ব্রেকিং
যুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চাকরি হারাচ্ছেন মার্কিন শ্রমিক, ক্ষোভ বাড়ছে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরেট্রাম্পের আহ্বান: ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান কি রিপাবলিকান দলে যাবেন?রাশিয়া ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি হলে ইউক্রেনে নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তাব দিলেন জেলেনস্কিযুক্তরাষ্ট্রে স্বাস্থ্যবিমার অর্থছাঁটাইয়ে প্রসূতি বিভাগ বন্ধ, ঝুঁকিতে গ্রামীণ মায়েদের চিকিৎসাসেবা

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চাকরি হারাচ্ছেন মার্কিন শ্রমিক, ক্ষোভ বাড়ছে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরে

ট্রাম্পের শুল্কনীতির কারণে আমদানি ব্যয় বাড়ায় কয়েকটি মার্কিন কারখানায় চাকরি কমেছে, এতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে রিপাবলিকানদের ওপর চাপ বাড়ছে।

ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চাকরি হারাচ্ছেন মার্কিন শ্রমিক, ক্ষোভ বাড়ছে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরে
ট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চাকরি হারাচ্ছেন মার্কিন শ্রমিক, ক্ষোভ বাড়ছে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরে

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি পণ্যের ওপর বাড়তি শুল্ক আরোপের নীতি নিয়ে নতুন করে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে। দেশটির কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে কারখানা বন্ধ, কর্মী ছাঁটাই এবং উৎপাদন ব্যয় বৃদ্ধির ঘটনা সামনে আসায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে প্রশ্ন উঠছে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে রিপাবলিকান দলকে সমর্থন করে আসা কিছু শ্রমিক এখন নিজেদের রাজনৈতিক অবস্থান পুনর্বিবেচনা করছেন। আগামী মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে এই অসন্তোষ রিপাবলিকান প্রার্থীদের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করতে পারে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে মিশিগানের জেল্যান্ড শহরের একটি ঘড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানের উদাহরণ তুলে ধরা হয়েছে। প্রায় এক শতাব্দী ধরে ব্যবসা চালানো হাওয়ার্ড মিলার প্রতিষ্ঠানটি বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। প্রতিষ্ঠানটির কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর প্রায় ২০০ কর্মী চাকরি হারান। তাঁদের একজন নেলসন ভ্যান্ডারমির, যিনি দীর্ঘদিন রিপাবলিকানদের ভোট দিলেও এবার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করার কথা ভাবছেন।

ট্রাম্পের শুল্কনীতির মূল লক্ষ্য ছিল বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ উৎপাদনকে উৎসাহিত করা এবং দেশে আরও কর্মসংস্থান তৈরি করা। তাঁর প্রশাসনের যুক্তি, বিদেশি পণ্যের ওপর শুল্ক বাড়লে দেশীয় উৎপাদকরা প্রতিযোগিতায় সুবিধা পাবেন এবং নতুন কারখানা গড়ে উঠতে পারে। তবে বাস্তবে বিদেশি যন্ত্রাংশ ও কাঁচামালের ওপর নির্ভরশীল অনেক প্রতিষ্ঠানকে বাড়তি খরচের মুখে পড়তে হচ্ছে।

মিশিগানের ওই কারখানার ঘটনা ছাড়াও আইওয়া, কানসাস এবং ওহাইওর মতো অঙ্গরাজ্যে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কর্মী ছাঁটাই নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আইওয়ায় বিনোদনমূলক যানবাহন নির্মাতা প্রতিষ্ঠান উইনেবাগো ইন্ডাস্ট্রিজ গত বছর আমদানি করা অ্যালুমিনিয়াম, ইস্পাত ও বৈদ্যুতিক যন্ত্রাংশের ব্যয় বাড়ার পর ২০০টি চাকরি কমিয়েছিল। কানসাসে গৃহস্থালি পাখা নির্মাতা প্রতিষ্ঠান ভর্নাডো এয়ারও আমদানি করা যন্ত্রাংশের দাম বৃদ্ধির কথা উল্লেখ করে ফেব্রুয়ারিতে ৭০ জনের বেশি কারখানাকর্মী ছাঁটাই করে।

আইওয়ার এক সাবেক শিল্পকর্মী ট্রেসি চিউয়ের অভিজ্ঞতাও প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তিনি আগে একটি ভারী যন্ত্রপাতি নির্মাতা প্রতিষ্ঠানে কাজ করতেন। ওই প্রতিষ্ঠানের কারখানা বন্ধের পর তিনি চাকরি হারান; পরবর্তী কয়েক সপ্তাহে তাঁর মেয়ে, স্বামী এবং জামাতাও কর্মহীন হয়ে পড়েন। চিউয়ের মতো অনেক কর্মীর কাছে বাণিজ্যনীতি এখন কেবল রাজনৈতিক বিতর্ক নয়, বরং পরিবারের আয় ও ভবিষ্যৎ নিরাপত্তার প্রশ্ন।

