সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
তল্লাশির পর নিরাপত্তাহীনতায় ওয়াশিংটনের বাসা ছাড়ছেন মার্কিন কংগ্রেস সদস্য ইলহান ওমরবিএনপির আইসিটি ফোরামের পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা, অভিনন্দন জানাল সাইবার ইউজার দলট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতিব্বতে ভয়াবহ ভূমিকম্পে নিহত ১৬, আহত ৬৫, ধসে পড়েছে শতাধিক বাড়িঘরযুক্তরাষ্ট্রের নির্বাচনে নতুন উত্তাপ: ক্যালিফোর্নিয়ায় ২০ হাজারের বেশি ব্যালট ঘিরে আইনি লড়াই!

ট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

প্রতিদ্বন্দ্বীর বিচ্ছিন্ন মাকে নিয়ে বিতর্কিত প্রচারচিত্র প্রত্যাহারের বদলে রামাস্বামীকে সমর্থন দিলেন ট্রাম্প, ওহাইওর নির্বাচনে বাড়ল রাজনৈতিক উত্তেজনা।

ট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি
ট্রাম্পের সমর্থনে রামাস্বামীর বিতর্কিত প্রচারণা, প্রতিদ্বন্দ্বীর পরিবার নিয়ে উত্তাল যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতি

যুক্তরাষ্ট্রের ওহাইও অঙ্গরাজ্যের গভর্নর নির্বাচনকে কেন্দ্র করে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর পারিবারিক অতীত নিয়ে তৈরি বিতর্কিত প্রচারচিত্র ঘিরে নতুন রাজনৈতিক উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে। রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর প্রচারচিত্রটি প্রত্যাহারের আহ্বান জানিয়েছেন অঙ্গরাজ্যটির রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ডিওয়াইন। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প উল্টো রামাস্বামীকে প্রচারচিত্রটি চালিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। ২২ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, ট্রাম্প প্রচারচিত্রটির পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিরোধী পক্ষের সমালোচনাকেও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আখ্যা দিয়েছেন। এ ঘটনায় রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও মতবিরোধ প্রকাশ্যে এসেছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছেন ডেমোক্র্যাটিক প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন এবং তাঁর জন্মদাত্রী মা ডোনা আর্থার। প্রায় এক মিনিটের প্রচারচিত্রে আর্থারকে নিজের মেয়ের অতীত নিয়ে প্রশ্ন তুলতে দেখা যায়। তিনি অ্যাকটনকে মিথ্যাবাদী বলে অভিযোগ করেন এবং ভোটারদের তাঁকে গভর্নর নির্বাচিত না করার আহ্বান জানান। প্রচারচিত্রে অ্যাকটনের শৈশব, পারিবারিক পরিস্থিতি এবং সে সময়কার অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে।

প্রথমদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটির নির্মাতা বা অর্থদাতার পরিচয় স্পষ্ট ছিল না। পরে রামাস্বামীর প্রচারশিবির নিশ্চিত করে, বিজ্ঞাপনটি তাদেরই তৈরি। একই সঙ্গে প্রচারচিত্রটি আরও বেশি মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে প্রায় চার মিলিয়ন মার্কিন ডলার ব্যয়ের পরিকল্পনার কথা জানানো হয়। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রচারটি অনলাইন মাধ্যমের পাশাপাশি টেলিভিশনেও চালানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

২২ অক্টোবর ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রামাস্বামীকে বিজ্ঞাপনটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে অবস্থান জানান। তিনি প্রচারচিত্রটিকে কার্যকর বলে বর্ণনা করেন এবং ডিওয়াইনের সমালোচনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ট্রাম্পের বক্তব্যে বোঝা যায়, তিনি মনে করেন প্রচারচিত্রটি ভোটারদের সামনে অ্যাকটনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি করছে। এর আগে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছিলেন, ঘটনাটি সম্পর্কে তিনি বিস্তারিত জানেন না। পরে অবশ্য প্রচারচিত্রটি নিয়ে নিজের অবস্থান স্পষ্ট করে রামাস্বামীর পক্ষে কথা বলেন।

তবে এই বিতর্কের পেছনে রয়েছে অ্যাকটনের শৈশবের একটি গুরুতর পারিবারিক ঘটনা। অ্যাকটন ও তাঁর ভাই ফিলিপ স্টিয়ার্নসের বক্তব্য অনুযায়ী, তাঁদের শৈশবে মায়ের স্বামী ক্লেডিথ আর্থারের হাতে অ্যাকটন যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছিলেন। ১৯৭৮ সালে অ্যাকটনের বয়স যখন ১২ বছর, তখন ওই ব্যক্তির বিরুদ্ধে ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয় এবং তিনি গ্রেপ্তার হন। পরে অভিযোগ অস্বীকার করে আদালতে নির্দোষ দাবি করলেও তিনি পরবর্তী শুনানিতে হাজির হননি। আদালতের নথি ও সমসাময়িক সংবাদপ্রতিবেদনে অভিযোগ এবং মামলার গুরুত্বপূর্ণ ঘটনাগুলোর সমর্থন পাওয়া যায়। তবে অভিযোগের বিচার সম্পন্ন হয়নি, তাই ঘটনাটিকে আদালতে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বর্ণনা করা সঠিক হবে না।

