অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
যুক্তরাষ্ট্রে ভোটার নিবন্ধন নিয়ে মামলায় বিপাকে নাগরিকত্বপ্রত্যাশী অভিবাসীরা
মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অপেক্ষায় থাকা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দাদের বিরুদ্ধেই ভোটার নিবন্ধন নিয়ে মামলা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভবিষ্যৎ নাগরিকত্ব নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নাগরিকত্ব পাওয়ার স্বপ্ন নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন কয়েকজন অভিবাসী। কিন্তু এখন তাঁদের কেউ কেউ ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত অভিযোগে ফৌজদারি মামলার মুখোমুখি। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অবৈধ ভোটদান ঠেকানোর উদ্যোগের অংশ হিসেবে ক্যালিফোর্নিয়ায় দুই ডজনের বেশি বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ এনেছে। বিষয়টি নাগরিকত্বের আবেদনকারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
২৪ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এসব মামলার অভিযুক্তদের অনেকেই মার্কিন নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছিলেন। অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাঁদের নাগরিকত্ব পাওয়ার প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত হতে পারে। অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কারও কারও ক্ষেত্রে কারাদণ্ড বা অভিবাসনসংক্রান্ত জটিলতার ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ায় শনাক্ত ২৮টি মামলার মধ্যে ১০টি মামলায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষ অভিযোগ দায়ের করেছে। অভিযোগগুলোর মধ্যে রয়েছে অবৈধ ভোটদান, মিথ্যা তথ্য দেওয়া এবং অভিবাসনসংক্রান্ত জালিয়াতি। তবে অভিযোগ আনা মানেই কেউ অপরাধ করেছেন—এমন নয়। প্রত্যেক অভিযুক্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ আদালতে প্রমাণ করতে হবে।
এই মামলাগুলোর কয়েকটিতে অভিযুক্তরা দাবি করেছেন, তাঁরা জেনেশুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি। তাঁদের কেউ কেউ বলেছেন, ড্রাইভিং লাইসেন্স নেওয়া বা নবায়নের সময় ভোটার নিবন্ধনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ভুল বুঝেছিলেন। অন্যদের ক্ষেত্রে নাগরিকত্বের যোগ্যতা নিয়ে বিভ্রান্তি বা নির্বাচনী চিঠিপত্রের ভুল ব্যাখ্যার কথা উঠে এসেছে। একজন অভিযুক্ত হোসে আন্তোনিও বানুয়েলোস-দিয়াজ বলেছেন, তিনি জেনে-শুনে ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি এবং কখনো ভোটও দেননি।
যুক্তরাষ্ট্রে সাধারণত মার্কিন নাগরিকরাই ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দিতে পারেন। বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা বা গ্রিন কার্ডধারীরা সাধারণত ফেডারেল নির্বাচনে ভোট দেওয়ার যোগ্য নন। তাই নাগরিকত্ব না পাওয়া পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত কোনো ভুল বা অস্পষ্টতা থাকলে তা গুরুত্বের সঙ্গে দেখা প্রয়োজন। তবে কারও নাম ভোটার তালিকায় থাকা এবং তিনি জেনেশুনে অবৈধভাবে ভোট দিয়েছেন—দুটি এক বিষয় নয়।
ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, নির্বাচনে কেবল যোগ্য নাগরিকদের ভোটাধিকার নিশ্চিত করা প্রয়োজন। অন্যদিকে নাগরিক অধিকারকর্মীরা সতর্ক করছেন, ভোটার তালিকা যাচাইয়ের উদ্যোগে প্রকৃত অপরাধের তদন্তের পাশাপাশি ভুল নিবন্ধন বা প্রশাসনিক বিভ্রান্তির ঘটনাও যেন অন্যায়ভাবে শাস্তির কারণ না হয়। অবৈধভাবে অ-নাগরিকদের ভোট দেওয়ার ঘটনা বিরল এবং তা নির্বাচনের ফল বদলে দিয়েছে—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ক্যালিফোর্নিয়ায় প্রায় ২০ হাজার নিবন্ধিত ভোটারের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ফেডারেল সরকারের সঙ্গে রাজ্য কর্তৃপক্ষের বিরোধও চলছে। এর ফলে ভোটার তালিকা, নাগরিকত্ব যাচাই এবং নির্বাচনী নিরাপত্তা নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি গ্রিন কার্ডধারীদের জন্যও এই খবর গুরুত্বপূর্ণ। নাগরিকত্বের আবেদনকারী বা স্থায়ী বাসিন্দাদের উচিত ভোটার নিবন্ধনসংক্রান্ত নিয়ম ভালোভাবে বুঝে নেওয়া, কোনো ফর্ম পূরণের সময় নাগরিকত্বের অবস্থা সঠিকভাবে জানানো এবং সন্দেহ থাকলে সংশ্লিষ্ট নির্বাচনী দপ্তর বা যোগ্য আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া। ভুল করে কোনো নিবন্ধন হয়ে থাকলে তা গোপন না করে দ্রুত যথাযথ আইনি পরামর্শ নেওয়া ভালো।
এই ঘটনা যুক্তরাষ্ট্রে একটি বড় প্রশ্ন সামনে এনেছে: অবৈধ ভোটদান ঠেকানোর প্রচেষ্টায় কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, যাতে প্রকৃত অপরাধের তদন্ত হয়, আবার ভুল বা অনিচ্ছাকৃত নিবন্ধনের কারণে নাগরিকত্বের স্বপ্ন দেখা বৈধ অভিবাসীরা অন্যায্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত না হন? মামলাগুলোর পরবর্তী বিচারিক অগ্রগতি এই প্রশ্নের উত্তর দিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের তদন্তে আদালতের বাধা, ৯ অঙ্গরাজ্যে নতুন পরিস্থিতি

আবদুল এল-সাইয়েদকে ঘিরে বিতর্ক, মুসলিম পরিচয় নিয়ে উত্তপ্ত যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন

একই নামের দুই প্রার্থীকে ঘিরে বিতর্ক, আলাস্কার নির্বাচন ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা



