রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় মিসরীয় বিমানকর্মীর মৃত্যু, নিহত ১২ আহত ৩০৯
সৌদি আরবের রিয়াদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় মিসরীয় বিমানকর্মী আজ্জা রমজির মৃত্যু হয়েছে, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২, আহত ৩০৯ জন।
লিখেছেন Desk Reporter- সিএসবি নিউজ ইউএসএ
প্রকাশিত
রিয়াদ বিমানবন্দরে হামলায় মিসরীয় বিমানকর্মীর মৃত্যু, নিহত ১২ আহত ৩০৯
৭৯৪ বার পড়া হয়েছে ৫ মিনিটে পড়ুন
সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ভয়াবহ হামলার ঘটনায় প্রাণ হারিয়েছেন মিসরীয় এক বিমানকর্মী। শনিবার, ১০ অক্টোবরের হামলায় মোট ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন বলে সৌদি আরবের বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের বরাত দিয়ে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। নিহতদের মধ্যে সৌদি নাগরিকদের পাশাপাশি বাংলাদেশ, মিসর, যুক্তরাষ্ট্র, জর্ডান, সিরিয়া, ফিলিস্তিন ও সুদানের নাগরিকও রয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নিহত মিসরীয় নারীকে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম আজ্জা রমজি হুসাইন নামে শনাক্ত করেছে। তিনি বিমানবন্দরে কর্মরত একজন বিমানসেবাকর্মী ছিলেন বলে মিসরীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া কিছু বার্তায় তাঁর নামের সঙ্গে অতিরিক্ত নাম যুক্ত করা হয়েছে এবং তাঁকে সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থার কর্মী হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। এসব বিবরণের সবটুকু স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি। প্রকাশিত মিসরীয় প্রতিবেদনে তাঁকে অন্য একটি সৌদি বিমান সংস্থার বিমানসেবাকর্মী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। তাই তাঁর পূর্ণ নাম, নিয়োগকর্তা ও চাকরির পরিচয় উল্লেখের ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য সরকারি ঘোষণা অনুসরণ করাই যুক্তিযুক্ত।
মিসরীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, নিহত আজ্জা রমজির বয়স ছিল ২৮ বছর। বিমানবন্দরে হামলার সময় তিনি আহত হন এবং পরে তাঁর মৃত্যু হয় বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। তাঁর মৃত্যুতে মিসরীয় নাগরিকদের মধ্যে শোকের সৃষ্টি হয়েছে। তবে তাঁর মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময়, আঘাতের ধরন এবং চিকিৎসাধীন অবস্থার বিস্তারিত তথ্য প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে পুরোপুরি স্পষ্ট নয়। ফলে এসব বিষয়ে অনুমাননির্ভর তথ্য প্রকাশ করা সমীচীন হবে না।
ঘটনার পর মিসরের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা সৌদি আরবে অবস্থানরত মিসরীয় নাগরিকদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন বলে দেশটির সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। একই ঘটনায় আরও কয়েকজন মিসরীয় নাগরিক আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে বিমানবন্দরের কর্মী এবং ঘটনার সময় সেখানে উপস্থিত যাত্রীও রয়েছেন বলে প্রকাশিত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। আহতদের চিকিৎসা, পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্ব পাচ্ছে। তবে মৃতদেহ দেশে ফেরত পাঠানোর নির্দিষ্ট তারিখ কিংবা আনুষ্ঠানিক প্রত্যাবাসন সম্পন্ন হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
সৌদি কর্তৃপক্ষের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবরের হামলায় নিহত ১২ জনের মধ্যে চারজন সৌদি নাগরিক। বাকি আটজন বিভিন্ন দেশের নাগরিক। তাঁদের মধ্যে দুইজন বাংলাদেশি এবং একজন করে মিসরীয়, মার্কিন, জর্ডানি, সিরীয়, ফিলিস্তিনি ও সুদানি নাগরিক রয়েছেন। হামলায় আহত হয়েছেন ৩০৯ জন। তাঁদের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। আহতদের মধ্যে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিরাও রয়েছেন বলে সৌদি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। এই পরিসংখ্যান হামলার ভয়াবহতা এবং আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