অ্যাকটন ও তাঁর ভাইয়ের বক্তব্য অনুযায়ী, পরবর্তী সময়ে তাঁদের মায়ের হেফাজত থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়। অ্যাকটন বলেছেন, শৈশবের ওই ঘটনার পর থেকে মায়ের সঙ্গে তাঁর আর যোগাযোগ নেই। তাঁর ভাইও বোনের বক্তব্যের সমর্থনে প্রকাশ্যে কথা বলেছেন। তাঁদের দাবি, পরিবারটি একসময় চরম অনিশ্চয়তা, অবহেলা এবং গৃহহীনতার অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে গেছে। প্রচারচিত্রে এসব অভিজ্ঞতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হলেও অ্যাকটনের পরিবারের বক্তব্য এবং আদালতের নথিতে তাঁর শৈশবের কিছু গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সমর্থন পাওয়া যায়।

অ্যাকটনের প্রচারশিবির বিজ্ঞাপনটিকে ব্যক্তিগত যন্ত্রণা ও শৈশবের নির্যাতনকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার প্রচেষ্টা হিসেবে বর্ণনা করেছে। তাঁর ভাই ফিলিপ স্টিয়ার্নসও কঠোর ভাষায় এর সমালোচনা করেছেন। অ্যাকটন নিজে বলেছেন, শৈশবের অভিজ্ঞতা নিয়ে তাঁর বক্তব্যকে রাজনৈতিক প্রচারণার অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা অনুচিত। তাঁর প্রচারশিবির পাল্টা একটি ভিডিও প্রকাশ করে, যেখানে স্টিয়ার্নস তাঁদের শৈশবের অভিজ্ঞতা এবং বোনের পাশে দাঁড়ানোর কথা তুলে ধরেন।

রামাস্বামীর প্রচারশিবির অবশ্য বিজ্ঞাপনটি প্রত্যাহারের দাবি মানেনি। তাদের বক্তব্য, অ্যাকটনের অতীত সম্পর্কে ভোটারদের সামনে ভিন্ন একটি দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরা হচ্ছে। প্রচারশিবিরের দাবি, নির্বাচনে ভোটারদের সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য প্রার্থীদের বিশ্বাসযোগ্যতা ও ব্যক্তিগত বক্তব্যও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে বিজ্ঞাপনে উত্থাপিত সব অভিযোগকে যাচাই করা সত্য হিসেবে গ্রহণ করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে অ্যাকটনের মায়ের বক্তব্য এবং তাঁর শৈশবের নথিভুক্ত ঘটনাগুলোর মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য রয়েছে।

রামাস্বামীর নিজ দলেও এ নিয়ে একমত অবস্থান দেখা যায়নি। গভর্নর ডিওয়াইন বিজ্ঞাপনটিকে গভীরভাবে উদ্বেগজনক বলে অভিহিত করেছেন এবং তা সরিয়ে নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। তবে তিনি রামাস্বামীর প্রতি নিজের নির্বাচনী সমর্থন প্রত্যাহার করেননি। অন্যদিকে, ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্স রামাস্বামীর পক্ষে অবস্থান নিয়ে বিজ্ঞাপনটির সমালোচকদের বিরোধিতা করেছেন। রিপাবলিকান নেতা ওহাইওর সিনেটর জন হাস্টেডসহ আরও কয়েকজন নেতা বিজ্ঞাপনটি নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন। ফলে বিরোধটি শুধু দুই প্রার্থীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই; এটি রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মতপার্থক্যও প্রকাশ করেছে।

আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ওহাইওর গভর্নর পদ নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। এই প্রচারচিত্র ভোটারদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়। ব্যক্তিগত আক্রমণ কিছু ভোটারের কাছে কার্যকর হতে পারে, আবার অন্যদের কাছে তা অনৈতিক বা অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হতে পারে। ফলে প্রচারণাটি রামাস্বামীর জন্য রাজনৈতিক সুবিধা তৈরি করবে, নাকি উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে, তা নির্বাচনের ফলেই স্পষ্ট হবে।

ট্রাম্পের সমর্থন রামাস্বামীর প্রচারকৌশলকে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিয়েছে, কিন্তু বিতর্কের মূল প্রশ্নগুলোর সমাধান করেনি। অ্যাকটনের শৈশব নিয়ে প্রকাশিত নথি, পরিবারের বক্তব্য এবং প্রচারচিত্রের অভিযোগকে পৃথকভাবে মূল্যায়ন করা জরুরি। যাচাইযোগ্য তথ্যের ভিত্তিতে বলা যায়, বিজ্ঞাপনটি বাস্তব এবং রামাস্বামীর প্রচারশিবির এর দায় স্বীকার করেছে; ট্রাম্পও প্রকাশ্যে বিজ্ঞাপনটি চালিয়ে যাওয়ার পক্ষে কথা বলেছেন। তবে বিজ্ঞাপনে অ্যাকটনের বিরুদ্ধে করা সব অভিযোগ সত্য এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো প্রমাণ নেই। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক প্রচারণায় ব্যক্তিগত ইতিহাস ব্যবহারের নৈতিকতা নিয়ে এই বিতর্ক যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে নতুন প্রশ্ন তুলেছে।


ট্যাগ: ডোনাল্ডট্রাম্পবিবেকরামাস্বামীঅ্যামিঅ্যাকটনযুক্তরাষ্ট্রেররাজনীতিওহাইওনির্বাচন

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।