নিউ জার্সিতে আইসিইর অভিযানে একাধিক ব্যক্তি আটক, ধাক্কাধাক্কির অভিযোগের পর বিক্ষোভ
কর্মীদের বহনকারী গাড়ি ঘিরে অভিযান, ক্লিফটন ও কিয়ার্নিতে আটক ঘিরে উদ্বেগ; মঙ্গলবার রাতে জরুরি বিক্ষোভে যোগ দেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি অঙ্গরাজ্যে অভিবাসন ও শুল্ক প্রয়োগ সংস্থার (আইসিই) অভিযানে একাধিক ব্যক্তিকে আটক করার ঘটনাকে কেন্দ্র করে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ ও প্রতিবাদ দেখা দিয়েছে। মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর সকালে ক্লিফটন শহরের ক্লিফটন অ্যাভিনিউতে একটি ধূসর রঙের গাড়ি ঘিরে ফেডারেল এজেন্টদের অভিযান চালানোর দৃশ্য নজরদারি ক্যামেরায় ধরা পড়ে। পরে ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে মঙ্গলবার রাতেই স্থানীয় বাসিন্দারা জরুরি বিক্ষোভে অংশ নেন। বুধবার প্রকাশিত প্রতিবেদনে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সংবাদমাধ্যম পিক্স ইলেভেনের বরাত দিয়ে এসব তথ্য জানিয়েছে এওএল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, নজরদারি ক্যামেরার ভিডিওতে দেখা যায়, একাধিক গাড়ি ধূসর রঙের একটি গাড়িকে ঘিরে রেখেছে। মুখ ঢাকা কয়েকজন এজেন্ট গাড়ি থেকে লোকজনকে নামিয়ে নিয়ে যান।প্রত্যক্ষদর্শীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন, ওই গাড়িতে কর্মীরা ছিলেন এবং অভিযানে প্রায় সাত থেকে দশজনকে আটক করা হয়ে থাকতে পারে। তবে আটক ব্যক্তিদের সঠিক সংখ্যা, পরিচয়, জাতীয়তা এবং তাঁদের বিরুদ্ধে কী অভিযোগ রয়েছে, তা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যে নিশ্চিত করা যায়নি। ফলে প্রত্যক্ষদর্শীদের দেওয়া সংখ্যাকে চূড়ান্ত হিসাব হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
ঘটনার সময় আশপাশের বাসিন্দারা আটক ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেন এবং মোবাইল ফোনে পুরো পরিস্থিতি ধারণ করতে থাকেন। প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে এজেন্টরা কয়েকবার বিক্ষোভকারীদের পেছনে সরিয়ে দেন। ঘটনাটি স্থানীয় অভিবাসী পরিবার ও কর্মজীবী মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। তবে অভিযানের নির্দিষ্ট কারণ এবং আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী অবস্থান সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত হয়নি।
পিক্স ইলেভেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাগুলোর বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগকে মন্তব্যের জন্য যোগাযোগ করা হয়েছিল। বুধবার সকাল পর্যন্ত তাদের কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযানের উদ্দেশ্য, আটক ব্যক্তিদের অভিবাসনসংক্রান্ত অবস্থা এবং তাঁদের আইনগত সহায়তা পাওয়ার সুযোগ সম্পর্কে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য এখনো অনুপস্থিত।
নিউ জার্সিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতেও অভিবাসন অভিযান ও আটককেন্দ্র ঘিরে প্রতিবাদ হয়েছে। বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালের মে মাসের শেষ দিক থেকে নিউয়ার্কের ডেলানি হল অভিবাসন আটককেন্দ্রের বাইরে বিক্ষোভের সময় ৮০ জনের বেশি বিক্ষোভকারী গ্রেপ্তার হয়েছেন। আটক ব্যক্তিদের খাবার, চিকিৎসাসেবা ও থাকার পরিবেশ নিয়ে অভিযোগের পর সেখানে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে। আটককেন্দ্র পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং প্রশাসনও কেন্দ্রের পরিস্থিতি নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছে।
অন্যদিকে, অক্টোবরের শুরুতে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় গণমাধ্যম এনপিআর জানায়, নিউ জার্সির রক্সবেরি এলাকার একটি গুদামের পার্কিং স্থানে সেপ্টেম্বরে দুই দফায় মোট ১৪ জন আটক অভিবাসীকে প্রাথমিক প্রক্রিয়াকরণের জন্য নেওয়া হয়েছিল বলে স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ কংগ্রেস সদস্য আনালিলিয়া মেহিয়ার কার্যালয়কে জানিয়েছে। ওই স্থাপনাকে আটককেন্দ্রে রূপান্তরের পরিকল্পনা নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিবাসন অধিকারকর্মীদের আপত্তি এবং আইনি বিরোধও রয়েছে।
তবে রক্সবেরির ঘটনা, নিউয়ার্কের আটককেন্দ্রের প্রতিবাদ এবং ক্লিফটন ও কিয়ার্নির সাম্প্রতিক অভিযান পৃথক ঘটনা। এগুলোকে একই অভিযান হিসেবে দেখার কোনো নিশ্চিত প্রমাণ নেই।
নিউ জার্সির সর্বশেষ ঘটনায় এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো—কতজনকে আটক করা হয়েছে, তাঁদের কোথায় নেওয়া হয়েছে, তাঁদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ রয়েছে কি না এবং অভিযানের আইনগত ভিত্তি কী। সংশ্লিষ্ট ফেডারেল কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রকাশিত হলে এসব বিষয়ে আরও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যেতে পারে।





