সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
অভিবাসন বিভাগে চাকরির সুযোগ, সাইনিং বোনাসে মিলতে পারে ৩০ হাজার ডলারযুক্তরাষ্ট্রের ভোটে বাংলাদেশের ভাগ্যেও প্রভাব? পোশাক রপ্তানি, শুল্ক ও কূটনীতিতে বড় পরীক্ষাচীনের গোপন মহাকাশযানের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র, সামনে এল নতুন তথ্যইসরায়েলে ভয়াবহ দাবানলে মহাসড়ক বন্ধ, নির্বাচনে সরকার গঠন নিয়ে অনিশ্চয়তামাথায় আঘাতের পর মস্তিষ্কের ক্ষতি বুঝতে নতুন যন্ত্র তৈরি করছেন মার্কিন গবেষক

চীনের গোপন মহাকাশযানের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র, সামনে এল নতুন তথ্য

চীনের রহস্যময় মহাকাশযানের বিরল ছবি প্রকাশ করেছে যুক্তরাষ্ট্র, আর নতুন অভিযানে অজ্ঞাত বস্তু ছাড়ার ঘটনায় বাড়ছে আন্তর্জাতিক মহাকাশ নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ।

চীনের গোপন মহাকাশযানের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র, সামনে এল নতুন তথ্য
চীনের গোপন মহাকাশযানের স্পষ্ট ছবি প্রকাশ করল যুক্তরাষ্ট্র, সামনে এল নতুন তথ্য

