ব্রেকিং
মার্কিন অঙ্গরাজ্যে বিচারপতি নির্বাচন নিয়ে তীব্র লড়াই, ভোটের সিদ্ধান্তে বদলাতে পারে আদালতের ভবিষ্যৎপ্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগে নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত, ৩ লাখ ১৯ হাজার চাকরিপ্রার্থীর ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগআমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তাসংবাদমাধ্যমের সম্প্রচার বন্ধের ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রে বিচার বিভাগের তদন্তের মুখে পাঁচ টেলিভিশন প্রতিষ্ঠানপানামায় শক্তিশালী দুই ভূমিকম্পের পর জরুরি অবস্থা ঘোষণা, ক্ষতিগ্রস্ত বাড়িঘর স্কুল সেতু

আমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি শুল্কের প্রভাবে উৎপাদন ব্যয় ও চাকরি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে; মিশিগানসহ বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ হওয়ায় শ্রমিকেরা আর্থিক অনিশ্চয়তায় পড়ছেন।

আমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা
আমদানি শুল্কের চাপে যুক্তরাষ্ট্রের কারখানায় চাকরি হারাচ্ছেন শ্রমিকেরা, বাড়ছে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ, কর্মী ছাঁটাই এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। আমদানি করা কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশের ওপর শুল্ক আরোপের ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়ছে এমন কিছু প্রতিষ্ঠানের ওপর, যেগুলো বিদেশ থেকে আনা যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভর করে পণ্য তৈরি করে। এসব পরিস্থিতিতে চাকরি হারানো শ্রমিকদের ভবিষ্যৎ এবং দেশটির উৎপাদনশিল্পের পুনরুদ্ধার নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ১১ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিশিগান অঙ্গরাজ্যের জেল্যান্ড শহরের হাওয়ার্ড মিলার নামের একটি ঘড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠান দীর্ঘদিন ব্যবসা করার পর কারখানা বন্ধ করে দেয়। প্রতিষ্ঠানটি বিদেশে উৎপাদিত যন্ত্রাংশের ওপর নির্ভরশীল ছিল। কারখানা বন্ধ হওয়ার পর প্রায় ২০০ কর্মী চাকরি হারান। তাঁদের মধ্যে ছিলেন নেলসন ভ্যান্ডারমির, যিনি দীর্ঘদিন ধরে পণ্য নকশার কাজ করতেন। চাকরি হারানোর পর তাঁর আয় ও ভবিষ্যৎ কর্মসংস্থান নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।

এমন শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা তুলে ধরা হয়েছে, যাঁরা আগে রাজনৈতিকভাবে রিপাবলিকানদের সমর্থন করলেও এখন অর্থনৈতিক নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। তাঁদের উদ্বেগের একটি বড় কারণ হলো, আমদানি শুল্কের মাধ্যমে দেশে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর যে প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল, বাস্তবে কিছু প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রে তার বিপরীত পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। তবে শ্রমিকদের রাজনৈতিক অবস্থান এক নয় এবং প্রত্যেকের সিদ্ধান্তের পেছনে বিভিন্ন কারণ রয়েছে।

আমদানি শুল্ক হলো বিদেশ থেকে পণ্য আনার সময় আরোপ করা কর। কোনো প্রতিষ্ঠান বিদেশ থেকে যন্ত্রাংশ, ধাতু বা উৎপাদনের অন্যান্য উপকরণ কিনলে শুল্কের কারণে সেগুলোর মোট ব্যয় বেড়ে যেতে পারে। প্রতিষ্ঠানটি তখন কয়েকটি সিদ্ধান্তের মুখে পড়ে। তারা পণ্যের দাম বাড়াতে পারে, মুনাফা কমিয়ে ব্যয় সামলাতে পারে, বিকল্প সরবরাহকারী খুঁজতে পারে অথবা উৎপাদন ও কর্মীর সংখ্যা কমাতে পারে। কোন সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে, তা নির্ভর করে প্রতিষ্ঠানের আর্থিক অবস্থা, বাজারের চাহিদা এবং বিকল্প উৎসের ওপর।

শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি হলো, বিদেশি পণ্যের দাম বাড়লে দেশীয় উৎপাদকদের প্রতিযোগিতায় সুবিধা হতে পারে। এতে কিছু প্রতিষ্ঠান দেশে নতুন কারখানা স্থাপন বা উৎপাদন বাড়ানোর উৎসাহ পেতে পারে। কিন্তু এই সুবিধা সব শিল্পে সমানভাবে আসে না। যেসব দেশীয় কারখানা নিজেরাই বিদেশি কাঁচামাল ও যন্ত্রাংশ আমদানি করে, তাদের উৎপাদন ব্যয়ও বেড়ে যেতে পারে। ফলে দেশীয় উৎপাদন বাড়ানোর নীতি এবং সেই উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় উপকরণের ব্যয় দুটি বিষয় পরস্পরের সঙ্গে জড়িত।

