যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাওয়ায় ট্রাম্পের নীতির সমালোচনায় ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির কথা তুলে ধরে সরকারের সাফল্যের পক্ষে যুক্তি দিচ্ছে হোয়াইট হাউস।
যুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতির নতুন পরিসংখ্যান প্রকাশের পর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলে তাঁর প্রশাসনকে কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছেন ডেমোক্র্যাট নেতারা। তাঁদের বক্তব্য, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির কথা বললেই সাধারণ মানুষের আর্থিক সংকটের বাস্তবতা আড়াল করা যায় না। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও সরকারের নীতিগত অগ্রগতির কথা সামনে এনে বিরোধীদের সমালোচনার জবাব দিচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ফক্স বিজনেসের ১৫ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে এই রাজনৈতিক বিতর্কের কথা উঠে এসেছে। বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশ করা ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বর মাসের ভোক্তা মূল্যসূচকের তথ্য। বুধবার, ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে দেখা গেছে, সেপ্টেম্বর মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ঋতুভিত্তিক সমন্বয়ের পর শূন্য দশমিক ছয় শতাংশ বেড়েছে। আগস্ট মাসে এই বৃদ্ধির হার ছিল শূন্য দশমিক চার শতাংশ। আর গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে তিন দশমিক সাত শতাংশ। আগস্টে বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার ছিল তিন দশমিক চার শতাংশ। অর্থাৎ, মূল্যস্ফীতির গতি আবারও বেড়েছে।
এই পরিসংখ্যান ট্রাম্প প্রশাসনের জন্য রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এসেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ, সরকারের অর্থনৈতিক নীতি এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হয়ে উঠেছে। দ্রব্যমূল্য ও জ্বালানির খরচ নিয়ে মানুষের অসন্তোষকে কাজে লাগাতে চাইছে ডেমোক্র্যাটরা। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা অর্থনীতির সামগ্রিক অগ্রগতি, কর্মসংস্থান এবং সরকারের উন্নয়নমূলক পদক্ষেপের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে চাইছে। ফলে মূল্যস্ফীতির নতুন তথ্য কেবল অর্থনৈতিক আলোচনাতেই সীমাবদ্ধ নেই; এটি নির্বাচনী প্রচারেরও অন্যতম প্রধান বিষয় হয়ে উঠেছে।
ডেমোক্র্যাটদের অভিযোগ, ট্রাম্প প্রশাসন মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যথেষ্ট কার্যকর পদক্ষেপ নিতে পারেনি। তাঁদের দৃষ্টিতে, অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির পরিসংখ্যান দিয়ে সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন ব্যয়ের চাপের বিষয়টি এড়িয়ে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাজারে পণ্য কেনা, গাড়িতে জ্বালানি ভরা, বাসাভাড়া দেওয়া এবং বিভিন্ন পরিষেবার বিল পরিশোধ করতে গিয়ে পরিবারগুলোকে যে অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে, সেটিই তাঁদের কাছে অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বোঝার প্রধান মাপকাঠি। মূল্যস্ফীতি বাড়লে আয় একই গতিতে না বাড়ার কারণে পরিবারের সঞ্চয় কমে যেতে পারে এবং মাসের শেষ দিকে ব্যয় সামলানো কঠিন হয়ে পড়ে। তবে ডেমোক্র্যাটদের রাজনৈতিক বক্তব্য এবং সরকারি পরিসংখ্যানের মধ্যে পার্থক্য বোঝা জরুরি। ট্রাম্পকে ‘সম্পূর্ণ ব্যর্থ’ আখ্যা দেওয়া একটি রাজনৈতিক মূল্যায়ন, কোনো সরকারি পরিসংখ্যানের সিদ্ধান্ত নয়। একইভাবে, হোয়াইট হাউসের প্রবৃদ্ধির দাবি দিয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সাফল্য প্রমাণ করা যায় না। অর্থনীতির প্রকৃত অবস্থা বুঝতে মূল্যবৃদ্ধি, মোট উৎপাদন, কর্মসংস্থান, মজুরি, ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা এবং পরিবারের ব্যয়ের মতো একাধিক সূচক একসঙ্গে বিবেচনা করতে হয়। সেপ্টেম্বরের প্রতিবেদনে সবচেয়ে বেশি উদ্বেগ তৈরি করেছে জ্বালানির দাম। