ব্রেকিং
প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগআমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগের তদন্তের মুখে পাঁচ টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানপানামায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর স্কুল সেতুযুক্তরাষ্ট্রের পূর্ব উপকূলে ইসাইয়াসের তাণ্ডব, ভারী বৃষ্টি ও বন্যার ঝুঁকিতে লাখো মানুষ

পানামায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর স্কুল সেতু

শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর পানামায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে; শতাধিক পরাঘাতে বাড়িঘর, স্কুল, সেতু ক্ষতিগ্রস্ত, আহত হয়েছেন অন্তত ২৭ জন এবং বিভিন্ন এলাকায় বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পানামায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর স্কুল সেতু
পানামায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর স্কুল সেতু

মধ্য যুক্তরাষ্ট্রের দেশ পানামায় শক্তিশালী দুটি ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির সরকার। শুক্রবার, ৯ অক্টোবর আঘাত হানা ভূমিকম্প দুটির মাত্রা ছিল যথাক্রমে ৭ দশমিক ৭ ও ৬ দশমিক ৬। এর পরপরই একের পর এক পরাঘাত অনুভূত হতে থাকে। এতে দেশটির বিভিন্ন অঞ্চলে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে বাড়িঘর ছেড়ে বাইরে অবস্থান নেন। শনিবারও পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়ায় সরকার জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১০ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ভূমিকম্পে পানামার ১০টি প্রদেশ এবং দুটি আদিবাসী অঞ্চলে ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া গেছে। দেশটির নাগরিক সুরক্ষা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৪২০টি বাড়ি এবং প্রায় একই সংখ্যক সরকারি বিদ্যালয় ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ছাড়া সাতটি হোটেল, অন্তত ১৩টি গির্জা এবং নয়টি সেতু ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। ভূমিকম্পের পর অন্তত ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিবেদন প্রকাশের সময় পর্যন্ত ভূমিকম্পের কারণে কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করেনি কর্তৃপক্ষ।

সবচেয়ে বেশি ক্ষয়ক্ষতির খবর এসেছে ভেরাগুয়াস, হেরেরা, কোকলে ও লস সান্তোস প্রদেশ থেকে। এসব অঞ্চলে বাড়িঘরের দেয়ালে ফাটল দেখা দিয়েছে, কিছু স্থাপনা আংশিক বা পুরোপুরি ধসে পড়েছে এবং কয়েকটি সড়কে ক্ষতির চিহ্ন পাওয়া গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় উদ্ধারকর্মীদের চলাচল ও ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ কঠিন হয়ে পড়ে।

লস সান্তোস প্রদেশের লা ভিয়া দে লস সান্তোস এলাকায় একটি ঐতিহাসিক গির্জা ধসে পড়ার খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকার কিছু বাড়িও ভেঙে পড়ে। নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে অনেক বাসিন্দা ঘরের ভেতরে না থেকে বাইরে রাত কাটান। যেসব বাড়িতে বড় ধরনের ফাটল দেখা দিয়েছে, সেগুলোতে আবার প্রবেশের আগে কর্তৃপক্ষের নির্দেশনার জন্য অপেক্ষা করছেন বাসিন্দারা।

ভূমিকম্পের কেন্দ্রস্থল ছিল হেরেরা প্রদেশের পিতালোসা আরিবা এলাকার কাছাকাছি। যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ভূমিকম্পটির কেন্দ্র ছিল ওই এলাকার প্রায় ১০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং এটি ভূপৃষ্ঠের কাছাকাছি গভীরতায় সংঘটিত হয়। অগভীর ভূমিকম্পে শক্তিশালী কম্পন ভূপৃষ্ঠে বেশি অনুভূত হতে পারে। ফলে কেন্দ্র থেকে দূরের এলাকাতেও ভবন কেঁপে ওঠা এবং স্থাপনার ক্ষতি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

ভূমিকম্পের পর বিজ্ঞানীরা শতাধিক পরাঘাত নথিভুক্ত করেছেন। এর মধ্যে কয়েকটির মাত্রা ছিল ৫ দশমিক ৮, ৫ দশমিক ৫ ও ৫ দশমিক ২। মূল ভূমিকম্পের পর এমন শক্তিশালী কম্পন আবারও ভবন ও অবকাঠামোর ক্ষতি করতে পারে। এ কারণে বাসিন্দাদের ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে দূরে থাকতে এবং জরুরি সেবাকর্মীদের নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।

