ব্রেকিং
দুর্গাপূজার মণ্ডপে সিসিটিভি ও অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা নিশ্চিতের নির্দেশ তথ্য প্রতিমন্ত্রীরজিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ৮৪রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীযুক্তরাষ্ট্রে দায়িত্ব পালনের সময় পুলিশ কর্মকর্তা নিহত, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে হত্যা মামলাট্রাম্পের শুল্কনীতিতে চাকরি হারাচ্ছেন মার্কিন শ্রমিক, ক্ষোভ বাড়ছে নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান শিবিরে

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গাদের নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানকে নিয়ে সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ গড়ার আহ্বান জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানকে নিয়ে আঞ্চলিক জোট চান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে চীন, আসিয়ান, জাতিসংঘ, জাপানসহ সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক পক্ষগুলোকে নিয়ে একটি কৌশলগত আঞ্চলিক জোট গঠনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেছেন, বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের নিরাপদ, স্বেচ্ছামূলক, মর্যাদাপূর্ণ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের একক প্রচেষ্টা যথেষ্ট নয়। এ জন্য আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সমন্বিত কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।

রাজধানীর একটি হোটেলে ফাউন্ডেশন ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ আয়োজিত ‘রোহিঙ্গা সংকট: উত্তরণের পথ—টেকসই প্রত্যাবাসন ও স্থায়ী আঞ্চলিক সমাধানের দিকে’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন। তিনি জানান, রোহিঙ্গাদের নিজ দেশে ফেরানোর বিষয়ে বাংলাদেশ কূটনৈতিক তৎপরতা অব্যাহত রেখেছে। সংকটের স্থায়ী সমাধানে সংশ্লিষ্ট দেশ ও আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সক্রিয় সহযোগিতা প্রয়োজন।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, মিয়ানমারের রাখাইন রাজ্যের পরিবর্তিত রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা পরিস্থিতি প্রত্যাবাসনের বিষয়টিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সেখানে মিয়ানমারের আনুষ্ঠানিক সরকারের পাশাপাশি আরাকান আর্মিরও উল্লেখযোগ্য নিয়ন্ত্রণ রয়েছে। ফলে প্রত্যাবাসনের বিষয়ে আলোচনা ও সমঝোতার পথ খুঁজতে বাংলাদেশকে বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এগোতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, সংকট সমাধানে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক যোগাযোগের পাশাপাশি অনানুষ্ঠানিক যোগাযোগের সম্ভাবনাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য শান্তিপূর্ণ প্রত্যাবাসন। এ লক্ষ্য অর্জনে কূটনৈতিক আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সব পথ খোলা রাখার কথাও জানিয়েছেন তিনি। তবে এর অর্থ এই নয় যে প্রত্যাবাসনের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি হয়ে গেছে বা ফেরত পাঠানোর নির্দিষ্ট সময়সূচি ঘোষণা করা হয়েছে।

সেমিনারে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, রোহিঙ্গাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য চীন, দক্ষিণ-পূর্ব এশীয় দেশগুলোর জোট আসিয়ান, জাতিসংঘ ও জাপানসহ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন। এসব পক্ষের কূটনৈতিক ভূমিকা ও সহযোগিতার মাধ্যমে মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের উপযোগী পরিস্থিতি তৈরির বিষয়ে অগ্রগতি সম্ভব হতে পারে। বাংলাদেশের পক্ষে এককভাবে এত জটিল আন্তর্জাতিক সংকটের সমাধান নিশ্চিত করা কঠিন বলেও তিনি ইঙ্গিত দেন।

জাপানের সহযোগিতার প্রসঙ্গ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মিয়ানমার বিষয়ে জাপানের বিশেষ দূত ও নিপ্পন ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইয়োহেই সাসাকাওয়া সম্প্রতি বাংলাদেশ সফর করেছেন। এ সময় রোহিঙ্গা সংকট ও প্রত্যাবাসন নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে তিনি উল্লেখ করেন। জাপানের পক্ষ থেকে সহযোগিতার আশ্বাস পাওয়ার কথাও জানান মন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন জাপান সফরেও প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার বিষয়ে আরও আলোচনা হতে পারে বলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন। তবে ওই আলোচনার মাধ্যমে নির্দিষ্ট কোনো চুক্তি হবে কি না, কিংবা প্রত্যাবাসনের সময়সূচি নির্ধারিত হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। এ বিষয়ে পরবর্তী কূটনৈতিক আলোচনার ফল গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে।

সেমিনারে প্রধানমন্ত্রীর জনপ্রশাসনবিষয়ক উপদেষ্টা মো. ইসমাইল জবিউল্লাহও রোহিঙ্গা সংকটকে শুধু মানবিক সমস্যা বা দ্বিপক্ষীয় বিষয় হিসেবে না দেখে বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থ, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা এবং আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত একটি জটিল সংকট হিসেবে বিবেচনা করার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন। তিনি সংকট মোকাবিলায় সাময়িক ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদি কৌশল ও সমন্বিত জাতীয় উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।

রোহিঙ্গাদের অধিকার ও নিরাপত্তা রক্ষা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসনের জন্য আন্তর্জাতিক সমর্থন বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও সেমিনারে উঠে আসে। প্রত্যাবাসন টেকসই করতে হলে শুধু সীমান্ত পেরিয়ে নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার ব্যবস্থা করলেই হবে না; সেখানে নিরাপত্তা, নাগরিক অধিকার, বাসস্থান ও জীবিকা নির্বাহের সুযোগ নিশ্চিত করার বিষয়গুলোও গুরুত্বপূর্ণ।

সেমিনার শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এ বছর জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতির পদে বাংলাদেশের প্রতিনিধি নির্বাচিত হওয়ায় আন্তর্জাতিক পর্যায়ে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের বিষয়টি আরও জোরালোভাবে তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হয়েছে। চীন, জাপান, ভারত, যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ বিভিন্ন দেশ ও সংস্থার সহযোগিতায় আলোচনার মাধ্যমে টেকসই সমাধানের পথ খুঁজে পাওয়ার বিষয়ে তিনি আশাবাদ প্রকাশ করেন।

রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধান বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ মানবিক, সামাজিক ও নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিষয়। দীর্ঘদিন ধরে বিপুলসংখ্যক বাস্তুচ্যুত মানুষ বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়ে আছে। তাদের নিরাপদে স্বদেশে ফেরার উপযোগী পরিবেশ তৈরি করতে মিয়ানমারের পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক কূটনীতি এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

তবে এখন পর্যন্ত স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে আঞ্চলিক সহযোগিতা ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের কোনো চূড়ান্ত চুক্তি, নির্দিষ্ট তারিখ বা নিশ্চিত বাস্তবায়ন পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়নি। ফলে পরবর্তী সময়ে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর আলোচনা ও সিদ্ধান্তের ওপরই এই উদ্যোগের অগ্রগতি নির্ভর করবে।

ট্যাগ: রোহিঙ্গারোহিঙ্গাসংকটপ্রত্যাবাসনস্বরাষ্ট্রমন্ত্রীবাংলাদেশমিয়ানমার

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।