ট্রাম্পের জনপ্রিয়তার পরীক্ষা, ৩ নভেম্বরের ভোটে কি কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারাবে রিপাবলিকানরা?
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা, মূল্যস্ফীতি ও ইরান যুদ্ধ নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক জোরালো হচ্ছে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ হারানোর আশঙ্কায় রিপাবলিকান শিবিরে বাড়ছে নির্বাচনী চাপ।
যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ মোড় আসতে পারে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্ব, অর্থনৈতিক নীতি এবং আন্তর্জাতিক পরিস্থিতি এখন নির্বাচনী প্রচারের কেন্দ্রে রয়েছে। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার মুখে পড়তে হচ্ছে বলে সাম্প্রতিক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা ট্রাম্পকে কেন্দ্র করে প্রচার চালাচ্ছেন। ১ সেপ্টেম্বর থেকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী ও তাঁদের সমর্থক গোষ্ঠীগুলো ট্রাম্পের নাম উল্লেখ করে টেলিভিশন বিজ্ঞাপনে ১৬৩ মিলিয়ন ডলারের বেশি ব্যয় করেছে। এসব বিজ্ঞাপন প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজারবার সম্প্রচারিত হয়েছে। বিপরীতে, একই সময়ে রিপাবলিকানদের বিজ্ঞাপনে ট্রাম্পের উল্লেখ ছিল তুলনামূলকভাবে অনেক কম।
ডেমোক্র্যাটরা মূলত জীবনযাত্রার ব্যয়, শুল্কনীতি, স্বাস্থ্যসেবা এবং ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের অবস্থানকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে। তাদের বক্তব্য, এসব নীতির কারণে সাধারণ মানুষের ব্যয় বেড়েছে এবং সরকারের সিদ্ধান্তের জবাবদিহি প্রয়োজন। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা করনীতি, অপরাধ দমন ও অন্যান্য অভ্যন্তরীণ বিষয় সামনে রেখে ভোটারদের সমর্থন ধরে রাখার চেষ্টা করছে।
১৫ অক্টোবর প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরকের জরিপেও রিপাবলিকানদের জন্য সতর্কবার্তা উঠে এসেছে। জরিপে অংশ নেওয়া ভোটারদের বড় অংশ ওয়াশিংটনে রাজনৈতিক পরিবর্তন চেয়েছেন। অর্থনীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় নিয়ে অসন্তোষের পাশাপাশি ট্রাম্পের পররাষ্ট্রনীতিও ভোটারদের মনোভাবকে প্রভাবিত করছে। তবে জনমত জরিপ নির্বাচনের ফল নিশ্চিত করে না।
জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যেও নির্বাচনী উত্তাপ বেড়েছে। ১৬ অক্টোবর ডালটনে ট্রাম্প রিপাবলিকান প্রার্থীদের সমর্থনে সমাবেশ করেন। সেখানে সিনেট প্রার্থী মাইক কলিন্স ও গভর্নর পদপ্রার্থী রিক জ্যাকসনের পক্ষে প্রচার চালানো হয়। জর্জিয়া এবারের নির্বাচনে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর একটি। ডেমোক্র্যাটদের শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতা এবং রিপাবলিকান দলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য নির্বাচনী লড়াইকে আরও জটিল করে তুলেছে।
এই নির্বাচনের গুরুত্ব শুধু প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক অবস্থানের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটে কোন দল সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে, তার ওপর ভবিষ্যৎ আইন প্রণয়ন, অভিবাসননীতি, স্বাস্থ্যসেবা, কর এবং সরকারি ব্যয়ের সিদ্ধান্ত নির্ভর করতে পারে। কংগ্রেসে বিরোধী দলের নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠিত হলে প্রেসিডেন্টের আইনগত কর্মসূচি বাস্তবায়ন কঠিন হতে পারে। আবার রিপাবলিকানরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে পারলে প্রশাসনের নীতিগত উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ বাড়বে।
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসী ও প্রবাসী পরিবারগুলোর জন্যও নির্বাচনটি গুরুত্বপূর্ণ। অভিবাসন আইন, ভিসা, কর্মসংস্থান, স্বাস্থ্যবিমা, কর এবং বাড়িভাড়ার মতো বিষয় নিয়ে ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত তাঁদের জীবনে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল ঘোষণার আগে এসব নীতিতে কী পরিবর্তন আসবে, তা নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের ভোটগ্রহণ হবে ৩ নভেম্বর। এর আগে প্রার্থীদের প্রচার, ভোটার উপস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গরাজ্যগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা নির্বাচনের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। এখন পর্যন্ত কোনো দলই জয় নিশ্চিত করতে পারেনি।





