ব্রেকিং
জর্জিয়ায় পারিবারিক গুলির ঘটনায় পাঁচজন নিহত, আগের জরুরি ফোনকল খতিয়ে দেখছে পুলিশমার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি নির্বাচন নিয়ে তীব্র লড়াই, ভোটের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আদালতের ভবিষ্যৎপ্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগআমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগের তদন্তের মুখে পাঁচ টেলিভিশন প্রতিষ্ঠান

মার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি নির্বাচন নিয়ে তীব্র লড়াই, ভোটের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আদালতের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানায় সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনা বাড়ছে। বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা রক্ষায় সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবেও ভোট দেবেন নাগরিকেরা।

মার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি নির্বাচন নিয়ে তীব্র লড়াই, ভোটের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আদালতের ভবিষ্যৎ
মার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি নির্বাচন নিয়ে তীব্র লড়াই, ভোটের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আদালতের ভবিষ্যৎ

যুক্তরাষ্ট্রের মন্টানা অঙ্গরাজ্যে সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে রাজনৈতিক বিতর্ক তীব্র হয়ে উঠেছে। বিচারপতিদের নির্বাচন দলনিরপেক্ষ থাকবে, নাকি রাজনৈতিক দলগুলো আরও সরাসরি প্রভাব বিস্তারের সুযোগ পাবে—এই প্রশ্ন এখন অঙ্গরাজ্যটির গুরুত্বপূর্ণ আলোচনার বিষয়। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ভোটাররা সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি নির্বাচনের পাশাপাশি বিচারপতিদের নির্বাচন দলনিরপেক্ষ রাখার বিষয়ে সংবিধান সংশোধনের একটি প্রস্তাবেও সিদ্ধান্ত নেবেন। এই নির্বাচন শুধু একজন বিচারপতি বেছে নেওয়ার বিষয় নয়; বরং বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও আদালতের ওপর রাজনৈতিক প্রভাবের ভবিষ্যৎ নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছে।

মন্টানার সুপ্রিম কোর্টের আসনটির জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন অ্যামি এডি ও ড্যান উইলসন। তাঁরা দুজনই অঙ্গরাজ্যের ফ্ল্যাটহেড কাউন্টির জেলা আদালতের বিচারক। গত জুনে অনুষ্ঠিত প্রাথমিক নির্বাচনে এডি উইলসনের চেয়ে ৮ হাজারেরও কম ভোটের ব্যবধানে এগিয়ে ছিলেন। ওই নির্বাচনে প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার ভোট পড়েছিল। অন্য কোনো প্রার্থী না থাকায় দুজনই নভেম্বরের সাধারণ নির্বাচনে আবার মুখোমুখি হচ্ছেন। যদিও নির্বাচনটি আনুষ্ঠানিকভাবে দলনিরপেক্ষ, তবু দুই প্রার্থীর প্রতি রাজনৈতিক গোষ্ঠীগুলোর সমর্থন প্রতিদ্বন্দ্বিতাটিকে আরও আলোচিত করে তুলেছে।

এই নির্বাচনের গুরুত্ব বেড়েছে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মন্টানার সুপ্রিম কোর্টের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ রায়ের কারণে। আদালত গর্ভপাত সীমিত করার কিছু আইন বাতিল করেছে, নির্বাচনের দিন ভোটার নিবন্ধনে বাধা সৃষ্টি করা আইন বাতিল করেছে এবং পরিবেশ সুরক্ষাসংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ মামলায় অঙ্গরাজ্যের দায়বদ্ধতা বহাল রেখেছে। ওই পরিবেশ মামলায় আদালত দেখতে পায়, জীবাশ্ম জ্বালানির প্রকল্প অনুমোদনের সময় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব যথাযথভাবে বিবেচনা না করায় অঙ্গরাজ্যের সংবিধানে থাকা পরিচ্ছন্ন পরিবেশের অধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এসব সিদ্ধান্ত রিপাবলিকান আইনপ্রণেতাদের একাংশের অসন্তোষের কারণ হয়েছে।

