ব্রেকিং
প্রয়োজনে টিকেট দিব, তবু দেশে আসেন: শেখ হাসিনাকে তথ্য প্রতিমন্ত্রীচট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলা, খাগড়াছড়িতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের তাণ্ডববন্যার পানিতে আটকে মা ও শিশু, দুই কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচল তিনটি প্রাণযৌন নির্যাতনের অভিযোগ নিয়ে কর্নেল বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের ওপর ভরসা হারালেন শিক্ষকরাক্যালিফোর্নিয়ায় ধনীদের সম্পদের ৫ শতাংশ সরকারকে দেওয়ার প্রস্তাবে না বললেন ভোটাররা

চট্টগ্রামে পুলিশের ওপর হামলা, খাগড়াছড়িতে বিএনপি কার্যালয়ের সামনে আওয়ামী লীগের তাণ্ডব

চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে পৃথক রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। চট্টগ্রামে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিল ঘিরে পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। অন্যদিকে মানিকছড়িতে বিএনপির কার্যালয়ের সামনে হামলায় পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন, যাঁদের তিনজনের অবস্থা গুরুতর। দুই ঘটনায় তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে পৃথক দুটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত
চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে পৃথক দুটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত

বাংলাদেশের চট্টগ্রাম ও খাগড়াছড়িতে পৃথক দুটি রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনায় অন্তত ১১ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে চট্টগ্রাম নগরীতে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের মিছিলকে কেন্দ্র করে পুলিশের ছয় সদস্য আহত হয়েছেন। অন্যদিকে খাগড়াছড়ির মানিকছড়িতে বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে হামলায় দলটির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল ও সন্ধ্যায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে দুটি ঘটনা ঘটে। শনিবার (৭ নভেম্বর) বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

চট্টগ্রাম নগরীর বন্দর থানাধীন পোর্ট কানেক্টিং রোডের তালতলা এলাকায় শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে প্রথম ঘটনা ঘটে। স্থানীয় সূত্র ও পুলিশের বক্তব্য অনুযায়ী, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা সেখানে আকস্মিক মিছিল বের করেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মিছিলে বাধা দিলে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।

এ সময় মিছিল থেকে পুলিশ সদস্যদের লক্ষ্য করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করা হয় বলে পুলিশের অভিযোগ। এতে বন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবদুর রহিমসহ ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন। পুলিশের একটি গাড়ির কাচও ভাঙচুর করা হয়।

বন্দর থানার ওসি আবদুর রহিম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, হামলার পর পুলিশ ধাওয়া দিয়ে মিছিলে অংশ নেওয়া ব্যক্তিদের আটক করে। আহত পুলিশ সদস্যরা প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন।

গ্রেপ্তারের সংখ্যা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে। প্রথম আলো ও দ্য ডেইলি স্টারের প্রতিবেদনে ২০ জন গ্রেপ্তারের কথা বলা হয়েছে। অন্যদিকে জাগো নিউজ ও আজকের পত্রিকাসহ কয়েকটি সংবাদমাধ্যমে ১৬ জনের তথ্য প্রকাশিত হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ১৬ জনকে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানোর খবরও প্রকাশিত হয়। ফলে গ্রেপ্তারের প্রাথমিক ও পরবর্তী হিসাব আলাদা করে বিবেচনা করা প্রয়োজন। এ ঘটনায় বন্দর থানায় পুলিশের ওপর হামলার অভিযোগে মামলা হয়েছে।

অন্যদিকে একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে খাগড়াছড়ির মানিকছড়ি উপজেলার সাপমারা এলাকায় বিএনপির দলীয় কার্যালয়ের সামনে দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটে।

স্থানীয় সূত্র ও বিএনপি নেতাদের বক্তব্য অনুযায়ী, ৭ নভেম্বর উপলক্ষে দলীয় কার্যালয়ে প্রস্তুতি সভা চলছিল। এ সময় কার্যালয়ের পাশের একটি দোকানে মানিকছড়ি উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক চেয়ারম্যান মো. জয়নাল আবেদীনের ছোট ভাই আমির হোসেনকে দেখতে পান বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী। পরে তাঁকে আটক করে দলীয় কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

এ খবর ছড়িয়ে পড়ার পর আওয়ামী লীগের নেতাকর্মী ও তাঁদের স্বজনেরা দলীয় কার্যালয়ের সামনে জড়ো হয়ে হামলা চালান বলে বিএনপির পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে। হামলাকারীদের হাতে দেশীয় অস্ত্র, দা ও লাঠিসোঁটা ছিল বলেও দাবি করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতারা। একপর্যায়ে আমির হোসেনকে সেখান থেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

এ ঘটনায় বিএনপির পাঁচ নেতাকর্মী আহত হন। তাঁদের মধ্যে শফিকুল ইসলাম সুজন (৩০), মো. শাহাদাত হোসেন (২০), মো. সাদ্দাম হোসেন (২৮) ও মো. ফারুক হোসেন (৩০) নামে চারজনের পরিচয় বিভিন্ন প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। পঞ্চম আহত ব্যক্তির নাম এখনো নিশ্চিতভাবে পাওয়া যায়নি।

আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে মানিকছড়ি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর গুরুতর আহত তিনজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা বিএনপির সভাপতি মো. হাবিবুর রহমান আহতদের মধ্যে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা শফিকুল ইসলাম সুজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানিয়েছেন।

ঘটনার পর বিএনপির নেতাকর্মীরা এলাকায় বিক্ষোভ মিছিল করেন। পাশাপাশি কয়েকটি বাড়িঘরে ভাঙচুরের খবরও কিছু সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তবে এসব ভাঙচুরের ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

মানিকছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. রাশেদ চৌধুরী জানিয়েছেন, ঘটনার বিষয়ে তখন পর্যন্ত থানায় কোনো লিখিত অভিযোগ পাওয়া যায়নি। তবে এলাকার পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ কাজ করছে। বিএনপি নেতারা মামলা করার কথা জানিয়েছিলেন।

দুটি ঘটনার মধ্যে সরাসরি কোনো যোগসূত্রের তথ্য পাওয়া যায়নি। একটি ঘটনা চট্টগ্রাম নগরীতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ ও হামলার অভিযোগকে কেন্দ্র করে, অন্যটি খাগড়াছড়িতে দুই রাজনৈতিক পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা ও হামলার অভিযোগকে ঘিরে।

পরপর দুটি ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং রাজনৈতিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সহিংসতা প্রতিরোধের বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। রাজনৈতিক মতপার্থক্য যেন হামলা, ভাঙচুর কিংবা সাধারণ মানুষের নিরাপত্তার জন্য হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়, সে জন্য নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি উঠেছে।

ট্যাগ: চট্টগ্রামখাগড়াছড়িমানিকছড়িরাজনৈতিক সহিংসতাআওয়ামী লীগবিএনপিপুলিশহামলাআইনশৃঙ্খলা

প্রতিবেদক

CSB News USA

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।