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থার নতুন প্রতিবেদনে চীনের গোপন মহাকাশ কর্মসূচি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে রহস্যে ঢাকা থাকা দেশটির পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানের একটি স্পষ্ট ছবি প্রকাশ্যে আসায় মহাকাশে চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিযোগিতা নিয়ে আগ্রহ বেড়েছে। ছবিটি শুধু একটি অজানা মহাকাশযানের চেহারা দেখাচ্ছে না, বরং মহাকাশে সামরিক সক্ষমতা বৃদ্ধি, উপগ্রহের নিরাপত্তা এবং ভবিষ্যতে সংঘাতের ঝুঁকি নিয়েও গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আনছে। তবে ছবিতে থাকা যানটির পরিচয় ও এর প্রকৃত উদ্দেশ্য সম্পর্কে এখনো নিশ্চিত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত প্রকাশ্য তথ্য নেই।
২০২৬ সালের ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থা মহাকাশ নিরাপত্তাবিষয়ক ‘চ্যালেঞ্জেস টু সিকিউরিটি ইন স্পেস’ শিরোনামের নতুন প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রায় ১৩০ পৃষ্ঠার এই মূল্যায়নে চীন, রাশিয়া, ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ কর্মসূচি, সামরিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং মহাকাশে যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদনটির তথ্যের সময়সীমা ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত। অর্থাৎ, এটি অক্টোবর মাসের সবশেষ ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করে তৈরি করা হয়নি।
প্রতিবেদনের একটি ছবিতে চীনের একটি মহাকাশযানকে নিচের দিক থেকে দেখা যাচ্ছে। ছবিটির স্বত্বসংক্রান্ত পরিচিতিতে ২০২৪ সালের বাণিজ্যিক উপগ্রহচিত্র হিসেবে ম্যাক্সার টেকনোলজিসের নাম উল্লেখ রয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে ভ্যান্টর নামে পরিচিত। ছবিতে যানটির মূল কাঠামো, ডানার মতো অংশ এবং পেছনের দিকে যুক্ত একটি অংশ দেখা যায়, যেটিকে সৌর প্যানেল বা শক্তি উৎপাদনের ব্যবস্থার অংশ হিসেবে বর্ণনা করা হয়েছে। এই ছবি প্রকাশ্যে আসার আগে যানটির এমন স্পষ্ট দৃশ্য সাধারণ মানুষের জন্য সহজলভ্য ছিল না।
তবে এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ছবিটিকে চীনের ‘শেনলোং’ মহাকাশযানের ছবি হিসেবে বর্ণনা করা হচ্ছে। শেনলোং নামের অর্থ ‘দিব্য ড্রাগন’ বা ‘ঐশ্বরিক ড্রাগন’। কিন্তু গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে ছবির পরিচিতি হিসেবে চীনের মহাকাশযান বলা হয়েছে; ছবিতে থাকা যানটিকে সরাসরি শেনলোং বলে নিশ্চিত করা হয়নি। প্রতিবেদনে চীনের শেনলোং ও তেংইউন নামের মহাকাশযান কর্মসূচির উল্লেখ থাকলেও ছবিটি ঠিক কোন নকশার, সে বিষয়ে নিশ্চিত সিদ্ধান্ত দেওয়া হয়নি। ফলে ছবিটিকে শেনলোংয়ের বলে চূড়ান্তভাবে ঘোষণা করা এখনই যথাযথ হবে না।
শেনলোং সম্পর্কে প্রকাশ্যে জানা তথ্যের বড় অংশ এসেছে উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ, মহাকাশযানের গতিপথ অনুসরণ এবং বিশেষজ্ঞদের বিশ্লেষণ থেকে। চীন ২০২০ সালে প্রথমবারের মতো পরীক্ষামূলক পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযান কক্ষপথে পাঠায়। সেই অভিযান প্রায় দুই দিন স্থায়ী হয়েছিল। এরপর ২০২৩ সালের মে মাসে দ্বিতীয় অভিযান শুরু হয়, যা প্রায় ২৭৬ দিন স্থায়ী হয়। তৃতীয় অভিযান শুরু হয় ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে এবং প্রায় ২৬৬ দিন পর শেষ হয়। এই সময়গুলো থেকে বোঝা যায়, চীন অল্প সময়ের পরীক্ষামূলক উড্ডয়ন থেকে দীর্ঘ সময় মহাকাশে অবস্থান করতে সক্ষম যান পরিচালনার দিকে এগিয়েছে। তবে প্রতিটি অভিযানে ঠিক কী পরীক্ষা করা হয়েছে, সে বিষয়ে চীনের প্রকাশ্য তথ্য সীমিত।
সবচেয়ে সাম্প্রতিক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা ঘটে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। মহাকাশবিষয়ক সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ৬ ফেব্রুয়ারি চীনের জিউছুয়ান উৎক্ষেপণকেন্দ্র থেকে দীর্ঘ মার্চ-২এফ রকেটের সাহায্যে শেনলোংয়ের চতুর্থ অভিযান শুরু হয়। মহাকাশযানটির উদ্দেশ্য সম্পর্কে চীন বিস্তারিত কিছু জানায়নি। দেশটির প্রকাশ্য বক্তব্যে পুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশ প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং তুলনামূলকভাবে সহজে ও কম খরচে মহাকাশে যাতায়াতের প্রযুক্তি পরীক্ষার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু এই সাধারণ বক্তব্যের বাইরে অভিযানের নির্দিষ্ট লক্ষ্য সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য তথ্য পাওয়া যায়নি।
চতুর্থ অভিযান চলাকালে আরেকটি ঘটনা বিশেষজ্ঞদের নজরে আসে। মহাকাশ পর্যবেক্ষণ প্রতিষ্ঠান লিওল্যাবস জানায়, ২০২৬ সালের ২২ জুন শেনলোংয়ের কাছাকাছি একটি অজ্ঞাত বস্তু শনাক্ত করা হয়। নিউজিল্যান্ডে অবস্থিত তাদের একটি রাডার প্রথম বস্তুটি শনাক্ত করে। পরবর্তী পর্যবেক্ষণ ও বিশ্লেষণের পর প্রতিষ্ঠানটি উচ্চমাত্রার আস্থার সঙ্গে মূল্যায়ন করে যে বস্তুটি চীনা মহাকাশযান থেকে ছাড়া হয়ে থাকতে পারে। যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীও বস্তুটিকে তালিকাভুক্ত করেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
