যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের নরফোক শহরে ২০২৬ সালের ৭ জুন একটি দোকানে সংঘর্ষের পর ৭৭ বছর বয়সী বার্ট ডি. আতিয়েনজা গুরুতর আহত হন। পরদিন ৮ জুন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। নরফোক পুলিশ বিভাগের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছিল নর্থ মিলিটারি হাইওয়ের ১১৭০ নম্বর ঠিকানায় অবস্থিত ওয়ালমার্ট দোকানে। পুলিশ বিকেল প্রায় ৩টা ৫০ মিনিটে হামলার খবর পেয়ে সেখানে পৌঁছায় এবং অচেতন অবস্থায় ওই বৃদ্ধকে উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠায়।
প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানায়, দোকানের ভেতরে অন্য ব্যক্তিদের সঙ্গে বাক্বিতণ্ডার পর আতিয়েনজার ওপর হামলা হয়। তদন্তের ভিত্তিতে ৪২ বছর বয়সী এরিকা মিচেল ও ৪৪ বছর বয়সী ট্রাভিস হোয়াইটের বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে গুরুতর আঘাত করা, গুরুতর আঘাতের অভিযোগ এবং অপরাধের ষড়যন্ত্রের অভিযোগ আনা হয়। তাঁদের জামিন ছাড়া কারাগারে রাখা হয়েছিল বলে পুলিশের প্রাথমিক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ রয়েছে। ঘটনার সময় ১৭ বছর বয়সী এক কিশোরীর বিরুদ্ধেও হামলা ও সংশ্লিষ্ট অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরবর্তী সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, কিশোরীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পরিবর্তন করে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ যুক্ত করা হয়।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানে ঘটনার আগের কিছু মুহূর্তের ভিডিও এবং আদালতে উপস্থাপিত হামলার দৃশ্যের তথ্য উঠে আসে। প্রত্যক্ষদর্শীর ধারণ করা ভিডিওতে দোকানের ভেতরে আতিয়েনজা ও এক কর্মীর মধ্যে উত্তপ্ত বাক্বিতণ্ডা শোনা যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর ভাষ্য অনুযায়ী, ওই কর্মী ফোনে তাঁর বাবাকে দোকানে ডেকে পাঠিয়েছিলেন এবং আতিয়েনজার পোশাকের বিবরণ দিয়েছিলেন। পরে আদালতের ভিডিওতে দেখা যায়, কর্মীর বাবা-মা দোকানে প্রবেশের পর আতিয়েনজার ওপর হামলা করেন। তাঁকে মাটিতে পড়ে থাকা অবস্থায় আঘাত ও লাথি মারার দৃশ্যও ভিডিওতে দেখা গেছে বলে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে।
আতিয়েনজার স্ত্রী জোসেফিন আতিয়েনজা সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা গির্জা থেকে ফেরার পথে কেনাকাটা করতে দোকানে গিয়েছিলেন। কেনাকাটার সময় একটি ভারী ঠেলাগাড়ি নিয়ে চলাচলকে কেন্দ্র করে তাঁর স্বামীর সঙ্গে এক কর্মীর কথা-কাটাকাটি হয়। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, পরে ওই কর্মীর পরিবারের সদস্যরা দোকানে এসে তাঁর স্বামীকে আক্রমণ করেন। তিনি আরও জানান, স্বামী মাটিতে পড়ে যাওয়ার পরও তাঁকে লাথি মারা হচ্ছিল এবং তিনি হামলাকারীদের থামতে বলেছিলেন। গুরুতর আহত অবস্থায় আতিয়েনজাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়, কিন্তু পরদিন তাঁর মৃত্যু হয়। চিকিৎসা পরীক্ষার ফল সম্পর্কে স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, মাথায় ভোঁতা বস্তুর আঘাতের কারণে আতিয়েনজার মৃত্যু হয় এবং ঘটনাটিকে হত্যাজনিত মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হয়। অভিযুক্তদের আইনগত দায় অবশ্য আদালতের বিচারপ্রক্রিয়ায় নির্ধারিত হবে। অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে মানেই আদালতে তাঁদের অপরাধ প্রমাণিত হয়েছে—এমন নয়। অভিযুক্ত পক্ষের একজন আইনজীবীও সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, তাঁর মক্কেলের ন্যায্য বিচারের অধিকার রয়েছে।
তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ৫ অক্টোবরের দাবির সঙ্গে জুনের এই প্রাণঘাতী হামলার সরাসরি সম্পর্ক প্রতিষ্ঠিত হয়নি। ভাইরাল পোস্টে চারজন কৃষ্ণাঙ্গ পুরুষ এক শ্বেতাঙ্গ ব্যক্তিকে শান্ত হতে বলার কারণে মারধর করেছেন বলে দাবি করা হয়েছে। কিন্তু জুনের ঘটনায় পুলিশি নথি ও সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে যে তথ্য পাওয়া যায়, তাতে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিচয়, ঘটনার স্থান এবং অভিযুক্তদের বিবরণ ভিন্ন। তাই জুনের হামলাকে অক্টোবরের ভাইরাল দাবির প্রমাণ হিসেবে উপস্থাপন করা যাবে না।
নরফোক পুলিশের পুরোনো সংবাদ বিজ্ঞপ্তি ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন থেকে একটি বিষয় নিশ্চিত: শহরটিতে দোকানের ভেতরে সংঘর্ষের পর এক বৃদ্ধের মৃত্যু হয়েছিল এবং এ ঘটনায় একাধিক ব্যক্তির বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছিল। কিন্তু সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো নতুন দাবির সত্যতা যাচাই করতে হলে ওই ভিডিওর মূল উৎস, ধারণের তারিখ, সুনির্দিষ্ট স্থান এবং সংশ্লিষ্ট পুলিশি নথি শনাক্ত করা প্রয়োজন। এসব তথ্য ছাড়া দুই ঘটনাকে এক করে সংবাদ প্রকাশ করলে পাঠক বিভ্রান্ত হতে পারেন।