নতুন প্রশাসনই যথেষ্ট! যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পের বড় দাবি
''আমাদের দক্ষিণ সীমান্তে এখন আর ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ নেই”—ট্রাম্প প্রশাসনের এমন দাবির পেছনে রয়েছে সীমান্তে আটক হওয়ার সংখ্যা কমে যাওয়ার তথ্য। তবে এর অর্থ এই নয় যে অবৈধ সীমান্ত পারাপার পুরোপুরি বন্ধ হয়ে গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে অভিবাসন নিয়ন্ত্রণে বড় পরিবর্তনের দাবি করেছে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। মার্কিন স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ এবং কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশন (সিবিপি) জানিয়েছে, ২০২৬ অর্থবছরে মেক্সিকো সীমান্ত দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা আগের বছরগুলোর তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। একই সঙ্গে সীমান্ত টহল বাহিনী আটক ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ছেড়ে না দেওয়ার নীতিও কার্যকর রেখেছে বলে প্রশাসনের দাবি।
১৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রাথমিক সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ অর্থবছরে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে সীমান্ত টহল বাহিনীর হাতে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা ছিল ৯৮ হাজার ৭০৮। যুক্তরাষ্ট্রের অর্থবছর ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর থেকে ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বিস্তৃত। সরকারি হিসাব অনুযায়ী, আগের প্রশাসনের সময় সীমান্তে আটক হওয়ার সংখ্যা এর তুলনায় অনেক বেশি ছিল। ২০২৩ অর্থবছরে দক্ষিণ-পশ্চিম সীমান্তে এই সংখ্যা ছিল প্রায় ২৪ লাখ ৭৬ হাজার।
ট্রাম্প প্রশাসন এই পরিবর্তনের পেছনে কঠোর সীমান্ত নজরদারি, অভিবাসন আইন প্রয়োগ, আটক ও বহিষ্কারের ব্যবস্থা এবং আশ্রয়প্রার্থীদের প্রবেশসংক্রান্ত নীতিকে প্রধান কারণ হিসেবে তুলে ধরেছে। প্রশাসনের বক্তব্য, কঠোর ব্যবস্থার কারণে মানব পাচারকারী চক্রের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং অবৈধভাবে সীমান্ত পার হওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে সম্ভাব্য অভিবাসীদের কাছে কঠোর বার্তা পৌঁছেছে।
এখানে ‘ক্যাচ অ্যান্ড রিলিজ’ বলতে সাধারণত সীমান্তে অবৈধভাবে প্রবেশের চেষ্টায় আটক ব্যক্তিদের নির্দিষ্ট আইনি প্রক্রিয়ার অধীনে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে সাময়িকভাবে ছেড়ে দেওয়ার ব্যবস্থাকে বোঝানো হয়। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, সীমান্ত টহল বাহিনী টানা ১৬ মাস কোনো অভিবাসীকে এভাবে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে ছেড়ে দেয়নি। তবে এই দাবির অর্থ এই নয় যে সীমান্ত দিয়ে কেউ প্রবেশ করতে পারেনি অথবা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য কোনো সংস্থা আটক ব্যক্তিদের কখনো মুক্তি দেয়নি।
সিবিএস নিউজের আগের একটি তথ্য যাচাই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সীমান্ত টহল বাহিনীর মাধ্যমে কাউকে ছেড়ে না দেওয়া এবং দেশটিতে কোনো অবৈধ প্রবেশ না ঘটার দাবি এক বিষয় নয়। কিছু মানুষ কর্তৃপক্ষের নজর এড়িয়ে সীমান্ত অতিক্রম করতে পারে। আবার সীমান্তে আটক হওয়ার পর অন্য সংস্থার হেফাজতে যাওয়া ব্যক্তিদের আইনি অবস্থাও আলাদা হতে পারে। তাই শুধু সীমান্তে কাউকে ছেড়ে না দেওয়ার তথ্য দিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধভাবে প্রবেশের সব ঘটনা বন্ধ হয়েছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যায় না।
অন্যদিকে, সীমান্তে আটক হওয়ার সংখ্যা কমে যাওয়া অভিবাসন নীতির বাস্তব প্রভাব মূল্যায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক। তবে এর পেছনে শুধু যুক্তরাষ্ট্রের নীতিই কাজ করেছে, এমন সিদ্ধান্তও সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা দরকার। মেক্সিকোর সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ জোরদার করা, অভিবাসীদের যাত্রাপথের পরিবর্তন এবং নিজ নিজ দেশে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও সীমান্ত পারাপারের সংখ্যাকে প্রভাবিত করতে পারে।
আমেরিকায় বসবাসরত বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে যাঁরা ভিসা, আশ্রয় আবেদন, পরিবারের সদস্যদের যুক্তরাষ্ট্রে আনা অথবা বৈধ অভিবাসন প্রক্রিয়া নিয়ে কাজ করছেন, তাঁদের ক্ষেত্রে বর্তমান আইন ও সরকারি নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি। সীমান্তে কঠোরতা বাড়ার খবরকে বৈধ ভিসা বা অভিবাসন আবেদনের নিয়ম পরিবর্তনের সঙ্গে এক করে দেখা উচিত নয়।
২০২৬ অর্থবছরের সরকারি প্রাথমিক পরিসংখ্যান যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ সীমান্তে আটক হওয়ার সংখ্যা ব্যাপকভাবে কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে। ট্রাম্প প্রশাসন এটিকে তাদের অভিবাসন নীতির সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছে। তবে সীমান্তে আটক হওয়া মানুষের সংখ্যা, যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের প্রকৃত সংখ্যা এবং আটক ব্যক্তিদের পরবর্তী আইনি অবস্থান আলাদা সূচক। পুরো পরিস্থিতি বুঝতে এসব তথ্য একসঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন।