তবে এসব চাকরি হারানোর পেছনে শুধু শুল্কনীতিই দায়ী—এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানো ঠিক হবে না। কিছু প্রতিষ্ঠান শুল্ক আরোপের আগেই ব্যবসায়িক সংকটে ছিল, আবার উৎপাদন খাতেও দীর্ঘদিন ধরে পরিবর্তন চলছে। ক্রেতার চাহিদা কমে যাওয়া, উৎপাদন ব্যয়, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব সিদ্ধান্তও চাকরি কমানোর কারণ হতে পারে। তবু আমদানি করা যন্ত্রাংশের মূল্য বেড়ে যাওয়ার প্রভাব নিয়ে শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও শ্রমিকদের উদ্বেগ স্পষ্ট।

ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে অবশ্য ভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। হোয়াইট হাউসের বক্তব্য, যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন বাড়ছে এবং নতুন কারখানা নির্মাণের কাজ ভবিষ্যতে আরও শিল্পকর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে পারে। প্রশাসনের মতে, নতুন উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি হলে পরবর্তী সময়ে সেখানে শ্রমিক নিয়োগ বাড়বে। তবে নতুন কারখানা নির্মাণের চাকরি এবং দীর্ঘদিনের কারখানায় স্থায়ী উৎপাদনকাজের সুযোগ এক বিষয় নয়; নতুন প্রকল্পের সুফল পেতে সময় লাগতে পারে।

শুল্কনীতির প্রভাব এখন রাজনৈতিক হিসাবেও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণ হবে। মিশিগান, আইওয়া, কানসাস ও ওহাইওর মতো প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ এলাকায় চাকরি, পণ্যের দাম এবং স্থানীয় শিল্পের ভবিষ্যৎ ভোটারদের সিদ্ধান্তে ভূমিকা রাখতে পারে। দীর্ঘদিনের দলীয় সমর্থকরা যদি মনে করেন যে তাঁদের কর্মসংস্থান ও আয় ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তাহলে নির্বাচনে তার প্রভাব পড়তে পারে।

সাম্প্রতিক জনমত জরিপেও ট্রাম্পের বাণিজ্যনীতি নিয়ে সমর্থন কমার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস ও নরক গবেষণা সংস্থার সেপ্টেম্বরের জরিপে প্রায় ৩০ শতাংশ মার্কিন প্রাপ্তবয়স্ক ট্রাম্পের বাণিজ্য আলোচনা পরিচালনার বিষয়ে অনুমোদন জানিয়েছেন; মার্চে এই হার ছিল প্রায় ৪০ শতাংশ। তবে অর্থনীতি ও বাণিজ্যনীতি নিয়ে অসন্তোষ থাকলেই সব ভোটার দল পরিবর্তন করবেন, এমন নিশ্চয়তা নেই। অনেক ভোটার অভিবাসন, কর, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য ইস্যুও বিবেচনায় নেবেন।

সামনে বড় প্রশ্ন হলো, শুল্কের কারণে বাড়তি ব্যয় কতটা কমানো সম্ভব হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রে নতুন উৎপাদনকেন্দ্রগুলো কত দ্রুত স্থায়ী কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারবে। যদি প্রতিষ্ঠানগুলো আমদানি করা যন্ত্রাংশের উচ্চমূল্য সামলাতে না পারে, তাহলে আরও কর্মী ছাঁটাই বা উৎপাদন কমানোর সিদ্ধান্ত আসতে পারে। অন্যদিকে দেশীয় উৎপাদন সম্প্রসারণের পরিকল্পনা সফল হলে দীর্ঘ মেয়াদে কিছু নতুন চাকরিও তৈরি হতে পারে।

আপাতত নিশ্চিত চিত্র হলো, কয়েকটি মার্কিন প্রতিষ্ঠানে কর্মী ছাঁটাইয়ের ঘটনা ঘটেছে এবং কিছু শ্রমিক ট্রাম্পের শুল্কনীতি নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তবে যুক্তরাষ্ট্রের পুরো উৎপাদন খাতের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে আরও তথ্য প্রয়োজন। মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে চাকরি, উৎপাদন ব্যয় এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম নিয়ে বিতর্ক আরও তীব্র হতে পারে।

ট্যাগ: ট্রাম্পশুল্কনীতিযুক্তরাষ্ট্রচাকরিকারখানাশ্রমিকঅর্থনীতিমধ্যবর্তী নির্বাচন

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।