ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলে গুলির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই কিশোরী গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় বিদ্যালয়ে গুলির পরিকল্পনার অভিযোগে ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরী গ্রেপ্তার হয়েছে, তদন্তকারীরা বলছেন, তল্লাশিতে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি।
ক্যালিফোর্নিয়ায় স্কুলে গুলির ষড়যন্ত্রের অভিযোগে দুই কিশোরী গ্রেপ্তার, তদন্তে নতুন তথ্য প্রকাশ
৭,৫৩৫ বার পড়া হয়েছে ৪ মিনিটে পড়ুন
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের রিভারসাইড কাউন্টিতে একটি বিদ্যালয়ে গুলি চালানোর কথিত পরিকল্পনা সামনে আসার পর ব্যাপক উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় ১৫ বছর বয়সী দুই কিশোরীকে গ্রেপ্তার করেছে স্থানীয় পুলিশ। তদন্তকারীদের দাবি, তারা কয়েক মাস ধরে বিদ্যালয়ে গুলি চালানোর বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে গবেষণা করছিল এবং করোনা হাই স্কুলে সম্ভাব্য হামলার পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা করেছিল। তবে তাদের পরিকল্পনা বাস্তবায়নের নির্দিষ্ট তারিখ জানা যায়নি। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্তদের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কোনো অস্ত্র পাওয়া যায়নি। করোনা পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত বিবৃতি অনুযায়ী, গত ৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা স্থানীয় পুলিশকে জানায়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে করোনা হাই স্কুলকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য সহিংসতার হুমকিসংক্রান্ত কথোপকথন শনাক্ত করা হয়েছে। ওই তথ্যের ভিত্তিতে স্থানীয় পুলিশ তদন্ত শুরু করে এবং বিদ্যালয়টির এক শিক্ষার্থীকে গ্রেপ্তার করে। পরে তদন্তের পরিধি বাড়ানো হয়। গোয়েন্দারা রিভারসাইড কাউন্টির একাধিক বাসায় তল্লাশি চালান এবং বিভিন্ন বৈদ্যুতিন যন্ত্র ও যোগাযোগের তথ্য পরীক্ষা করেন। এসব তদন্তের সূত্র ধরে দ্বিতীয় এক কিশোরীর পরিচয় পাওয়া যায়। তার বয়সও ১৫ বছর এবং সে নরকো হাই স্কুলের শিক্ষার্থী। পরবর্তী সময়ে তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়। দুই শিক্ষার্থী আলাদা বিদ্যালয়ে পড়লেও তদন্তকারীদের অভিযোগ, তাদের কথোপকথনে করোনা হাই স্কুলে হামলার পরিকল্পনার তথ্য উঠে এসেছে। পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, দুই কিশোরী কয়েক মাস ধরে অতীতে সংঘটিত বিদ্যালয়ে গুলির ঘটনাগুলো নিয়ে অনুসন্ধান করেছিল। তাদের মধ্যে সম্ভাব্য হামলা কীভাবে চালানো যেতে পারে এবং অস্ত্র কীভাবে সংগ্রহ করা যায়, তা নিয়ে আলোচনা হয়েছিল বলে তদন্তকারীরা দাবি করেছেন। তবে অস্ত্র সংগ্রহে তারা সফল হয়েছিল—এমন প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তদন্তের অংশ হিসেবে একাধিক বাড়িতে তল্লাশি চালিয়েও কোনো অস্ত্র উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি বলে পুলিশ জানিয়েছে। ঘটনাটির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, তদন্তকারীদের হাতে আসা তথ্যের ভিত্তিতে হামলার পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী পদক্ষেপ নিতে পেরেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় তদন্ত সংস্থা, করোনা পুলিশ বিভাগ, রিভারসাইড কাউন্টি শেরিফের কার্যালয় এবং স্থানীয় বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয়ের মাধ্যমে তদন্ত পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবিসি সেভেনের প্রতিবেদনে করোনা পুলিশ বিভাগের লেফটেন্যান্ট রবার্ট মন্টানেজের বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তদন্তে কয়েকজন ব্যক্তির নামসংবলিত একটি তালিকার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে তদন্তকারীদের ধারণা, পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য ছিল বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ। প্রতিশোধ নেওয়ার মানসিকতা এ ঘটনার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেছেন। কিন্তু ঠিক কী কারণে দুই কিশোরী এমন পরিকল্পনা করেছিল, তা এখনো নিশ্চিতভাবে প্রকাশ করা হয়নি। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তিগত বিরোধ, হয়রানি কিংবা বিদ্যালয়সংক্রান্ত ঘটনার সঙ্গে পরিকল্পনাটির যোগসূত্র ছিল কি না, সে বিষয়েও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানা যায়নি।
