জিবুতি উপকূলে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু, নিখোঁজ আরও ৮৪
জিবুতি থেকে ইয়েমেন যাওয়ার পথে অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে প্রাণহানির ভয়াবহ ঘটনা ঘটেছে। জাতিসংঘের সংস্থা জানিয়েছে, বহু মানুষ এখনো নিখোঁজ।
আফ্রিকার দেশ জিবুতির উপকূলের কাছে অভিবাসীবাহী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। নৌকাটি জিবুতি থেকে ইয়েমেনের দিকে যাচ্ছিল। জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা জানিয়েছে, দুর্ঘটনার পর আরও ৮৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নৌকাটিতে তিন শতাধিক মানুষ ছিলেন বলে জানা গেছে। দুর্ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান ও বেঁচে যাওয়া ব্যক্তিদের সহায়তার কার্যক্রম চলেছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, নৌকাডুবির ঘটনায় অন্তত ৮২ জন বেঁচে গেছেন। তবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সবাইকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত নয়। এমন দুর্ঘটনায় সমুদ্রে নিখোঁজ ব্যক্তিদের সন্ধান, জীবিতদের চিকিৎসা এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করা উদ্ধারকর্মীদের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।
জিবুতি ও ইয়েমেনের মধ্যবর্তী সমুদ্রপথটি আফ্রিকার হর্ন অঞ্চল থেকে উপসাগরীয় দেশগুলোর দিকে যাওয়ার চেষ্টা করা অভিবাসীদের ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক পথ। দারিদ্র্য, সংঘাত, কর্মসংস্থানের অভাব এবং উন্নত জীবনের প্রত্যাশায় বহু মানুষ এই পথে যাত্রা করেন। অনেকেই অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ছোট নৌকায় সমুদ্র পাড়ি দেন। এতে প্রতিকূল আবহাওয়া, ঢেউ, নৌযানের ত্রুটি এবং পর্যাপ্ত নিরাপত্তা সরঞ্জামের অভাবের কারণে প্রাণহানির ঝুঁকি বেড়ে যায়।
এই পথে যাত্রা করা মানুষের একটি বড় অংশ ইথিওপিয়া থেকে আসেন। তাঁদের কেউ কেউ নিজ দেশে সংঘাত ও অর্থনৈতিক দুরবস্থা থেকে পালিয়ে অন্যত্র কাজের সন্ধান করেন। কিন্তু নিরাপদ ও নিয়মিত অভিবাসনের সুযোগ সীমিত থাকায় অনেকেই পাচারকারী বা অননুমোদিত দালালের সহায়তায় ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রায় নামেন। সমুদ্রে বিপদে পড়লে তাঁদের দ্রুত উদ্ধার পাওয়ার নিশ্চয়তাও থাকে না।
ইয়েমেন নিজেও দীর্ঘদিন ধরে সংঘাত ও মানবিক সংকটে জর্জরিত। দেশটিতে পৌঁছানো মানেই নিরাপদ গন্তব্যে পৌঁছে যাওয়া নয়। সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি, সীমিত কর্মসংস্থান এবং মানবিক সহায়তার ঘাটতি সেখানে অভিবাসীদের আরও অনিশ্চয়তার মধ্যে ফেলতে পারে। তারপরও অনেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের অন্য দেশে যাওয়ার আশায় এই পথ বেছে নেন।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা সতর্ক করেছে, পূর্বাঞ্চলীয় অভিবাসনপথে সমুদ্র দুর্ঘটনা, মানবপাচার, আটক এবং নিখোঁজ হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। সংস্থাটির তথ্য অনুযায়ী, আগের বছরও এই পথে বহু অভিবাসী প্রাণ হারিয়েছেন বা নিখোঁজ হয়েছেন। নতুন এই দুর্ঘটনা আবারও দেখিয়ে দিয়েছে, নিরাপদ যাত্রার সুযোগ না থাকলে মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়েও সমুদ্র পাড়ি দিতে বাধ্য হতে পারেন।
নৌকাডুবির পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ উদ্ধারকাজে সহায়তা করছে। জীবিতদের প্রয়োজনীয় সহায়তা দেওয়া এবং নিহতদের মরদেহের ব্যবস্থাপনা করাও জরুরি হয়ে উঠেছে। নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে চূড়ান্ত তথ্য পেতে অনুসন্ধান ও যাচাই প্রয়োজন। প্রাথমিক হিসাবের সঙ্গে পরবর্তী সময়ে পাওয়া তথ্যের পার্থক্য হতে পারে বলে হতাহতের সংখ্যা সম্পর্কে সর্বশেষ সরকারি ও আন্তর্জাতিক হালনাগাদ অনুসরণ করা গুরুত্বপূর্ণ।
বিশেষজ্ঞ ও মানবিক সহায়তাকারী সংস্থাগুলো দীর্ঘদিন ধরে বলছে, এ ধরনের প্রাণহানি কমাতে নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসনের সুযোগ বাড়ানো, মানবপাচারকারীদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া এবং বিপজ্জনক সমুদ্রপথে উদ্ধার সক্ষমতা জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে অভিবাসনের পেছনে থাকা সংঘাত, দারিদ্র্য ও জীবিকার সংকট মোকাবিলায় উৎস দেশগুলোতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ প্রয়োজন।
এই দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা শুধু সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নয়, অভিবাসীদের মানবিক সুরক্ষার প্রশ্নও সামনে এনেছে। যারা কাজ ও নিরাপদ জীবনের আশায় দেশ ছাড়েন, তাঁদের অনেকেই যাত্রাপথেই জীবন হারান। ঝুঁকিপূর্ণ নৌযাত্রার ওপর নির্ভরতা কমাতে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা এবং মানুষের নিরাপদে চলাচলের বাস্তবসম্মত সুযোগ তৈরি করা জরুরি।
নৌকাডুবিতে অন্তত ১৩৯ জনের মৃত্যুর খবর রয়েছে এবং আরও ৮৪ জন নিখোঁজ। উদ্ধার ও অনুসন্ধান কার্যক্রমের অগ্রগতির সঙ্গে হতাহতের সংখ্যা পরিবর্তিত হতে পারে। তাই পরবর্তী হালনাগাদে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার তথ্য অনুসরণ করা প্রয়োজন।





