সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে গ্রিন কার্ডের আবেদনকারীদের সরকারি সুবিধা নিয়ে বাড়ছে নতুন হতাশাআমেরিকায় পড়াশোনা শেষে চাকরি পেতে ৭০ হাজার ডলারের ফি প্রস্তাব, চাপে বিদেশি শিক্ষার্থীরাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতিআবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক, মুসলিম পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন

শিশু চোর সন্দেহে হাসপাতালে পিটিয়ে হত্যা, তিন সন্তানের বাবা আলমের স্বপ্ন ভেঙে গেল

নতুন করে জীবন গড়ার স্বপ্ন দেখছিলেন আলম শেখ। কিন্তু শিশু অপহরণের সন্দেহে গণপিটুনিতে প্রাণ হারালেন তিনি—যে অভিযোগের সত্যতা পুলিশ নিশ্চিত করেনি।

শিশু চোর সন্দেহে হাসপাতালে পিটিয়ে হত্যা, তিন সন্তানের বাবা আলমের স্বপ্ন ভেঙে গেল
শিশু চোর সন্দেহে হাসপাতালে পিটিয়ে হত্যা, তিন সন্তানের বাবা আলমের স্বপ্ন ভেঙে গেল

ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে শিশু চোর সন্দেহে ৪১ বছর বয়সী আলম শেখকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনায় দেশজুড়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ২১ অক্টোবর রাতে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে এ ঘটনা ঘটে। পরদিন পুলিশ তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি জানায়। এ ঘটনায় একজনকে আটক করার খবরও প্রকাশিত হয়। 

আলম শেখের পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, তিনি আগে পোশাক কারখানায় কাজ করতেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কাজ ছেড়ে দিতে হয়েছিল তাঁকে। পরে নতুন করে জীবিকা গড়ার চেষ্টা করছিলেন। তাঁর স্ত্রী ও তিন সন্তান রয়েছে। পরিবারের দাবি, অসুস্থতার কারণে তিনি কখনো কখনো স্বাভাবিকভাবে কথা বলতে বা নিজের অবস্থান পরিষ্কার করে বোঝাতে পারতেন না।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার রাত প্রায় ১১টার দিকে আলমকে হাসপাতালের শিশু ওয়ার্ডের সামনে ঘোরাফেরা করতে দেখা যায়। সেখানে চিকিৎসাধীন শিশুদের কয়েকজন স্বজন তাঁর উপস্থিতি নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেন। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তিনি সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি—এমন দাবি তুলে একদল ব্যক্তি তাঁকে নিচে নিয়ে মারধর করেন। এতে তাঁর মৃত্যু হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। 

তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, আলম শেখ শিশু অপহরণের চেষ্টা করেছিলেন—এমন কোনো অভিযোগের সত্যতা পুলিশ নিশ্চিত করেনি। তাঁর পরিবারের দাবি, তিনি শারীরিক ও মানসিক সমস্যায় ভুগছিলেন। আঙুলের ছাপ যাচাই করে তাঁর পরিচয় নিশ্চিত করার পর পুলিশ মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠায়। 

ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে—কাউকে সন্দেহ হলেই কি আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যায়? অপরাধের সন্দেহ থাকলে তাঁকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়াই আইনসম্মত পথ। অভিযোগ সত্য কি না, তা তদন্ত ও বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হওয়ার কথা; জনতার মারধরে কারও প্রাণ কেড়ে নেওয়া কোনোভাবেই ন্যায়বিচারের বিকল্প হতে পারে না।

আলমের মৃত্যু শুধু একটি হত্যাকাণ্ডের খবর নয়; এটি গুজব, সন্দেহ এবং গণপিটুনির ভয়াবহ পরিণতির কথাও মনে করিয়ে দেয়। তিন সন্তানের এই বাবার বিরুদ্ধে ওঠা সন্দেহের সত্যতা যাচাইয়ের আগেই তাঁর জীবন শেষ হয়ে গেল। ঘটনার সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং হাসপাতালে রোগী ও স্বজনদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগ: আলম শেখগণপিটুনিতে মৃত্যুশিশু চোর সন্দেহশহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালঢাকার খবরহাসপাতালে হত্যাকাণ্ডশিশু অপহরণ সন্দেহ

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।