তবে অজ্ঞাত বস্তুটি কী, তার আকার কত, সেটি কোনো ছোট উপগ্রহ কি না কিংবা কী কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে, তা নিশ্চিত নয়। কিছু পর্যবেক্ষক এটিকে ক্ষুদ্র উপগ্রহ হতে পারে বলে ধারণা করেছেন। কিন্তু ধারণা এবং প্রমাণ এক বিষয় নয়। বস্তুটির প্রকৃত পরিচয় ও কাজ সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত এটিকে অস্ত্র, গুপ্তচরযন্ত্র কিংবা শত্রুপক্ষের উপগ্রহ ধ্বংসের উপকরণ বলে দাবি করার সুযোগ নেই।
মহাকাশযান থেকে ছোট বস্তু ছেড়ে দেওয়ার ক্ষমতা অবশ্য প্রযুক্তিগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। এ ধরনের ব্যবস্থা দিয়ে ছোট উপগ্রহ কক্ষপথে স্থাপন, মহাকাশে বিভিন্ন যন্ত্রের কার্যকারিতা পরীক্ষা কিংবা অন্য মহাকাশযানের সঙ্গে যোগাযোগের পরীক্ষা চালানো সম্ভব। একইভাবে, কাছাকাছি গিয়ে অন্য উপগ্রহ পর্যবেক্ষণ করা, মেরামত করা বা জ্বালানি সরবরাহের মতো কাজেও এ ধরনের প্রযুক্তি ব্যবহার করা যেতে পারে। কিন্তু একই সক্ষমতা সামরিক ক্ষেত্রেও কাজে লাগতে পারে। অন্য দেশের উপগ্রহের খুব কাছে গিয়ে চলাচল করার ক্ষমতা থাকলে সেগুলোর ওপর নজরদারি কিংবা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়। তাই বিশেষজ্ঞদের কাছে শেনলোংয়ের প্রকৃত উদ্দেশ্যের পাশাপাশি এর প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।
শেনলোংয়ের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ বাহিনীর পুনর্ব্যবহারযোগ্য পরীক্ষামূলক যান এক্স-৩৭বি-র তুলনাও করা হচ্ছে। উভয় যানই রকেটের মাধ্যমে কক্ষপথে যায় এবং অভিযান শেষে পৃথিবীতে ফিরে আসতে পারে বলে জানা যায়। তবে এ দুটি যান একই নকশার বা একই উদ্দেশ্যে তৈরি, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর মতো পর্যাপ্ত তথ্য নেই। যুক্তরাষ্ট্রের যানটির অভিযানের তথ্যও তুলনামূলকভাবে সীমিত হলেও বিভিন্ন অভিযান সম্পর্কে দেশটি কিছু তথ্য প্রকাশ করেছে। চীনের ক্ষেত্রে নকশা, বহন করা যন্ত্রপাতি এবং পরীক্ষার লক্ষ্য সম্পর্কে অনিশ্চয়তা আরও বেশি।
গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে শুধু গোপন মহাকাশযান নয়, মহাকাশে সামরিক প্রতিযোগিতা ও উপগ্রহের নিরাপত্তা নিয়ে বৃহত্তর উদ্বেগও তুলে ধরা হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে যোগাযোগ, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, অবস্থান নির্ণয়, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ব্যাংকিং ব্যবস্থা এবং সামরিক যোগাযোগের জন্য উপগ্রহ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কোনো দেশের উপগ্রহে হামলা, সংকেতের ব্যাঘাত কিংবা মহাকাশে সংঘর্ষ ঘটলে তার প্রভাব শুধু সামরিক বাহিনীতে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনেও পড়তে পারে। এ কারণে মহাকাশকে এখন আর কেবল গবেষণা ও অনুসন্ধানের ক্ষেত্র হিসেবে দেখা হচ্ছে না। এটি আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও অর্থনীতিরও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
প্রতিবেদনে মহাকাশের বর্জ্যও একটি বড় সমস্যা হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। পুরোনো উপগ্রহ, অকেজো রকেটের অংশ এবং সংঘর্ষে তৈরি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর চারপাশে বিভিন্ন কক্ষপথে ঘুরে বেড়ায়। এসব বস্তু অত্যন্ত দ্রুতগতিতে চলাচল করায় ছোট একটি টুকরাও কার্যকর উপগ্রহের ক্ষতি করতে পারে। সংঘর্ষের ফলে আরও ধ্বংসাবশেষ তৈরি হলে পরিস্থিতি জটিল হয়ে ওঠে। এ ধরনের ধারাবাহিক সংঘর্ষের সম্ভাব্য পরিস্থিতিকে ‘কেসলার সিনড্রোম’ বলা হয়। এর অর্থ এই নয় যে এমন বিপর্যয় ইতিমধ্যে ঘটেছে; বরং এটি এমন একটি ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি, যেখানে ধ্বংসাবশেষের পরিমাণ বাড়তে থাকলে কিছু কক্ষপথে নিরাপদ কার্যক্রম পরিচালনা কঠিন হয়ে পড়তে পারে।
চীন ও রাশিয়ার পাশাপাশি ইরান ও উত্তর কোরিয়ার মহাকাশ সক্ষমতা নিয়েও যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ রয়েছে। এসব দেশের কিছু প্রযুক্তি বেসামরিক ও সামরিক—উভয় কাজেই ব্যবহার করা সম্ভব। উপগ্রহের সংকেত বাধাগ্রস্ত করা, ভুয়া অবস্থানসংক্রান্ত সংকেত পাঠানো, সাইবার আক্রমণ কিংবা উপগ্রহের কাছাকাছি গিয়ে কার্যক্রম পরিচালনার মতো সক্ষমতা মহাকাশ নিরাপত্তার হিসাব বদলে দিতে পারে। তবে কোনো প্রযুক্তি সামরিক কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হলেই সেটি নির্দিষ্ট অভিযানে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে, এমন প্রমাণ হয় না। তাই প্রতিটি ঘটনার ক্ষেত্রে পর্যবেক্ষণ, গোয়েন্দা মূল্যায়ন এবং নিশ্চিত তথ্য আলাদা করে দেখা জরুরি।
নতুন ছবিটি প্রকাশের তাৎপর্য এখানেই যে, এটি চীনের মহাকাশযানের বাহ্যিক গঠন সম্পর্কে আগের তুলনায় বেশি ধারণা দেয়। কিন্তু ছবি দেখে এর ভেতরের যন্ত্রপাতি, বহনক্ষমতা, গতি পরিবর্তনের ক্ষমতা কিংবা সামরিক উদ্দেশ্য নিশ্চিতভাবে নির্ধারণ করা যায় না। একইভাবে, অজ্ঞাত বস্তু ছাড়ার ঘটনাও একা কোনো শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের প্রমাণ নয়। চীন এ কর্মসূচি সম্পর্কে আরও বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ না করলে মহাকাশযানটির প্রকৃত ভূমিকা নিয়ে অনিশ্চয়তা থেকেই যাবে।


ট্যাগ: চীনশেনলোং মহাকাশযানমহাকাশ গবেষণাযুক্তরাষ্ট্রপ্রতিরক্ষা গোয়েন্দা সংস্থামহাকাশ নিরাপত্তাপুনর্ব্যবহারযোগ্য মহাকাশযানসামরিক প্রযুক্তিমহাকাশ বর্জ্যআন্তর্জাতিক নিরাপত্তা

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।