরাষ্ট্রের সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।