নির্বাচনে রিপাবলিকানদের জেতাতে ইলন মাস্কের ২৭৬ মিলিয়ন ডলার অনুদান, মার্কিন রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব নিয়ে বিতর্ক
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থনে ইলন মাস্কের ২৭৬ মিলিয়ন ডলারের বেশি অনুদান, কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে বড় আর্থিক উদ্যোগ
যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকানদের সমর্থনে ২৭ কোটি ৬০ লাখ ডলারের বেশি অর্থ ব্যয় করার উদ্যোগ নিয়েছেন প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্ক। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১২ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, জুলাই থেকে এ পর্যন্ত তাঁর অনুদান তাঁকে এবারের নির্বাচনে পরিচিত দাতাদের মধ্যে সবচেয়ে বড় দাতায় পরিণত করেছে। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকানদের প্রচারণায় এই অর্থ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, মাস্কের অর্থের মধ্যে ১৫ কোটি ৮০ লাখ ডলার গেছে রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থীদের সমর্থনকারী রাজনৈতিক সংগঠন সিনেট লিডারশিপ ফান্ডে। আরও ৭ কোটি ৬০ লাখ ডলার দেওয়া হয়েছে তাঁর নিজস্ব রাজনৈতিক সংগঠন আমেরিকা পিএসিকে। এ ছাড়া টেক্সাসের রিপাবলিকান সিনেট প্রার্থী কেন প্যাক্সটনকে সমর্থনকারী লোন স্টার লিবার্টি পিএসিকে দিয়েছেন ১ কোটি ডলার। এসব অনুদানের তথ্য মাস্কের রাজনৈতিক সংগঠনের একজন মুখপাত্র নিশ্চিত করেছেন।
মাস্কের এই বিপুল অর্থায়ন তাঁর আগের অবস্থান থেকে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন। ২০২৫ সালের মে মাসে তিনি বলেছিলেন, ভবিষ্যতে রাজনৈতিক ব্যয় কমাতে চান। কিন্তু এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে তাঁর অনুদান আবার বেড়েছে। ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করার সময়ও মাস্ক প্রচারণায় বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় করেছিলেন। এবার অবশ্য তিনি আগের তুলনায় প্রচারের মঞ্চে কম উপস্থিত থাকলেও তাঁর অর্থ রাজনৈতিক প্রতিযোগিতায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
রিপাবলিকানদের জন্য এই অর্থের গুরুত্ব বাড়ছে এমন সময়ে, যখন দলটি কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখার চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। মূল্যস্ফীতি, জ্বালানির উচ্চমূল্য এবং ইরানকে ঘিরে যুদ্ধ নিয়ে ভোটারদের অসন্তোষ নির্বাচনী প্রচারণায় প্রভাব ফেলছে। মাস্কের অর্থায়নে রিপাবলিকানদের সমর্থনকারী সংগঠনগুলো নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে টেলিভিশন ও অন্যান্য মাধ্যমে বিজ্ঞাপন প্রচার করতে পারবে। তবে বেশি অর্থ ব্যয় করলেই কোনো প্রার্থী জয়ী হবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই।
ডেমোক্র্যাটদের পক্ষ থেকে এই অর্থায়নের সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের বক্তব্য, বিপুল অর্থ ব্যয় করে রিপাবলিকানরা নিজেদের প্রার্থী ও রাজনৈতিক অবস্থানের প্রতি ভোটারদের অসন্তোষ কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। অন্যদিকে, মাস্কের রাজনৈতিক সংগঠনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এই বিনিয়োগ রিপাবলিকানদের নিজেদের বক্তব্য ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর সুযোগ দিচ্ছে। ফলে নির্বাচনী প্রচারণায় বড় দাতাদের প্রভাব নিয়ে নতুন করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যক্তিগত ও করপোরেট-সমর্থিত রাজনৈতিক সংগঠনের অর্থায়ন দীর্ঘদিনের বিতর্কিত বিষয়। বিপুল অর্থের সাহায্যে বিজ্ঞাপন, ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর কার্যক্রম এবং প্রচারণার অন্যান্য উদ্যোগ চালানো যায়। তবে নির্বাচনের ফল নির্ভর করে ভোটারদের পছন্দ, প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতা, স্থানীয় ইস্যু এবং ভোটদানের উপস্থিতির ওপরও।
বাংলাদেশি-আমেরিকান ভোটারদের জন্যও এই নির্বাচন গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ বদলালে অভিবাসন, কর, স্বাস্থ্যসেবা, কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক নীতির মতো বিষয়ে আইন প্রণয়নের অগ্রাধিকার বদলাতে পারে। তবে মাস্কের অনুদান থেকে সরাসরি কোনো নির্দিষ্ট অভিবাসন নীতি পরিবর্তন হবে এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর ভিত্তি এখনো নেই।