তবে এই হামলার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্যগত পার্থক্য বোঝা জরুরি। ৮ অক্টোবর বৃহস্পতিবারও রিয়াদের একই বিমানবন্দরকে ঘিরে হামলার ঘটনা ঘটেছিল বলে সৌদি কর্তৃপক্ষ ও সংবাদমাধ্যম জানিয়েছিল। সেই ঘটনায় তিনজন সৌদি নাগরিক নিহত হন এবং সৌদি আরবের জাতীয় বিমান সংস্থার একটি বিমান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ওই ঘটনায় নিহত বিমানচালক ছিলেন হামুদ আলি আলকালথামি। বিমানটি মাটিতে অবস্থান করছিল এবং ঘটনার সময় সেটিতে কোনো যাত্রী ছিলেন না বলে বিমান সংস্থাটি জানিয়েছিল।
অন্যদিকে, ১০ অক্টোবরের হামলা নিয়ে প্রকাশিত পরবর্তী প্রতিবেদনে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২ এবং আহতের সংখ্যা ৩০৯ বলে জানানো হয়েছে। এই দুই দিনের ঘটনা ও হতাহতের হিসাব এক করে দেখলে বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে। বৃহস্পতিবারের ঘটনায় নিহত সৌদি বিমানচালক এবং শনিবারের ঘটনায় নিহত মিসরীয় বিমানকর্মীকে একই ঘটনার শিকার হিসেবে উপস্থাপন করা ঠিক হবে না। একই বিমানবন্দরকে ঘিরে একাধিক হামলার খবর প্রকাশিত হওয়ায় প্রতিটি ঘটনার তারিখ, নিহতের পরিচয় এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য আলাদাভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের জন্য এ ধরনের হামলার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে যাত্রী, কর্মী এবং উড়োজাহাজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, আহতদের হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং হামলায় সৃষ্ট ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের কাজ চলছে। আগের হামলার পর বিমানবন্দরের কার্যক্রম স্বাভাবিক হওয়ার খবরও প্রকাশিত হয়েছিল। তবে পরবর্তী হামলার কারণে পরিস্থিতি নতুন করে জটিল হয়েছে। যাঁদের নির্ধারিত যাত্রা রয়েছে, তাঁদের বিমান সংস্থার সরাসরি বার্তা এবং বিমানবন্দরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেখে যাত্রা পরিকল্পনা করা উচিত। পুরোনো সময়সূচি বা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনিশ্চিত পোস্টের ওপর নির্ভর করে বিমানবন্দরের উদ্দেশে রওনা দেওয়া ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। এই হামলার পেছনে কারা দায়ী, তা নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোর তথ্য সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। ৮ অক্টোবরের হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ প্রাথমিক ঘোষণায় দায়ী পক্ষের নাম জানায়নি। অন্যদিকে ১০ অক্টোবরের হামলা নিয়ে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার অভিযোগ ও সংশ্লিষ্ট সংঘাতের প্রসঙ্গ এসেছে। তবে দায় নির্ধারণের ক্ষেত্রে সরকারি তদন্ত, প্রমাণ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য গুরুত্বপূর্ণ। যাচাই ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীকে চূড়ান্তভাবে দায়ী ঘোষণা করা উচিত নয়।
রিয়াদের এই ঘটনা সৌদি আরবে কর্মরত বিদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তার বিষয়টিকেও সামনে এনেছে। বিমানবন্দর, পরিবহনব্যবস্থা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ স্থানে বিভিন্ন দেশের কর্মীরা দায়িত্ব পালন করেন। তাঁদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হলে শুধু সংশ্লিষ্ট পরিবার নয়, তাঁদের নিজ নিজ দেশেও উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে। মিসরীয় বিমানকর্মীর মৃত্যু তাই কেবল একটি ব্যক্তিগত শোকের ঘটনা নয়; এটি বিদেশে কর্মরত মানুষের নিরাপত্তা, জরুরি চিকিৎসা, কূটনৈতিক সহায়তা এবং সংকটকালে নির্ভরযোগ্য তথ্য সরবরাহের গুরুত্বও তুলে ধরছে। সবশেষে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত প্রাথমিক বার্তার সঙ্গে প্রকাশিত সংবাদ ও সরকারি পরিসংখ্যানের কিছু পার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে নিহত মিসরীয় নারীর পূর্ণ নাম এবং তিনি কোন বিমান সংস্থায় কাজ করতেন, সে বিষয়ে সতর্ক থাকা প্রয়োজন। এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ১০ অক্টোবর রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হামলায় ১২ জন নিহত এবং ৩০৯ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে মিসরীয় বিমানসেবাকর্মী আজ্জা রমজি হুসাইনও রয়েছেন বলে মিসরীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে। তাঁর পরিবারের প্রতি সমবেদনা এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনার পাশাপাশি, পরবর্তী তথ্য প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারি ও নির্ভরযোগ্য সংবাদসূত্রের সঙ্গে মিলিয়ে পরিচয় ও ঘটনার বিবরণ যাচাই করা জরুরি।