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ওই মাসে যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রলের দাম আগের মাসের তুলনায় নয় দশমিক এক শতাংশ বেড়েছে। সামগ্রিক ভোক্তা মূল্যসূচকের মাসিক বৃদ্ধির অর্ধেকেরও বেশি এসেছে পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধি থেকে। একই সময়ে জ্বালানির সামগ্রিক মূল্যসূচক বেড়েছে পাঁচ দশমিক দুই শতাংশ। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় এ বছর সেপ্টেম্বরে জ্বালানির দাম বেড়েছে বিশ দশমিক চার শতাংশ। পেট্রলের বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধির হার দাঁড়িয়েছে চৌত্রিশ দশমিক দুই শতাংশে।
জ্বালানির দাম বাড়ার প্রভাব শুধু গাড়ির মালিকদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। যুক্তরাষ্ট্রে পণ্য পরিবহনের বড় অংশ সড়কপথে সম্পন্ন হয়। ফলে জ্বালানির ব্যয় বাড়লে পণ্য পরিবহন, সরবরাহ এবং বিভিন্ন ব্যবসার পরিচালন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো সেই অতিরিক্ত ব্যয়ের কিছু অংশ পণ্যের দামে যুক্ত করলে শেষ পর্যন্ত ভোক্তাদেরই বেশি অর্থ খরচ করতে হয়। বিশেষ করে দূরবর্তী অঞ্চল থেকে পণ্য আনা হয় এমন এলাকায় পরিবহন ব্যয়ের পরিবর্তন বাজারদরে প্রভাব ফেলতে পারে।
জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধির পেছনে আন্তর্জাতিক পরিস্থিতিও গুরুত্বপূর্ণ। রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যুদ্ধ এবং সংশ্লিষ্ট ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা জ্বালানির বাজারে চাপ তৈরি করেছে। আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থায় অনিশ্চয়তা দেখা দিলে অপরিশোধিত তেল ও পরিশোধিত জ্বালানির দাম ওঠানামা করতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের ভেতরে মূল্যবৃদ্ধির সব কারণকে কেবল যুদ্ধ বা সরকারের নীতির ফল হিসেবে চিহ্নিত করা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক বাজার, উৎপাদন, পরিবহন ব্যয়, শুল্কনীতি এবং চাহিদার পরিবর্তনও মূল্যস্ফীতিকে প্রভাবিত করে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে চিত্রটি তুলনামূলকভাবে ভিন্ন। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যের সামগ্রিক মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত ছিল। তবে গত বছরের একই সময়ের তুলনায় খাদ্যের দাম বেড়েছে দুই দশমিক পাঁচ শতাংশ। ঘরে রান্নার জন্য কেনা খাদ্যপণ্যের দাম এক বছরে বেড়েছে এক দশমিক আট শতাংশ। অন্যদিকে, রেস্তোরাঁয় খাবারের ব্যয় বেড়েছে তিন দশমিক পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ, সব ধরনের খাদ্যপণ্যের দাম একই হারে বাড়ছে না। কিছু পণ্যের দাম কমলেও অন্য পণ্য ও পরিষেবার মূল্যবৃদ্ধি পরিবারের মোট ব্যয়কে প্রভাবিত করছে।
