যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসীদের বহিষ্কার মামলা থামানোর ক্ষমতা পেলেন না বিচারকেরা
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট বহিষ্কারের মামলা সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নিয়ম ফিরিয়ে আনেনি, এতে অনেক অভিবাসীর উদ্বেগ বাড়তে পারে।
যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন মামলার শুনানি ও বহিষ্কার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এসেছে। দেশটির সুপ্রিম কোর্ট অভিবাসন বিচারকদের বহিষ্কারের মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সুযোগ ফিরিয়ে দেওয়ার আবেদন নাকচ করেছে। ২৭ অক্টোবর দেওয়া এই সিদ্ধান্তের ফলে আগের একটি আদালতের রায় কার্যকর থাকছে। এর কারণে অভিবাসন বিচারকেরা আগের নিয়ম অনুযায়ী কিছু মামলা দীর্ঘ সময়ের জন্য বিচারিক কার্যতালিকার বাইরে রাখতে পারবেন না।
এই সিদ্ধান্ত বিশেষ করে তাঁদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ, যাঁদের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কারের মামলা চলছে, কিন্তু একই সঙ্গে বৈধভাবে দেশটিতে থাকার অনুমতি পাওয়ার জন্য অন্য কোনো আবেদনও বিচারাধীন রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা তাঁদের অভিবাসনসংক্রান্ত অন্য আবেদন নিষ্পত্তির জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ হারাতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টে আবেদনটি করেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি শহর—বাল্টিমোর, কলম্বাস ও নিউ হ্যাভেন এবং অভিবাসীদের আইনি সহায়তা প্রদানকারী সংস্থা সেন্ট্রো লিগ্যাল দে লা রাজা। তাঁরা আদালতের কাছে অনুরোধ করেছিলেন, অভিবাসন বিচারকদের মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সুযোগ বাতিল করা সংক্রান্ত আগের সিদ্ধান্তটি আপাতত কার্যকর না রাখা হোক।কিন্তু সুপ্রিম কোর্ট ২৭ অক্টোবর সেই আবেদন প্রত্যাখ্যান করে। আদালতের আদেশটি ছিল সংক্ষিপ্ত। সেখানে সিদ্ধান্তের বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি এবং কোনো বিচারপতির প্রকাশ্য ভিন্নমতের কথাও উল্লেখ করা হয়নি।
সুপ্রিম কোর্টের সরকারি নথিতে মামলাটি ‘সিটি অব বাল্টিমোর বনাম টেক্সাস’ নামে রয়েছে। নথি অনুযায়ী, আদালত আবেদনটি নাকচ করায় আগের রায়ের কার্যকারিতা বজায় রয়েছে। তবে এর অর্থ এই নয় যে অভিবাসন মামলায় বিচারকদের সব ধরনের ক্ষমতা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। নির্দিষ্ট একটি পদ্ধতির মাধ্যমে মামলা সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার সুযোগ নিয়েই এই বিরোধ।
যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন আদালতে এমন অনেক মামলা রয়েছে, যেখানে কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে বহিষ্কারের কার্যক্রম চলার পাশাপাশি তাঁর বৈধভাবে থাকার অন্য আবেদনও বিচারাধীন থাকতে পারে। উদাহরণ হিসেবে, কোনো ব্যক্তি মার্কিন নাগরিককে বিয়ে করার পর পারিবারিক অভিবাসনের আবেদন করতে পারেন। আবার অপরাধের শিকার কোনো অভিবাসী বিশেষ ধরনের ভিসার জন্য আবেদন করতে পারেন।
এ ধরনের আবেদনের সিদ্ধান্ত পেতে সময় লাগতে পারে। আগে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে অভিবাসন বিচারকেরা বহিষ্কারের মামলা সাময়িকভাবে সক্রিয় কার্যতালিকার বাইরে রাখতে পারতেন। এই পদ্ধতিকে বলা হয় ‘অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ ক্লোজার’। এর ফলে অন্য আবেদন নিষ্পত্তি হওয়ার জন্য অপেক্ষা করার সুযোগ তৈরি হতো।