ঘটনার তদন্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্যের গুরুত্ব বিশেষভাবে আলোচনায় এসেছে। অনলাইনে সহিংসতার হুমকি, অন্যদের সঙ্গে এ ধরনের পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা কিংবা অতীতের হামলার ঘটনা অনুসন্ধানের মতো আচরণ কখনো কখনো সম্ভাব্য বিপদের আগাম ইঙ্গিত দিতে পারে। এ ঘটনায় অনলাইনে শনাক্ত হওয়া কথোপকথনের তথ্য তদন্তকারীদের কাছে পৌঁছানোর পর দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া সম্ভব হয়েছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে অনলাইনে কোনো সহিংস বিষয় অনুসন্ধান করলেই যে কেউ অপরাধের পরিকল্পনা করছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক নয়। তদন্তকারীরা এখানে শুধু একটি বিচ্ছিন্ন অনুসন্ধানের কথা বলেননি; বরং কয়েক মাসের কথোপকথন, সম্ভাব্য হামলা নিয়ে আলোচনা এবং অস্ত্র সংগ্রহের প্রচেষ্টা সম্পর্কে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে অভিযোগ এনেছেন। এসব তথ্যের গ্রহণযোগ্যতা এবং অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অভিযোগের আইনি ভিত্তি বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে।
দুই কিশোরীর বিরুদ্ধে হত্যার ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়েছে এবং করোনা পুলিশ বিভাগের ২০ অক্টোবর প্রকাশিত বিবৃতিতে বলা হয়েছে, তারা তখনো হেফাজতে ছিল। রিভারসাইড কাউন্টির জেলা অ্যাটর্নির কার্যালয় মামলাটি পর্যালোচনা করছে। অর্থাৎ গ্রেপ্তার ও অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত হলেও আদালতে তাদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন তথ্য নেই। অভিযুক্তরা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি। এ ঘটনার পর শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বিদ্যালয়সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিদ্যালয়ে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষক, প্রশাসন এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মধ্যে যোগাযোগ বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। কোনো শিক্ষার্থী সহিংসতার হুমকি দিলে, কাউকে আক্রমণের কথা বললে কিংবা অন্যদের ক্ষতি করার পরিকল্পনা নিয়ে উদ্বেগজনক তথ্য জানালে সেটিকে অবহেলা না করার পরামর্শ দিয়েছে পুলিশ। অভিভাবকদের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কিশোর-কিশোরীদের মানসিক চাপ, ব্যক্তিগত দ্বন্দ্ব এবং অনলাইনে তাদের আচরণের পরিবর্তন সম্পর্কে সচেতন থাকা। কোনো সমস্যায় পড়লে শিক্ষার্থীরা যেন শিক্ষক, অভিভাবক কিংবা উপযুক্ত সহায়তাকারীর কাছে নির্ভয়ে কথা বলতে পারে, সে পরিবেশ তৈরি করাও জরুরি। একই সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া অসমর্থিত অভিযোগ বা গুজবের ভিত্তিতে কাউকে দোষী সাব্যস্ত করা উচিত নয়।
ঘটনাটির সঙ্গে ওরেগনের একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক গুলির ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। প্রাথমিকভাবে সরবরাহ করা তথ্যে দুটি ঘটনার সময়ের কাছাকাছি অবস্থানের কথা উল্লেখ করা হলেও, নির্ভরযোগ্য পুলিশি বিবৃতি ও পর্যালোচিত সংবাদপ্রতিবেদনে করোনা হাই স্কুলের কথিত পরিকল্পনার সঙ্গে ওরেগনের ঘটনার কোনো সরাসরি যোগসূত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি। তাই দুটি ঘটনাকে একই পরিকল্পনা বা পারস্পরিকভাবে সম্পর্কিত ঘটনা হিসেবে উপস্থাপন করা সমীচীন হবে না।