বন্যার পানিতে আটকে মা ও শিশু, দুই কিশোরের সাহসিকতায় বাঁচল তিনটি প্রাণ
চারদিকে বন্যার পানি, ঘরের ভেতর আটকে মা ও ছোট ছেলে। জরুরি সহায়তা না পেয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্য চান মা। সেই ডাক শুনে কায়াক ও প্যাডেলবোর্ড নিয়ে ছুটে আসে দুই কিশোর ভাই।
যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যার পানিতে নিজ বাড়িতে আটকে পড়েছিলেন এক মা, তাঁর ছোট ছেলে এবং তিনটি পোষা কুকুর। চারদিকে পানি বাড়তে থাকায় ঘর থেকে বের হওয়ার কোনো পথ খুঁজে পাচ্ছিলেন না তাঁরা। এমন পরিস্থিতিতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাহায্যের আবেদন জানান ওই মা। তাঁর সেই আবেদন দেখে এগিয়ে আসে দুই কিশোর ভাই। নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তাঁরা উদ্ধার করেন মা, শিশুসন্তান ও তিনটি কুকুরকে।
ঘটনাটি ঘটেছে ফ্লোরিডার পাম বে এলাকায়। গত ২ ও ৩ নভেম্বর ভারী বৃষ্টিতে ব্রেভার্ড কাউন্টির বিভিন্ন এলাকায় ভয়াবহ বন্যা দেখা দেয়। রাস্তাঘাট ও বাড়িঘর পানিতে ডুবে যায়। অনেক বাসিন্দা নিজেদের ঘরেই আটকা পড়েন।
ব্রিটানি গ্রান্ট নামের ওই নারী জানান, তাঁর বাড়িতে দ্রুত পানি ঢুকতে শুরু করলে তিনি ছেলেকে নিয়ে রান্নাঘরের কাউন্টারের ওপর আশ্রয় নেন। সঙ্গে ছিল তাঁদের তিনটি পোষা কুকুর। ঘরের ভেতরে পানি বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই ভয়াবহ হয়ে ওঠে।
তিনি কয়েকবার জরুরি নম্বর ৯১১-এ ফোন করেন। কিন্তু বন্যার কারণে উদ্ধারকারী দল তখন সেখানে পৌঁছাতে পারছিল না। অসহায় অবস্থায় তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে সাহায্যের আবেদন জানান।
সেই পোস্টটি দেখতে পান এক প্রতিবেশী মা। তিনি বিষয়টি তাঁর দুই ছেলেকে জানান। এরপর ১৫ বছর বয়সী জোনাহ মার্শাল এবং ১৭ বছর বয়সী লুকাস মার্শাল উদ্ধারে এগিয়ে আসেন।
একজন প্রতিবেশীর কাছ থেকে কায়াক ধার নেন জোনাহ। অন্যদিকে লুকাস সঙ্গে নেন প্যাডেলবোর্ড। এরপর বন্যার পানির মধ্য দিয়ে তাঁরা গ্রান্টের বাড়ির দিকে এগিয়ে যান।বাড়িতে পৌঁছে প্রথমে শিশুটিকে নিরাপদে বের করে আনার চেষ্টা করেন তাঁরা। লুকাস শিশুটির সঙ্গে কথা বলতে থাকেন, যাতে সে ভয় না পায়। এরপর একে একে মা ও তিনটি কুকুরকেও নিরাপদ স্থানে নিয়ে আসেন দুই ভাই।
উদ্ধারের পর ব্রিটানি গ্রান্ট বলেন, প্রতিবেশীদের সহযোগিতা ছাড়া তাঁদের পক্ষে সেখান থেকে বের হওয়া সম্ভব হতো না। যাদের তিনি আগে চিনতেন না, তারাই বিপদের সময় এগিয়ে এসে তাঁর পরিবারকে রক্ষা করেছেন।
দুই কিশোরের একজন জোনাহ জানান, মানুষ বিপদে আছে জানতে পেরে সাহায্য করতে এগিয়ে গিয়েছিলেন। তখন নিজের ভয় বা ঝুঁকির কথা ভাবেননি।অন্যদিকে লুকাস জানান, পরিস্থিতি কিছুটা ভয়ংকর ছিল। কিন্তু তাঁরা বুঝতে পেরেছিলেন, সাহায্য করার মতো সামর্থ্য তাঁদের রয়েছে।
উদ্ধারের পর ব্রিটানি ও তাঁর ছেলে এক বন্ধুর বাড়িতে আশ্রয় নেন। তাঁদের পোষা প্রাণীগুলোকেও নিরাপদে রাখা হয়েছে।এই ঘটনা ফ্লোরিডার বন্যাকবলিত মানুষের মধ্যে প্রতিবেশীদের সহযোগিতা ও মানবিকতার একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে। ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মধ্যেও দুই কিশোরের সাহসিকতা দেখিয়েছে, মানুষের বিপদে পাশে দাঁড়ানোর জন্য বয়স সব সময় বাধা নয়।ব্রিটানি গ্রান্টের ভাষায়, এই অপরিচিত প্রতিবেশীদের সহযোগিতা মানুষের প্রতি তাঁর বিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছে।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।