২০২৪ সালে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন একটি নিয়মের মাধ্যমে এই পদ্ধতিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। তবে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আবার ক্ষমতায় ফেরার পর তাঁর প্রশাসন ওই নিয়মের পক্ষে আইনি লড়াই চালিয়ে যাওয়া থেকে সরে আসে।
টেক্সাস রাজ্য ২০২৬ সালের জুনে ওই নিয়মের বিরুদ্ধে মামলা করে। রাজ্যটির যুক্তি ছিল, এই পদ্ধতি অভিবাসন বিচারকদের এমনভাবে মামলা স্থগিত রাখার সুযোগ দেয়, যা কার্যত অবৈধভাবে অবস্থানরত ব্যক্তিদের অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বহিষ্কার এড়াতে সাহায্য করতে পারে।
ট্রাম্প প্রশাসন ও টেক্সাস পরে একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। টেক্সাসের একটি ফেডারেল আদালত সেই সমঝোতা অনুমোদন করে এবং সংশ্লিষ্ট নিয়মটি দেশজুড়ে বাতিল করে দেয়। এরপর বাল্টিমোর, কলম্বাস ও নিউ হ্যাভেন শহর এবং অভিবাসীদের আইনি সহায়তাকারী সংস্থা সেন্ট্রো লিগ্যাল দে লা রাজা ওই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আইনি পদক্ষেপ নেয়।
আবেদনকারীদের বক্তব্য ছিল, সরকারের এই সমঝোতার কারণে অভিবাসন বিচারকদের মামলা পরিচালনার দীর্ঘদিনের একটি পদ্ধতি বন্ধ হয়ে গেছে। তাঁদের দাবি, নিয়ম পরিবর্তনের ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া ও জনমত গ্রহণের বিষয়টি যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়নি। তবে এসব অভিযোগের চূড়ান্ত নিষ্পত্তি এই জরুরি আবেদন নাকচ করার মাধ্যমে হয়নি।
নতুন পরিস্থিতিতে বহিষ্কারের মামলায় থাকা ব্যক্তিদের জন্য সময়মতো আইনি পদক্ষেপ নেওয়া আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারে। কারও বৈধভাবে থাকার আবেদন বিচারাধীন থাকলেও শুধু সেই কারণে তাঁর বহিষ্কারের মামলা স্বয়ংক্রিয়ভাবে স্থগিত থাকবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। বিশেষ করে যাঁরা পারিবারিক আবেদন, নির্দিষ্ট ভিসা বা অন্য কোনো আইনি ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে থাকার অনুমতি পাওয়ার চেষ্টা করছেন, তাঁদের নিজ নিজ মামলার অবস্থা বুঝে আইনজীবীর পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন হতে পারে।
তবে এই সিদ্ধান্তের অর্থ এই নয় যে সংশ্লিষ্ট সব অভিবাসীকে অবিলম্বে বহিষ্কার করা হবে। প্রত্যেকের মামলার তথ্য, বর্তমান আইনি অবস্থা এবং প্রযোজ্য নিয়ম আলাদা হতে পারে। কোনো নির্দিষ্ট ব্যক্তির ক্ষেত্রে কী ঘটবে, তা তাঁর মামলার পরিস্থিতি ও আদালতের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে। সুপ্রিম কোর্টের এই আদেশে আপাতত আগের নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকছে। তবে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে মূল আইনি বিরোধের পরবর্তী ধাপ এখনো গুরুত্বপূর্ণ। নিম্ন আদালতে মামলাটি এগোতে পারে এবং আবেদনকারীরা পরবর্তী সময়ে আরও আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করতে পারেন।
সুপ্রিম কোর্টের সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের অভিবাসন বিচারব্যবস্থায় মামলা পরিচালনার একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ্ধতিকে প্রভাবিত করেছে। বহিষ্কারের মামলা ও বৈধভাবে থাকার আবেদন একসঙ্গে চলমান থাকা অভিবাসীদের জন্য বিষয়টি বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। তাই নতুন কোনো সিদ্ধান্ত বা নিয়ম পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিজেদের মামলার অবস্থা সম্পর্কে সতর্ক থাকা এবং প্রয়োজনে যোগ্য অভিবাসন আইনজীবীর সহায়তা নেওয়া উচিত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।