ব্রেকিং
ওমান উপসাগরে ইরানমুখী বাণিজ্যিক জাহাজে মার্কিন যুদ্ধবিমানের হামলা, অচল নৌযানইউক্রেনের নতুন প্রেসিডেন্ট চাইলেন ট্রাম্প, জেলেনস্কির সঙ্গে বিরোধে বাড়ছে আন্তর্জাতিক উত্তেজনানেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল বাড়িঘর ও সেতু, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযানভোটার তালিকা বিতর্কে উত্তাল দিল্লি, নির্বাচন কমিশনপ্রধানের পদত্যাগ দাবিতে রাজপথে তরুণেরাপ্রথম প্রান্তিকে তৈরি পোশাক রপ্তানি বেড়েছে ৬.১০ শতাংশ, আয় ছাড়াল ১০৫৮ কোটি ডলার

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল বাড়িঘর ও সেতু, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান

ভূমিধসে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হয়ে নেপালে আকস্মিক বন্যা, বাড়িঘর ও সেতু ধ্বংস, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে, সতর্কতা জারি হয়েছে।

নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল বাড়িঘর ও সেতু, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান
নেপালে আকস্মিক বন্যায় ভেসে গেল বাড়িঘর ও সেতু, নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান

নেপালের মধ্যাঞ্চলের গোরখা জেলায় বুড়ি গণ্ডকী নদীতে আকস্মিক বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ভূমিধসের কারণে নদীর প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার পর পানি হঠাৎ বেড়ে আশপাশের বসতিতে ছড়িয়ে পড়ে। এতে কয়েকটি গ্রামের বাড়িঘর, সেতু এবং নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতি বিপজ্জনক হয়ে ওঠায় নদীর তীরবর্তী বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

স্থানীয় প্রশাসনের প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, চুমনুব্রি ও ধারচে এলাকার বিভিন্ন বসতিতে বেশ কয়েকটি বাড়ি বন্যার পানিতে ভেসে গেছে। আরও কিছু বাড়িতে পানি ঢুকেছে এবং কয়েকটি ঘরবাড়ি ঝুঁকির মুখে পড়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার প্রকৃত পরিমাণ নির্ধারণে প্রশাসন কাজ করছে। দুর্গম পাহাড়ি অঞ্চলে যোগাযোগব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় সব জায়গার পরিস্থিতি সম্পর্কে তাৎক্ষণিকভাবে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে।

বন্যায় দুটি ঝুলন্ত সেতু এবং একটি লোহার সেতু ভেসে গেছে বলে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। গোরখা ও ধাদিং জেলার মধ্যে যোগাযোগের জন্য গুরুত্বপূর্ণ আরুগাট এলাকার একটি সেতুও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব সেতু স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচল, পণ্য পরিবহন এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। সেতু নষ্ট হয়ে যাওয়ায় উদ্ধারকাজ ও ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছানো আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে।

বন্যার উৎপত্তি সম্পর্কে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গোরখা জেলার চুমচেট এলাকার কাছে বড় ধরনের ভূমিধসের চিহ্ন দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, ভূমিধসে বুড়ি গণ্ডকী নদীর একটি শাখার প্রবাহ আটকে সাময়িক জলাধারের মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। পরে আটকে থাকা পানি হঠাৎ নেমে আসায় নদীর পানি দ্রুত বেড়ে যায়। তবে ঘটনার সুনির্দিষ্ট কারণ এখনো চূড়ান্তভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বিভিন্ন তথ্য পরীক্ষা করছেন।

বন্যায় নিখোঁজ মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলছে। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে চুমচেট এলাকায় নদীর তীরবর্তী একটি ছাউনিতে থাকা কয়েকজনের নিখোঁজ হওয়ার কথা বলা হয়েছে। এ ছাড়া দুর্গম এলাকায় যাতায়াতকারী কয়েকজন পশুপালকের সঙ্গে যোগাযোগ করা যাচ্ছিল না বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে তাঁদের নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি চূড়ান্তভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। নেপালের সেনাবাহিনী হেলিকপ্টারের সাহায্যে জগৎ এলাকার ঝুঁকিপূর্ণ স্থান থেকে কয়েকজনকে উদ্ধার করেছে। প্রাথমিক প্রতিবেদন প্রকাশের সময় কোনো মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়নি।

নদীর পানি শুধু গোরখা জেলাতেই নয়, ভাটির অন্যান্য এলাকাতেও বিপদের আশঙ্কা তৈরি করেছে। কর্তৃপক্ষ তানাহুন, চিতওয়ান, পূর্ব নাওয়ালপরাসি ও পশ্চিম নাওয়ালপরাসির নদীতীরবর্তী বাসিন্দাদের সতর্ক করেছে। নদীর পানি বাড়ার ঝুঁকি থাকায় মানুষকে নদীর তীর থেকে দূরে থাকতে বলা হয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে পুলিশ ও সেনাবাহিনী কাজ করছে। প্রয়োজন অনুযায়ী ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার প্রস্তুতিও রাখা হয়েছে।

বন্যার পানিতে নির্মাণাধীন বুড়ি গণ্ডকী জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের একটি শ্রমিকশিবির ও কিছু সরঞ্জামও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রকল্পটির নির্মাণকাজে ব্যবহৃত অবকাঠামো নষ্ট হওয়ায় আর্থিক ক্ষতির পাশাপাশি কাজের অগ্রগতিও বাধাগ্রস্ত হতে পারে। তবে ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণাঙ্গ আর্থিক হিসাব এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রকল্প এলাকায় অবস্থানরত কয়েকজন কর্মী নিরাপদে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হয়েছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।

নেপাল এখনো কয়েক সপ্তাহ আগের ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসের ক্ষয়ক্ষতি কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, আগস্টের দুর্যোগে অন্তত ১ হাজার ৪৫৫ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল এবং ৫ হাজার ২৮৫ জন নিখোঁজ ছিলেন। ওই দুর্যোগে বহু মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হন এবং হাজার হাজার বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়। পুনর্গঠনের জন্য বিপুল অর্থের প্রয়োজন হতে পারে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছিল। নতুন বন্যা দেশটির পুনর্বাসন ও অবকাঠামো পুনর্নির্মাণের কাজে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো নিখোঁজদের সন্ধান, ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া এবং যোগাযোগব্যবস্থা পুনরুদ্ধার করা। পাহাড়ি নদীতে ভূমিধসের কারণে পানি আটকে গেলে তা হঠাৎ মুক্ত হয়ে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে স্থানীয় প্রশাসনের সতর্কবার্তা অনুসরণ, নদীর তীর থেকে দূরে থাকা এবং জরুরি নির্দেশনা মেনে চলা প্রয়োজন। ক্ষয়ক্ষতির চূড়ান্ত হিসাব ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের বিষয়ে নতুন তথ্য পাওয়া গেলে পরিস্থিতির পূর্ণাঙ্গ চিত্র আরও স্পষ্ট হবে ।

ট্যাগ: নেপালনেপালেরবন্যাআকস্মিকবন্যা

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।