যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি আবেদনকারীদের জন্য কী বার্তা দিচ্ছে ট্রাম্প প্রশাসন?
ট্রাম্প প্রশাসনের হিসাবে ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। কঠোর যাচাইয়ের মধ্যে বিদেশি শিক্ষার্থী, কর্মী ও ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি কেন গুরুত্বপূর্ণ?
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন ও ভিসা নীতিতে কঠোর অবস্থান অব্যাহত রেখেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। দেশটির পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ২০ অক্টোবর প্রকাশিত এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রে যেতে ইচ্ছুক বিদেশি নাগরিক, আন্তর্জাতিক শিক্ষার্থী এবং সেখানে বসবাসরত অস্থায়ী ভিসাধারীদের মধ্যে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
মার্কিন প্রশাসনের বক্তব্য অনুযায়ী, আইন ভঙ্গ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জালিয়াতি, ভিসার শর্ত লঙ্ঘন এবং জননিরাপত্তা বা জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকির কারণে এসব ভিসা বাতিল করা হয়েছে। প্রশাসন জানিয়েছে, ভিসাধারীরা যুক্তরাষ্ট্রের আইন ও ভিসার শর্ত মেনে চলছেন কি না, তা যাচাইয়ের কার্যক্রম আরও জোরদার করা হয়েছে।
প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ভিসা বাতিলের সংখ্যা ২০২৬ সালের আগস্টে ১ লাখ ৭৫ হাজার ছাড়িয়েছিল। অক্টোবরের হিসাবে তা ৩ লাখের বেশি হয়েছে। তবে এই সংখ্যার মধ্যে কতজন বাংলাদেশি রয়েছেন, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশিত হয়নি। তাই এই পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে বাংলাদেশিদের ভিসা ব্যাপকভাবে বাতিল করা হচ্ছে—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই।
বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ও ভ্রমণকারীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ, কারণ যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পেলেই সব ধরনের অভিবাসন-সংক্রান্ত নিয়ম থেকে ছাড় পাওয়া যায় না। ভিসার ধরন অনুযায়ী অবস্থানের অনুমতি, পড়াশোনা বা কাজের শর্ত এবং প্রবেশের নিয়ম মেনে চলতে হয়। কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে অপরাধের অভিযোগ, জাল নথি বা ভিসার শর্ত ভঙ্গের প্রমাণ থাকলে তাঁর অভিবাসন-সংক্রান্ত অবস্থায় প্রভাব পড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর সেপ্টেম্বর মাসে ভিসা আবেদনকারীদের যাচাই আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দেয়। ১ অক্টোবর থেকে নির্দিষ্ট কয়েকটি অতিরিক্ত ভিসা শ্রেণির আবেদনকারীদের অনলাইন উপস্থিতি যাচাইয়ের আওতায় আনা হয়েছে। এর মধ্যে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিদের জন্য আই-শ্রেণির ভিসা এবং যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা চুক্তির আওতাভুক্ত নির্দিষ্ট পেশাজীবীদের জন্য টিএন ও তাঁদের নির্ভরশীলদের টিডি ভিসা রয়েছে। শিক্ষার্থী ও কিছু অস্থায়ী কর্মী ভিসার ক্ষেত্রেও অনলাইন যাচাই আগে থেকেই প্রযোজ্য ছিল।
এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রে পড়তে, ভ্রমণ করতে বা কাজ করতে আগ্রহীদের আবেদনপত্রে সঠিক তথ্য দেওয়া, প্রয়োজনীয় নথি সংরক্ষণ করা এবং ভিসার শর্ত সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখা জরুরি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের তথ্যও নির্দিষ্ট ভিসা শ্রেণির যাচাইয়ের অংশ হতে পারে। তবে সবার ভিসা বাতিল হবে বা প্রত্যেক আবেদনকারী একই ধরনের যাচাইয়ের মুখোমুখি হবেন—এমন নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও ভিসা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত নথির বৈধতা গুরুত্বপূর্ণ। অস্থায়ী ভিসায় থাকা ব্যক্তিদের মনে রাখা প্রয়োজন, ভিসা বাতিল, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের অনুমতি এবং দেশটিতে অবস্থানের বৈধতা এক বিষয় নয়। ব্যক্তিগত পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করে এসবের আইনি প্রভাব ভিন্ন হতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, কঠোর যাচাইয়ের লক্ষ্য আইন প্রয়োগ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। অন্যদিকে অভিবাসন অধিকার নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোর একাংশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে যে অতিরিক্ত নজরদারি ও কঠোর প্রয়োগ বৈধ অভিবাসীদের ওপরও চাপ তৈরি করতে পারে।
বাংলাদেশি পাঠকদের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিলের পরিসংখ্যানটি যুক্তরাষ্ট্রের সামগ্রিক হিসাব; এটি বাংলাদেশিদের ভিসা বাতিলের সংখ্যা নয়। যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার পরিকল্পনা থাকলে ভিসার নির্দিষ্ট শ্রেণির নিয়ম ও সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে সিদ্ধান্ত নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ।


