যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী বাজির বিরোধিতা অধিকাংশের, নতুন জরিপে প্রকাশ পেল জনমতের চিত্র
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন ও সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থের বাজির বিরোধিতা করছেন অধিকাংশ নাগরিক। নতুন জরিপে উঠে এসেছে জনমতের চিত্র।
যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচন, সামরিক পদক্ষেপ এবং সরকারি নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়ে অর্থের বাজি ধরার বিষয়ে অধিকাংশ নাগরিক আপত্তি জানিয়েছেন। রয়টার্স ও ইপসোসের প্রকাশিত নতুন এক জরিপে এমন চিত্র উঠে এসেছে। দেশটিতে অনলাইনভিত্তিক ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে বাজির বাজার সম্প্রসারিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে এসব কার্যক্রমের নৈতিকতা, স্বচ্ছতা ও নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বিতর্কও বাড়ছে।
জরিপে দেখা গেছে, নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে অর্থের বাজির বিরোধিতা করেছেন ৬৯ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৬১ শতাংশ রিপাবলিকান। অর্থাৎ যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান রাজনৈতিক দলের সমর্থকদের মধ্যেই এ বিষয়ে উল্লেখযোগ্য আপত্তি রয়েছে। নির্বাচনের মতো গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে অর্থ উপার্জনের বাজারে পরিণত করা উচিত কি না, সেই প্রশ্ন এখন নতুন করে আলোচনায় এসেছে।
সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে বাজির বিরোধিতা করেছেন জরিপে অংশ নেওয়া ৬৫ শতাংশ মানুষ। সরকারি নীতিগত ঘোষণা ও সিদ্ধান্ত নিয়ে এ ধরনের বাজির বিরোধিতা করেছেন ৬৩ শতাংশ উত্তরদাতা। এসব ফলাফল থেকে বোঝা যায়, নাগরিকদের একটি বড় অংশ রাষ্ট্রীয় সিদ্ধান্ত এবং জাতীয় নিরাপত্তার মতো সংবেদনশীল বিষয়কে অর্থের বাজির সঙ্গে যুক্ত করার ব্যাপারে সতর্ক।
যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে বাজির বাজারে পলিমার্কেট ও কালশির মতো প্রতিষ্ঠান পরিচিত নাম। এসব বাজারে অংশগ্রহণকারীরা নির্বাচন, অর্থনীতি, সরকারি নীতি এবং বিভিন্ন ঘটনার সম্ভাব্য ফলাফলের ওপর অর্থ বিনিয়োগ করেন। বাজারের সমর্থকদের মতে, এসব ব্যবস্থায় অংশগ্রহণকারীদের সম্মিলিত অনুমান ভবিষ্যৎ পরিস্থিতি সম্পর্কে ধারণা দিতে পারে। তবে সমালোচকেরা বলছেন, সংবেদনশীল সরকারি সিদ্ধান্ত নিয়ে বাজি ধরার সুযোগ তৈরি হলে গোপন তথ্যের অপব্যবহার এবং স্বার্থের সংঘাতের ঝুঁকি দেখা দিতে পারে।
বিশেষ করে সামরিক অভিযান বা নিরাপত্তাসংক্রান্ত সিদ্ধান্তের সম্ভাব্য ফলাফল নিয়ে অর্থ বিনিয়োগের বিষয়টি উদ্বেগ তৈরি করেছে। কোনো ব্যক্তি যদি সিদ্ধান্ত গ্রহণের সঙ্গে যুক্ত থাকেন অথবা অপ্রকাশিত তথ্যের নাগাল পান, তাহলে তিনি অন্য অংশগ্রহণকারীদের তুলনায় অন্যায্য সুবিধা পেতে পারেন। তবে এমন ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ থাকলেই প্রতিটি বাজারে অনিয়ম ঘটছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না। অভিযোগ প্রমাণের জন্য নির্দিষ্ট তথ্য ও যথাযথ তদন্ত প্রয়োজন।
জরিপটি যুক্তরাষ্ট্রের ৪ হাজার ৫০৬ জন প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকের অংশগ্রহণে পরিচালিত হয়। রয়টার্সের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, জরিপের ত্রুটিসীমা প্রায় দুই শতাংশ। তবে যেকোনো জনমত জরিপের মতো এখানেও প্রশ্নের ধরন, নমুনা নির্বাচন এবং অংশগ্রহণকারীদের বৈশিষ্ট্য ফলাফলকে প্রভাবিত করতে পারে। তাই জরিপের ফলাফলকে সামগ্রিক জনমতের একটি নির্দেশক হিসেবে দেখা উচিত, প্রত্যেক মার্কিন নাগরিকের মতামতের নিখুঁত প্রতিফলন হিসেবে নয়।
এই বিতর্কের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা। নির্বাচনের ফলাফল নিয়ে বাজির বাজারে কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থী বা দলের সম্ভাবনা সম্পর্কে অর্থনৈতিক পূর্বাভাস তৈরি হতে পারে। কিন্তু বাজারের অনুমান নির্বাচনের প্রকৃত ফলাফল নির্ধারণ করে না। একইভাবে, কোনো ঘটনার সম্ভাবনা নিয়ে অর্থ বিনিয়োগের প্রবণতা দিয়ে সেই ঘটনা নিশ্চিতভাবে ঘটবে বলে দাবি করা যায় না। পূর্বাভাস এবং বাস্তব ফলাফলের মধ্যে পার্থক্য বজায় রাখা জরুরি।
আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাষ্ট্রে নির্বাচনী কার্যক্রম, প্রচারণার অর্থায়ন এবং রাজনৈতিক তথ্যের স্বচ্ছতা নিয়ে আলোচনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এ সময় ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে বাজির বাজারের কার্যক্রম কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে, তা নিয়েও নীতিনির্ধারকদের সামনে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের বাজারের ক্ষেত্রে স্বচ্ছতা, সম্ভাব্য স্বার্থের সংঘাত মোকাবিলা এবং ভোক্তাদের সুরক্ষার বিষয়গুলো গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা প্রয়োজন।
জরিপের ফলাফল থেকে আরও একটি বিষয় স্পষ্ট, রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকা সত্ত্বেও সংবেদনশীল রাষ্ট্রীয় বিষয় নিয়ে অর্থের বাজির ক্ষেত্রে অনেক নাগরিকের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তবে জরিপের ভিত্তিতে সরকার কী ধরনের পদক্ষেপ নেবে, তা নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না। এ বিষয়ে ভবিষ্যতে কোনো নতুন আইন, নিয়ন্ত্রক সংস্থার নির্দেশনা বা আদালতের সিদ্ধান্ত এলে পরিস্থিতি আরও পরিষ্কার হতে পারে।
রয়টার্স ও ইপসোসের জরিপ যুক্তরাষ্ট্রে ভবিষ্যৎ ঘটনা নিয়ে বাজির বাজার সম্পর্কে নাগরিকদের মনোভাবের একটি গুরুত্বপূর্ণ চিত্র তুলে ধরেছে। নির্বাচনের ফলাফল, সামরিক পদক্ষেপ এবং সরকারি সিদ্ধান্তের মতো বিষয়ে অর্থ বিনিয়োগের সুযোগ নিয়ে জনমত বিভক্ত হলেও বিরোধিতার প্রবণতা উল্লেখযোগ্য। তবে বাজারের প্রকৃত প্রভাব, নিয়ন্ত্রণব্যবস্থার কার্যকারিতা এবং ভবিষ্যৎ নীতিগত পরিবর্তন সম্পর্কে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত নিতে আরও তথ্য ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ পর্যবেক্ষণ করতে হবে।