শ্রমিকদের জন্য সবচেয়ে বড় উদ্বেগ হলো চাকরি হারানোর পর নতুন কাজ খুঁজে পাওয়া। একটি কারখানা বন্ধ হয়ে গেলে শুধু সরাসরি কর্মরত শ্রমিকেরাই ক্ষতিগ্রস্ত হন না। আশপাশের পরিবহন, প্যাকেজিং, সরবরাহ, রক্ষণাবেক্ষণ এবং অন্যান্য সেবার সঙ্গে যুক্ত মানুষও কাজ হারাতে পারেন। স্থানীয় দোকানপাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে মানুষের ব্যয় কমে গেলে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে প্রভাব পড়তে পারে। তবে নির্দিষ্ট একটি কারখানা বন্ধ হওয়ার কারণে একটি অঞ্চলের সব অর্থনৈতিক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে—এমন সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে আরও তথ্য প্রয়োজন।

যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য শিল্পাঞ্চলেও উৎপাদন ব্যয় এবং কর্মসংস্থান নিয়ে উদ্বেগ দেখা যাচ্ছে। আইওয়া, কানসাস ও ওহাইওর কিছু প্রতিষ্ঠানে কর্মী কমানো এবং উৎপাদনসংক্রান্ত পরিবর্তনের খবর প্রকাশিত হয়েছে। এসব ঘটনার পেছনে আমদানি করা উপকরণের ব্যয় ছাড়াও বাজারের চাহিদা, ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, প্রযুক্তিগত পরিবর্তন এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি ভূমিকা রাখতে পারে।

কারখানার শ্রমিকদের অভিজ্ঞতা এমন এক সময়ে সামনে এসেছে, যখন যুক্তরাষ্ট্রে মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘনিয়ে আসছে। অর্থনীতি, কর্মসংস্থান, মূল্যস্ফীতি এবং বাণিজ্যনীতি ভোটারদের আলোচনার গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। অনেক শ্রমিক জানতে চাইছেন, শিল্পে বিনিয়োগ বাড়ানোর নীতিগুলো তাঁদের জন্য স্থায়ী চাকরি ও ভালো আয়ের সুযোগ তৈরি করছে কি না। আবার কিছু ব্যবসায়ী মনে করেন, দেশীয় উৎপাদনকে দীর্ঘমেয়াদে শক্তিশালী করতে বিদেশি পণ্যের ওপর নির্ভরতা কমানো প্রয়োজন।

তবে শুল্কের প্রভাব মূল্যায়নের সময় শুধু কারখানা খোলা বা বন্ধ হওয়ার সংখ্যা দেখলেই হবে না। নতুন বিনিয়োগ কতটা হচ্ছে, কতটি স্থায়ী চাকরি তৈরি হচ্ছে, পণ্যের দাম কতটা বাড়ছে এবং ভোক্তাদের ক্রয়ক্ষমতা কীভাবে পরিবর্তিত হচ্ছে—এসব বিষয়ও বিবেচনা করতে হবে। একই সঙ্গে আমদানি শুল্কের কারণে যেসব দেশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে, সেসব দেশের বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের পণ্য বিক্রির ওপরও প্রভাব পড়তে পারে।

উৎপাদনশিল্পের ভবিষ্যৎ নিয়ে একাধিক প্রশ্ন উঠে এসেছে। শুল্কের মাধ্যমে দেশীয় উৎপাদনকে উৎসাহিত করার সুবিধা কতটা স্থায়ী হবে, প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি ব্যয় কীভাবে সামলাবে এবং চাকরি হারানো শ্রমিকেরা কত দ্রুত নতুন কর্মসংস্থান পাবেন এসবের উত্তর সময়ের সঙ্গে আরও স্পষ্ট হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন শিল্পাঞ্চলে কারখানা বন্ধ ও কর্মী ছাঁটাইয়ের খবর অর্থনীতি ও কর্মসংস্থানের বাস্তব চ্যালেঞ্জ সামনে এনেছে। আমদানি শুল্ক কিছু দেশীয় উৎপাদককে সুবিধা দিতে পারে, আবার বিদেশি উপকরণের ওপর নির্ভরশীল প্রতিষ্ঠানগুলোর ব্যয়ও বাড়াতে পারে। তাই শুল্কনীতির প্রকৃত ফল নির্ধারণ করতে কর্মসংস্থান, উৎপাদন, পণ্যের মূল্য এবং শ্রমিকদের আয়—সব দিকের তথ্য একসঙ্গে বিশ্লেষণ করা প্রয়োজন।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রকারখানাচাকরিহারাকর্মসংস্থানআমদানিশুল্কঅর্থনীতিশ্রমিকবিশ্বসংবাদ

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সংবাদ পান আপনার ইনবক্সে

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।