ব্রেকিং
লাস ভেগাসে রেকর্ড বৃষ্টিতে আকস্মিক বন্যা, ডুবল সড়ক, বিপর্যস্ত যানচলাচল, সতর্কতা জারিযুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় ভয়াবহ সামুদ্রিক ঢেউ, বাড়িঘর বিধ্বস্ত, বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশযুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছেনিউ জার্সিতে ১০ হাজারের বেশি মানুষের স্বাস্থ্যবিমা নিয়ে অনিশ্চয়তা, যোগ্যতা যাচাইয়ের জরুরি আহ্বানযুক্তরাষ্ট্রে মূল্যস্ফীতি, অভিবাসন নীতি ও চাকরির বাজারে নতুন উদ্বেগ, নিউইয়র্কে বাঙালির উৎসব

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রে বেকারভাতার নতুন আবেদন কমেছে, কিন্তু চাকরি তৈরির গতি দুর্বল। কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা বাড়ছে, বিশেষত দীর্ঘদিন চাকরি খুঁজছেন এমন মানুষের মধ্যে।

যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছে
যুক্তরাষ্ট্রে নতুন চাকরি তৈরির গতি কমলেও বেকারভাতার আবেদন কমেছে, উদ্বেগ রয়ে গেছে

যুক্তরাষ্ট্রের শ্রমবাজারে মিশ্র পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একদিকে বেকারভাতার জন্য নতুন আবেদনকারীর সংখ্যা কমেছে, অন্যদিকে নতুন চাকরি তৈরির গতি দুর্বল হওয়ায় কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ রয়ে গেছে। সাম্প্রতিক শ্রমবাজারের তথ্য বলছে, চাকরি হারানোর ঘটনা তুলনামূলকভাবে কম থাকলেও নতুন চাকরি পাওয়া সবার জন্য সহজ হচ্ছে না।

৮ অক্টোবর প্রকাশিত রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, ৩ অক্টোবর শেষ হওয়া সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্রে বেকারভাতার জন্য প্রাথমিক আবেদন মৌসুমি সমন্বয়ের পর কমে দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৯৭ হাজারে। এর আগের সপ্তাহের তুলনায় আবেদন কমেছে ২ হাজার। অর্থনীতিবিদেরা প্রায় ২ লাখ আবেদনের পূর্বাভাস দিয়েছিলেন। ফলে প্রকৃত সংখ্যা পূর্বাভাসের চেয়ে কিছুটা কম ছিল।

তবে শুধু বেকারভাতার আবেদন কমেছে বলেই শ্রমবাজার পুরোপুরি শক্তিশালী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। নতুন চাকরি তৈরি, নিয়োগের গতি, বেকারত্বের হার এবং দীর্ঘদিন ধরে কাজ খুঁজছেন এমন মানুষের পরিস্থিতিও বিবেচনা করা জরুরি।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে যুক্তরাষ্ট্রে কৃষি খাতের বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নতুন চাকরি বেড়েছে মাত্র ২৯ হাজার। এই সংখ্যা নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির গতি দুর্বল হওয়ার ইঙ্গিত দেয়। অর্থাৎ প্রতিষ্ঠানগুলো ব্যাপক হারে কর্মী ছাঁটাই না করলেও নতুন কর্মী নিয়োগে সতর্ক থাকতে পারে।

অর্থনীতিবিদদের ভাষায়, এমন পরিস্থিতিতে চাকরি হারানোর হার কম থাকতে পারে, কিন্তু চাকরি পাওয়ার সুযোগও সীমিত হয়ে যায়। ফলে যারা নতুন করে চাকরির বাজারে প্রবেশ করছেন, চাকরি পরিবর্তন করতে চাইছেন কিংবা দীর্ঘদিন বেকার রয়েছেন, তাঁদের জন্য পরিস্থিতি কঠিন হতে পারে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বর মাসে বেকারত্বের মধ্যম স্থায়িত্ব ছিল ১১ দশমিক ৫ সপ্তাহ, যা প্রায় সাড়ে চার বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ের কাছাকাছি। এর অর্থ, কিছু চাকরিপ্রার্থীকে নতুন কাজ খুঁজতে আগের তুলনায় বেশি সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে।

শ্রমবাজারের এই পরিস্থিতির পেছনে একাধিক কারণ কাজ করতে পারে। বাণিজ্যনীতি নিয়ে অনিশ্চয়তা, আমদানি শুল্ক, জ্বালানির উচ্চ ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক সংঘাতের অর্থনৈতিক প্রভাব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোর সিদ্ধান্তকে প্রভাবিত করছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ভবিষ্যতের চাহিদা ও ব্যয় সম্পর্কে নিশ্চিত না হলে নতুন কর্মী নিয়োগ পিছিয়ে দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হারসংক্রান্ত নীতিও গুরুত্বপূর্ণ। সুদের হার বেশি থাকলে ব্যবসার ঋণ নেওয়ার খরচ বাড়তে পারে। এতে নতুন কারখানা, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা নতুন প্রকল্পে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত ধীর হতে পারে। তবে শ্রমবাজারের পরিবর্তনের জন্য একটি কারণকেই দায়ী করা যায় না; অর্থনীতির বিভিন্ন খাতের পরিস্থিতি আলাদা হতে পারে।

সাধারণ চাকরিপ্রার্থীদের জন্য এর প্রভাব গুরুত্বপূর্ণ। চাকরির বিজ্ঞাপন থাকলেও নিয়োগপ্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে, একাধিক সাক্ষাৎকার দিতে হতে পারে কিংবা একই পদের জন্য অনেক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিযোগিতা করতে হতে পারে। নতুন স্নাতক, অভিবাসী কর্মী এবং দীর্ঘ বিরতির পর কাজে ফিরতে চাওয়া ব্যক্তিরা বিশেষভাবে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন। তবে এসব অভিজ্ঞতা সবার ক্ষেত্রে একই রকম নয়।

যাঁরা চাকরি খুঁজছেন, তাঁদের জন্য জীবনবৃত্তান্ত হালনাগাদ রাখা, দক্ষতা উন্নয়ন, পরিচিত পেশাজীবীদের সঙ্গে যোগাযোগ এবং একাধিক প্রতিষ্ঠানে আবেদন করা সহায়ক হতে পারে। একই সঙ্গে চাকরির প্রস্তাব গ্রহণের আগে বেতন, কর্মঘণ্টা, স্বাস্থ্যবিমা ও অন্যান্য সুবিধা যাচাই করা গুরুত্বপূর্ণ।

নীতিনির্ধারকদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কর্মসংস্থান ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সচল রাখা। সুদের হার নিয়ে সিদ্ধান্তের সময় তাঁরা মূল্যস্ফীতি, চাকরির তথ্য এবং সামগ্রিক অর্থনীতির গতিপ্রকৃতি বিবেচনা করবেন। তবে ভবিষ্যতে সুদের হার কী হবে, তা এখনই নিশ্চিত করে বলা যায় না।

বেকারভাতার নতুন আবেদন কমে যাওয়া শ্রমবাজারের একটি ইতিবাচক দিক। কিন্তু নতুন চাকরি তৈরির দুর্বল গতি এবং দীর্ঘদিন চাকরি খোঁজার প্রবণতা দেখায় যে শ্রমবাজারের চিত্র পুরোপুরি স্বস্তিদায়ক নয়। আগামী মাসগুলোর কর্মসংস্থান, মজুরি ও বেকারত্বের তথ্যই পরিস্থিতির প্রকৃত দিক আরও পরিষ্কার করবে।

ট্যাগ: চাকরিবেকারত্বযুক্তরাষ্ট্রেরখবর

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।