যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে বড় পরিবর্তনের ইঙ্গিত, নতুন কর্মীদের জন্য কী অর্থ?
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি হারানোর আবেদন ঐতিহাসিকভাবে কম থাকলেও নতুন নিয়োগে গতি দুর্বল। চাকরিপ্রার্থী ও বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য শ্রমবাজারের এই তথ্য গুরুত্বপূর্ণ।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরির বাজারে এমন এক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যেখানে একদিকে চাকরি হারানোর আবেদন তুলনামূলকভাবে কম, অন্যদিকে নতুন কর্মী নিয়োগের গতি দুর্বল। সর্বশেষ সরকারি পরিসংখ্যানের ভিত্তিতে প্রকাশিত Reuters ও Associated Press-এর প্রতিবেদন বলছে, ১০ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে বেকার ভাতার জন্য নতুন আবেদন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৯ হাজারে। আগের সপ্তাহের তুলনায় এই সংখ্যা বেড়েছে মাত্র এক হাজার। একই সময়ে চার সপ্তাহের গড় আবেদন বেড়ে হয়েছে ১ লাখ ৯৮ হাজার ৫০০।
এই পরিসংখ্যানের অর্থ হলো, যুক্তরাষ্ট্রের অনেক প্রতিষ্ঠান এখনো তাদের বর্তমান কর্মীদের ধরে রাখছে। তবে নতুন কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে আগের মতো গতি দেখা যাচ্ছে না। অর্থনীতিবিদেরা শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতিকে ‘লো-হায়ার, লো-ফায়ার’ হিসেবে বর্ণনা করছেন—অর্থাৎ কর্মী ছাঁটাই কম, কিন্তু নতুন নিয়োগও সীমিত।
বাংলাদেশি অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। যারা রেস্টুরেন্ট, হোটেল, দোকান, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন, অফিস কিংবা প্রযুক্তি খাতে কাজ খুঁজছেন, তাদের জন্য শুধু চাকরির বিজ্ঞাপন দেখা যথেষ্ট নয়; কোন প্রতিষ্ঠানে বাস্তবে নিয়োগ চলছে, কী যোগ্যতা চাওয়া হচ্ছে এবং কাজের অনুমতি প্রয়োজন কি না, তা যাচাই করাও জরুরি। তবে এই পরিসংখ্যান থেকে বলা যায় না যে বাংলাদেশিরাই বেশি চাকরির সংকটে পড়েছেন। প্রতিবেদনে বাংলাদেশি কর্মীদের আলাদা কোনো পরিসংখ্যান দেওয়া হয়নি।
যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে নতুন চাকরি তৈরির গতিও উদ্বেগের বিষয়। Associated Press-এর তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে মার্কিন নিয়োগকর্তারা মাত্র ২৯ হাজার নতুন চাকরি যোগ করেছেন, যেখানে আগস্টে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৩৩ হাজার। সেপ্টেম্বরের বেকারত্বের হার ছিল ৪ দশমিক ২ শতাংশ। অর্থাৎ বেকার ভাতার আবেদন কম থাকলেও চাকরি পাওয়ার সুযোগ সবার জন্য সমানভাবে সহজ এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যাবে না।
কিছু প্রতিষ্ঠানে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তিতে বিনিয়োগ বাড়ায় উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি পাচ্ছে। Reuters-এর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অর্থনৈতিক পর্যালোচনায় কয়েকটি অঞ্চলে প্রতিষ্ঠানগুলোর নিয়োগ পিছিয়ে দেওয়া, কর্মীসংখ্যা স্বাভাবিকভাবে কমতে দেওয়া কিংবা ভবিষ্যতে কম কর্মী নিয়োগের পরিকল্পনার কথা উঠে এসেছে। একই সঙ্গে বিশেষায়িত, প্রযুক্তিগত ও দক্ষ কারিগরি পেশায় কর্মীর ঘাটতিও রয়েছে। ফলে সব খাতে চাকরির পরিস্থিতি এক রকম নয়।
চাকরিপ্রার্থীদের জন্য বাস্তব করণীয় হলো—নিজের অভিজ্ঞতা অনুযায়ী জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ করা, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ক্যারিয়ার পেজে আবেদন করা, দক্ষতা বাড়ানো এবং চাকরির শর্ত ভালোভাবে পড়া। অভিবাসন-সংক্রান্ত কাজের অনুমতি থাকলে সেটির মেয়াদ ও সীমাবদ্ধতাও বুঝে নিতে হবে। কোনো চাকরির নিশ্চয়তা দিয়ে অগ্রিম টাকা চাইলে সতর্ক থাকা উচিত।
যুক্তরাষ্ট্রে চাকরি খুঁজছেন এমন বাংলাদেশিদের জন্য এই খবরের মূল বার্তা হলো: শ্রমবাজারে ব্যাপক ছাঁটাইয়ের স্পষ্ট সংকেত নেই, কিন্তু নতুন নিয়োগের গতি দুর্বল। তাই চাকরির সুযোগ খোঁজার সময় নির্ভরযোগ্য বিজ্ঞপ্তি, প্রয়োজনীয় যোগ্যতা এবং কাজের বৈধ অনুমতির বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন।