প্রাকৃতিক দুর্যোগের প্রভাব পড়েছে দেশটির গুরুত্বপূর্ণ জনসেবামূলক অবকাঠামোতেও। পেনোনোমে শহরে হাসপাতাল, সরকারি ভবন ও পানিশোধন ব্যবস্থার কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। একটি পানিশোধন কেন্দ্র স্বাভাবিক সক্ষমতার তুলনায় অনেক কম পানি সরবরাহ করছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে বিশুদ্ধ পানির সরবরাহ এবং স্বাস্থ্যসেবা অব্যাহত রাখা কর্তৃপক্ষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

রাজধানী পানামা সিটির টোকুমেন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভূমিকম্পের পর সাময়িকভাবে কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়েছিল। পরে বিমানবন্দরটি আবার চালু হয়। তবে বিমান চলাচলে বিঘ্নের কারণে কিছু যাত্রী বিভিন্ন বিমানবন্দরে আটকা পড়েন এবং তাঁদের সংযোগকারী উড়োজাহাজের যাত্রা বিলম্বিত বা বাতিল হয়। অন্যদিকে, পানামা খাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্যপথটিতে কার্যক্রম স্বাভাবিক ছিল। নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট স্থাপনাগুলো পরীক্ষা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

ভূমিকম্পের পর কয়েকটি উপকূলীয় এলাকায় সমুদ্রের পানি বৃদ্ধি ও উত্তাল ঢেউয়ের কারণে বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। লস সান্তোস উপকূলের ইসলা কানায় প্রায় ৩০০ জনকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার তথ্য জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। ভূমিকম্পের পর প্রথম দিকে সুনামির সতর্কতা জারি করা হলেও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়েছিল। তবে উপকূলীয় এলাকায় বসবাসকারীদের স্থানীয় কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুসরণ করতে বলা হয়।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশ সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর উদ্ধার ও দুর্যোগ মোকাবিলায় সহায়তার জন্য একটি দল পাঠানোর কথা জানায়। পাশাপাশি মানবিক সহায়তা হিসেবে পাঁচ কোটি নয়, বরং পাঁচ মিলিয়ন মার্কিন ডলার—অর্থাৎ ৫০ লাখ ডলার—সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত জনগোষ্ঠীর কাছে খাদ্যসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী পৌঁছে দিতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পানামা প্রশান্ত মহাসাগরীয় ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে অবস্থিত। এখানে কয়েকটি ভূত্বকীয় পাতের পারস্পরিক গতির কারণে ভূমিকম্পের ঝুঁকি রয়েছে। তবে শক্তিশালী ভূমিকম্পের পরও প্রাণহানির খবর নিশ্চিত না হওয়া এবং গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোর বড় অংশ সচল থাকা পরিস্থিতির একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক। বিশেষজ্ঞদের মতে, ভবন নির্মাণের নিয়মকানুন ও অবকাঠামোর প্রস্তুতি ক্ষয়ক্ষতি কমাতে ভূমিকা রাখতে পারে; তবে নির্দিষ্ট এই ঘটনায় ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ মূল্যায়ন ছাড়া কোনো একটি কারণকে এককভাবে দায়ী করা যায় না।

পানামায় দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা জারি, শতাধিক পরাঘাত এবং বাড়িঘর, বিদ্যালয় ও সেতুর ক্ষয়ক্ষতি দেশটির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। উদ্ধার ও পুনরুদ্ধারের কাজ চলার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত ভবন পরীক্ষা, নিরাপদ পানি সরবরাহ এবং বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয় নিশ্চিত করা এখন প্রধান অগ্রাধিকার। পরিস্থিতির পরিবর্তন অনুযায়ী কর্তৃপক্ষের পরবর্তী নির্দেশনা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে থাকবে।

ট্যাগ: পানামাভূমিকম্পজরুরিঅবস্থাপ্রাকৃতিকদুর্যোগআন্তর্জাতিকসংবাদবিশ্বসংবাদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।