সেপ্টেম্বর মাসে খাদ্যের কিছু উপখাতে স্বস্তির লক্ষণও দেখা গেছে। দুধ ও দুগ্ধজাত পণ্যের দাম কমেছে শূন্য দশমিক নয় শতাংশ। একই সময়ে ডিমের দাম কমেছে এক দশমিক তিন শতাংশ এবং গরুর মাংসের দাম কমেছে এক শতাংশ। তবে ফল ও সবজির দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক পাঁচ শতাংশ। কোমল পানীয় ও অন্যান্য অ্যালকোহলবিহীন পানীয়ের দাম বেড়েছে শূন্য দশমিক নয় শতাংশ। এসব পার্থক্য দেখায়, সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির হার দিয়ে প্রতিটি পরিবারের কেনাকাটার অভিজ্ঞতা পুরোপুরি ব্যাখ্যা করা যায় না। কারও খাদ্যব্যয়ের বড় অংশ যদি তুলনামূলক বেশি দামি পণ্যে যায়, তাঁর আর্থিক চাপ অন্য পরিবারের চেয়ে বেশি হতে পারে। খাদ্য ও জ্বালানি বাদ দিয়ে হিসাব করা মূল ভোক্তা মূল্যসূচকও মূল্যস্ফীতির চাপ পুরোপুরি কমে যাওয়ার ইঙ্গিত দেয়নি। সেপ্টেম্বর মাসে এই সূচক আগের মাসের তুলনায় শূন্য দশমিক তিন শতাংশ বেড়েছে। আগস্টেও বৃদ্ধির হার ছিল একই। বার্ষিক হিসাবে মূল ভোক্তা মূল্যসূচক বেড়েছে দুই দশমিক ছয় শতাংশ, যা আগস্টের দুই দশমিক চার শতাংশের চেয়ে বেশি। বাসস্থান, বিমানভাড়া, চিকিৎসাসেবা, শিক্ষা, পোশাক এবং ব্যবহৃত গাড়ির মতো কয়েকটি খাতেও মূল্যবৃদ্ধি দেখা গেছে। অর্থাৎ, শুধু পেট্রলের দাম বাড়ার কারণেই সামগ্রিক মূল্যস্ফীতির পুরো চিত্র তৈরি হয়নি। মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের আরেকটি দিক হলো মজুরি ও ক্রয়ক্ষমতার সম্পর্ক। রয়টার্সের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে গড় ঘণ্টাপ্রতি আয় আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় শূন্য দশমিক সাত শতাংশ কমেছে। এই তথ্য মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে আয়ের পরিবর্তনকে একসঙ্গে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে। কারণ, পণ্যের দাম বাড়লেও আয় যদি একই হারে না বাড়ে, তাহলে মানুষ আগের মতো পণ্য ও পরিষেবা কিনতে পারে না। তবে গড় মজুরির পরিসংখ্যান দিয়ে প্রত্যেক কর্মীর আয় কমেছে বলে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না। বিভিন্ন পেশা, আয়স্তর ও কর্মসংস্থানের ধরন অনুযায়ী পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারে। অন্যদিকে, হোয়াইট হাউস অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির বিষয়টি সামনে রেখে সরকারের অবস্থান তুলে ধরছে। অর্থনীতির প্রবৃদ্ধি বলতে একটি নির্দিষ্ট সময়ে দেশে উৎপাদিত পণ্য ও পরিষেবার মোট প্রকৃত মূল্য বৃদ্ধিকে বোঝায়। উৎপাদন বাড়লে ব্যবসা সম্প্রসারণ, নতুন বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। কিন্তু প্রবৃদ্ধির সুফল সব শ্রেণির মানুষের কাছে সমানভাবে পৌঁছায় না। অর্থনীতির সামগ্রিক উৎপাদন বাড়লেও আবাসন, স্বাস্থ্যসেবা, পরিবহন কিংবা খাদ্যের ব্যয় বেশি থাকলে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের পরিবারগুলো আর্থিক চাপ অনুভব করতে পারে।
এ কারণেই অর্থনৈতিক সাফল্য মূল্যায়নের ক্ষেত্রে শুধু প্রবৃদ্ধির হার দেখলেই চলে না। মূল্যস্ফীতির সঙ্গে সমন্বয় করার পর প্রকৃত আয় কতটা বাড়ছে, কর্মসংস্থানের সুযোগ কতটা তৈরি হচ্ছে এবং মানুষের হাতে ব্যয় করার মতো অর্থ কতটা থাকছে—এসব প্রশ্নের উত্তরও প্রয়োজন। একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দীর্ঘমেয়াদে টেকসই কি না, বিনিয়োগ বাড়ছে কি না এবং উৎপাদনশীলতা উন্নত হচ্ছে কি না, সেগুলোও গুরুত্বপূর্ণ। হোয়াইট হাউসের দাবি যাচাই করতে তাই সংশ্লিষ্ট সময়ের সরকারি প্রবৃদ্ধির তথ্য এবং অন্যান্য অর্থনৈতিক সূচক পাশাপাশি দেখা দরকার।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ভূমিকাও গুরুত্বপূর্ণ। মূল্যবৃদ্ধির চাপ দীর্ঘস্থায়ী হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ানোর কথা বিবেচনা করতে পারে, যাতে ঋণ নেওয়া ও ব্যয়ের গতি কমে আসে। তবে সুদের হার বাড়ালে বাড়ি কেনার ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসায়িক বিনিয়োগের খরচ বেড়ে যেতে পারে। এতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চললেও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের ওপর চাপ তৈরি হওয়ার ঝুঁকি থাকে। আবার সুদের হার কমানো হলে ঋণ নেওয়া সহজ হতে পারে, কিন্তু চাহিদা বেড়ে গেলে মূল্যবৃদ্ধির চাপও নতুন করে বাড়তে পারে।
সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য প্রকাশের পর বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পরবর্তী সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা বেড়েছে। রয়টার্স জানিয়েছে, বিনিয়োগকারীরা ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠকে সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা নতুন করে বিবেচনা করছেন। তবে বাজারের সম্ভাব্য হিসাব কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নয়। কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল্যস্ফীতির পাশাপাশি কর্মসংস্থান, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি এবং অন্যান্য তথ্য বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেবে।
এই পরিস্থিতিতে ট্রাম্প প্রশাসনের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা। জ্বালানির দাম কমাতে আন্তর্জাতিক সরবরাহব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখা, দেশীয় উৎপাদন ও পরিবহনব্যয়ের পরিবর্তন পর্যবেক্ষণ করা এবং পরিবারের ক্রয়ক্ষমতা রক্ষার মতো বিষয় নীতিনির্ধারকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। তবে কোনো একটি পদক্ষেপেই দ্রুত সব সমস্যার সমাধান হবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। আন্তর্জাতিক সংঘাত, জ্বালানি সরবরাহ এবং বাজারের প্রত্যাশার মতো বিষয় সরকারের সরাসরি নিয়ন্ত্রণের বাইরেও থাকতে পারে।
ডেমোক্র্যাটদের জন্য এই পরিস্থিতি রাজনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ, কারণ জীবনযাত্রার ব্যয় ভোটারদের দৈনন্দিন অভিজ্ঞতার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত। নির্বাচনের আগে তাঁরা যদি বোঝাতে পারেন যে সরকারের নীতির কারণে সাধারণ মানুষ আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, তাহলে তা রিপাবলিকানদের নির্বাচনী অবস্থানের ওপর চাপ তৈরি করতে পারে। বিপরীতে, রিপাবলিকানরা যদি কর্মসংস্থান, আয় এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষেত্রে ইতিবাচক ফল দেখাতে পারেন, তাহলে তাঁরা সরকারের অর্থনৈতিক নীতির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরতে পারবেন। এ কারণে মূল্যস্ফীতির পরিসংখ্যান আগামী দিনের রাজনৈতিক প্রচারে আরও গুরুত্ব পেতে পারে।
সব মিলিয়ে, ২০২৬ সালের সেপ্টেম্বরের মূল্যস্ফীতির তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতির জন্য সতর্কসংকেত দিচ্ছে। মাসিক মূল্যবৃদ্ধি আগস্টের তুলনায় বেড়েছে, বার্ষিক মূল্যস্ফীতি তিন দশমিক সাত শতাংশে পৌঁছেছে এবং জ্বালানির দাম সামগ্রিক সূচকে বড় প্রভাব ফেলেছে। একই সঙ্গে মূল মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। এসব তথ্য মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে চাপ অব্যাহত থাকার ইঙ্গিত দেয়। তবে এই পরিসংখ্যান একা দিয়ে ট্রাম্পের পুরো অর্থনৈতিক নীতিকে সফল বা ব্যর্থ ঘোষণা করা যায় না। একইভাবে, প্রবৃদ্ধির দাবি দিয়েও সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়সংক্রান্ত উদ্বেগ খারিজ করা যায় না।