ব্রেকিং
লাস ভেগাসে রেকর্ড বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, ডুবল সড়ক, বিপর্যস্ত যানচলাচল, সতর্কতা জারিযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশযুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছেনিউ জার্সিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে অনিশ্চয়তা, যোগ্যতা যাচাইয়ের জরুরি আহ্বানযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন নীতি ও চাকরির বাজারে নতুন উদ্বেগ, নিউইয়র্কে বাঙালির উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

শক্তিশালী সামুদ্রিক ঢেউয়ে ক্যালিফোর্নিয়ার লং বিচে বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত, ভেঙেছে উপকূলের হাঁটার পথ, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা থেকে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া অঙ্গরাজ্যের দক্ষিণাঞ্চলে শক্তিশালী সামুদ্রিক ঢেউ ও উপকূলীয় প্লাবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। বিশেষ করে লং বিচ উপদ্বীপে সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ে একাধিক বাড়িঘরের কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত করেছে। ভেঙে গেছে উপকূলবর্তী হাঁটার পথের কিছু অংশ। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় কয়েকটি বাড়ির বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।

১২ অক্টোবর প্রকাশিত স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঝড়ের প্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় আটটি ভবনকে বসবাসের অনুপযোগী বা প্রবেশের জন্য বিপজ্জনক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এসব ভবনের আওতায় রয়েছে ১৩টি ঠিকানা। এ ছাড়া আরেকটি ভবনকে সীমিত প্রবেশাধিকারের আওতায় রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনাগুলোর অবস্থা পরীক্ষা করে দেখছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পরবর্তী পরিদর্শনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ঝড়ের প্রভাবে উপকূলে বিপর্যয়

এ পরিস্থিতির পেছনে রয়েছে ক্রান্তীয় ঝড় র‍্যাচেলের অবশিষ্ট প্রভাব, শক্তিশালী ঢেউ এবং অস্বাভাবিকভাবে উঁচু জোয়ারের সম্মিলিত প্রভাব। অক্টোবরের দ্বিতীয় সপ্তাহে দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলে ঢেউয়ের উচ্চতা ও পানির চাপ বেড়ে যাওয়ায় বেশ কয়েকটি এলাকায় বন্যার পরিস্থিতি তৈরি হয়।

লং বিচের উপকূলবর্তী এলাকায় প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল বা বাঁধের ওপর দিয়ে পানি ঢুকে পড়ে। ঢেউয়ের ধাক্কায় বাড়িঘরের নিচের বালু সরে যায়, ফলে কিছু স্থাপনার ভিত্তি দুর্বল হয়ে পড়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। কোথাও কোথাও দরজা-জানালা ভেঙে পানি ঘরের ভেতরে প্রবেশ করেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোর কয়েকটি সমুদ্রের দিকে হেলে পড়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে, কারণ ঢেউয়ের আঘাত শুধু বাড়িঘরেই সীমাবদ্ধ থাকেনি। উপকূলের হাঁটার পথ, রাস্তা এবং সমুদ্র প্রতিরক্ষার কিছু অংশও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব ক্ষয়ক্ষতির কারণে উদ্ধার ও মেরামতের কাজ পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ, সতর্ক প্রশাসন

ক্ষতিগ্রস্ত উপকূলীয় এলাকার কয়েকটি অংশে বাধ্যতামূলকভাবে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। বিশেষ করে লং বিচের সমুদ্রসংলগ্ন কিছু বাড়িতে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেসব ভবনকে বিপজ্জনক ঘোষণা করা হয়েছে, সেগুলোতে বসবাসকারীদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছে কর্তৃপক্ষ।

শহর কর্তৃপক্ষের কর্মীরা ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধের দুর্বল অংশগুলো শক্তিশালী করতে বালুর বস্তা ব্যবহার করেছেন। পাশাপাশি জমে থাকা পানি সরিয়ে নেওয়া, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা পরীক্ষা করা এবং উপকূলের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের কাজ চলছে। জোয়ারের মধ্যবর্তী সময়ে কর্মীরা অল্প সময়ের জন্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় প্রবেশ করে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালাচ্ছেন।

তবে সব এলাকার জন্য একই ধরনের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ কার্যকর রয়েছে এমন দাবি করা ঠিক হবে না। স্থানীয় কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন এলাকায় ঝুঁকির মাত্রা বিবেচনা করে নির্দেশনা দিয়েছে। বাসিন্দাদের নিজ নিজ এলাকার সর্বশেষ সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করতে বলা হয়েছে।

নিউপোর্ট বিচসহ অন্য এলাকাতেও ক্ষয়ক্ষতি

লং বিচ ছাড়াও দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার নিউপোর্ট বিচ এবং আরও কিছু উপকূলীয় এলাকায় সামুদ্রিক পানি রাস্তায় উঠে আসে। বালবোয়া উপদ্বীপের কিছু সড়কে পানি জমে যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। কোথাও কোথাও বালু ও পানির কারণে চলাচলের পথ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

ঝড়ের আগে থেকেই কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রভাঙনের সমস্যা ছিল। সাম্প্রতিক ঢেউ সেই দুর্বলতাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে। ফলে শুধু তাৎক্ষণিক বন্যা নয়, ভবিষ্যতে উপকূলের স্থায়িত্ব এবং বাড়িঘরের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।

আবহাওয়াসংশ্লিষ্ট পূর্বাভাস অনুযায়ী, দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার পরিস্থিতির সবচেয়ে খারাপ পর্যায়টি পেরিয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা থাকলেও উপকূলীয় বিপদ পুরোপুরি শেষ হয়নি। ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে সান দিয়েগো থেকে সান লুইস অবিসপো পর্যন্ত উপকূলের বিভিন্ন স্থানে উচ্চ জোয়ার ও উপকূলীয় প্লাবনের ঝুঁকি থাকার কথা বলা হয়। পরবর্তী জোয়ারের সময়ও ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় নতুন করে পানি প্রবেশের আশঙ্কা ছিল।

জলবায়ু ও উপকূলীয় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ

এই ঘটনা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের উপকূলীয় এলাকার নিরাপত্তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। সমুদ্রভাঙন, উচ্চ জোয়ার, ঝড়ের ঢেউ এবং উপকূলের বালু সরে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি একসঙ্গে দেখা দিলে বাড়িঘর ও অবকাঠামো দ্রুত ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ঝুঁকিপূর্ণ উপকূলে ভবন নির্মাণ, সমুদ্র প্রতিরক্ষাব্যবস্থা রক্ষণাবেক্ষণ এবং দুর্যোগের আগাম প্রস্তুতি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে এই নির্দিষ্ট ঘটনার সব ক্ষয়ক্ষতিকে জলবায়ু পরিবর্তনের একক ফল হিসেবে চিহ্নিত করার মতো পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই। ঝড়ের গতিপথ, জোয়ারের উচ্চতা, আগের সমুদ্রভাঙন এবং স্থানীয় ভৌগোলিক অবস্থাও ক্ষয়ক্ষতিতে ভূমিকা রাখতে পারে।

বর্তমানে ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘরের নিরাপত্তা যাচাই, উপকূলীয় প্রতিরক্ষাব্যবস্থা মেরামত এবং বাসিন্দাদের নিরাপদে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিই প্রধান অগ্রাধিকার। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলো কখন আবার বসবাসের উপযোগী হবে, তা নির্ভর করবে পরিদর্শন ও মেরামতের ফলাফলের ওপর।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রেরখবরআমেরিকারসংবাদক্যালিফোর্ন

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।