মন্টানার আইনসভায় রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে তাঁরা বিচার বিভাগ নিয়ে বিভিন্ন আইন প্রস্তাব করেছেন। এ বছরের নির্বাচন থেকে কার্যকর হওয়া একটি নতুন আইনে রাজনৈতিক দলগুলো বিচারপতি পদপ্রার্থীদের নির্বাচনী প্রচারে অর্থ দিতে পারবে। বিচারপতিদের নির্বাচন সরাসরি দলীয় নির্বাচনে রূপান্তরের একটি প্রস্তাব অঙ্গরাজ্যের সিনেটে পাস হলেও প্রতিনিধি পরিষদে পাস হয়নি। এই উদ্যোগের ফলে বিচারকদের নির্বাচন কতটা নিরপেক্ষ থাকবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর অর্থায়ন তাঁদের স্বাধীন সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রভাব ফেলতে পারে কি না, তা নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।

বিচারপতি নির্বাচনে দলীয় প্রভাব সীমিত রাখার পক্ষে থাকা নাগরিক সংগঠনগুলোও এ পরিস্থিতিতে সক্রিয় হয়েছে। তাঁদের উদ্যোগে মন্টানার সংবিধানে বিচারপতিদের নির্বাচন দলনিরপেক্ষ রাখার প্রস্তাব নভেম্বরের ব্যালটে অন্তর্ভুক্ত হয়েছে। প্রস্তাবটি পাস হলে সংবিধানে দলনিরপেক্ষ বিচারপতি নির্বাচনের বিষয়টি আরও শক্তভাবে সুরক্ষিত হবে। যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক অধিকার সংগঠন আমেরিকান সিভিল লিবার্টিজ ইউনিয়ন এই প্রচারে ২১ লাখ ডলার দেওয়ার কথা জানিয়েছে। সংগঠনটি অন্য কয়েকটি অঙ্গরাজ্যের সুপ্রিম কোর্ট নির্বাচনেও অর্থ ব্যয় করছে।

এডি রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে অনুদান নেওয়ার বিরোধিতা করেছেন। তাঁর মতে, রাজনৈতিক দল থেকে অর্থ গ্রহণ করলে বিচার বিভাগের নিরপেক্ষতা সম্পর্কে সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। অন্যদিকে উইলসন এডির পক্ষে আইনজীবীদের অনুদান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। তাঁর বক্তব্য, বিচারকের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীদের আর্থিক সম্পর্কও বিচারিক বস্তুনিষ্ঠতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করতে পারে। ফলে বিতর্কটি শুধু দুই প্রার্থীর ব্যক্তিগত যোগ্যতা নিয়ে নয়; বিচারকদের নির্বাচনী অর্থায়ন এবং তাঁদের নিরপেক্ষতা কীভাবে নিশ্চিত করা হবে, সেই বৃহত্তর প্রশ্নও সামনে এসেছে।

মন্টানার এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা যুক্তরাষ্ট্রের অন্য অঙ্গরাজ্যগুলোর বিচারপতি নির্বাচনসংক্রান্ত বিতর্কের সঙ্গেও সম্পর্কিত। ২০২৫ সালে উইসকনসিনের সুপ্রিম কোর্টের একটি নির্বাচনে ১০ কোটি ডলারেরও বেশি ব্যয় হয়েছিল বলে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে। উত্তর ক্যারোলাইনা ও ওহাইওতেও বিচারপতি নির্বাচন দলীয় পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পরিবর্তন ঘটেছে। এসব অঙ্গরাজ্যে আদালতের সংখ্যাগরিষ্ঠতা বদলানোর পর ভোটার পরিচয় যাচাই, নির্বাচনী মানচিত্র এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে রায়ের পরিবর্তন দেখা গেছে। তাই অঙ্গরাজ্যের সর্বোচ্চ আদালতের নিয়ন্ত্রণ ভবিষ্যতের আইন ও জননীতিতে প্রভাব ফেলতে পারে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা মনে করছেন।

মন্টানার এবারের নির্বাচনে অবসর নিতে যাওয়া এক বিচারপতির আসন পূরণ করা হবে। ওই বিচারপতি অতীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সিদ্ধান্তমূলক অবস্থানে ছিলেন। ফলে নতুন বিচারপতি নির্বাচিত হলে আদালতের ভবিষ্যৎ সিদ্ধান্তে তাঁর ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। তবে নির্বাচনের ফল কী হবে বা সংবিধান সংশোধনের প্রস্তাবটি পাস হবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। নভেম্বরের ভোটের ফলই নির্ধারণ করবে মন্টানায় বিচারপতি নির্বাচনের পদ্ধতি এবং আদালতের ভবিষ্যৎ নিয়ে চলমান বিতর্ক কোন দিকে এগোবে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রমন্টানাসুপ্রিমকোর্টবিচারপতিনির্বাচনবিচারবিভাগরাজনীতিনির্বাচনবিচার বিভাগের

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।