ডলারের দামের কারসাজির অভিযোগে ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে মামলা করল যুক্তরাষ্ট্রের ২০ অঙ্গরাজ্য
দোকানের তাকের দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগে ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে ফেডারেল কমিশন ও ২০ অঙ্গরাজ্য মামলা করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের জনপ্রিয় স্বল্পমূল্যের খুচরা বিক্রেতা ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে পণ্যের গায়ে ও দোকানের তাকে প্রদর্শিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ আদায়ের অভিযোগে মামলা করেছে দেশটির ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন ও ২০টি অঙ্গরাজ্য। গত ২৬ অক্টোবর টেনেসি অঙ্গরাজ্যের একটি ফেডারেল আদালতে মামলাটি দায়ের করা হয়। অভিযোগে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রতিষ্ঠানটির বিভিন্ন দোকানে পণ্যের প্রদর্শিত মূল্য এবং বিক্রির সময় নেওয়া অর্থের মধ্যে অসংগতি দেখা গেছে। এর ফলে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায় হয়েছে এবং প্রতিষ্ঠানটি সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত থাকার পরও কার্যকর ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।
ফেডারেল বাণিজ্য কমিশনের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ডলার জেনারেলের হাজার হাজার দোকানে মূল্যসংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। পণ্যের তাকে লেখা দাম, মূল্যতালিকা ও বিজ্ঞাপনে দেখানো দামের সঙ্গে বিক্রির সময় ব্যবহৃত হিসাবযন্ত্রে প্রদর্শিত দামের পার্থক্য ছিল বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, এ ধরনের অনিয়মের কারণে ক্রেতাদের কাছ থেকে লাখ লাখ নয়, বরং কয়েক মিলিয়ন ডলার অতিরিক্ত আদায় হয়ে থাকতে পারে। তবে আদালতের চূড়ান্ত রায় না হওয়া পর্যন্ত এসব অভিযোগকে প্রমাণিত অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা যাবে না।
মামলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মূল্যসংক্রান্ত সমস্যার বিষয়ে প্রতিষ্ঠানটির কাছে দীর্ঘদিন ধরে অভিযোগ পৌঁছানোর দাবি। ফেডারেল বাণিজ্য কমিশনের ভাষ্য অনুযায়ী, দেশজুড়ে ক্রেতাদের কাছ থেকে কয়েক দশ হাজার অভিযোগ এসেছে। এসব অভিযোগে বলা হয়েছে, দোকানে প্রদর্শিত মূল্য অনুযায়ী পণ্যের দাম নেওয়া হয়নি। অভিযোগকারীদের মতে, এত অভিযোগ থাকা সত্ত্বেও প্রতিষ্ঠানটি সমস্যার স্থায়ী সমাধানে পর্যাপ্ত নীতিমালা ও কার্যকর নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারেনি।
মামলার নথিতে ২০২৩ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সময়ে প্রদর্শিত মূল্য কার্যকর না করার অভিযোগে অন্তত ২৯ হাজার ২৬৫টি অভিযোগের কথা উল্লেখ করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। এই সংখ্যা অভিযোগের নথিভুক্ত হিসাব; এটি নিজে থেকেই সব অভিযোগের সত্যতা কিংবা প্রতিটি ঘটনায় অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের পরিমাণ প্রমাণ করে না। তবে অভিযোগকারীরা এটিকে সমস্যাটির ব্যাপকতা বোঝানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান হিসেবে তুলে ধরেছেন।
ডলার জেনারেল যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি অঙ্গরাজ্যের গুডলেটসভিলে অবস্থিত একটি বড় খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান। দেশজুড়ে প্রতিষ্ঠানটির ২১ হাজারের বেশি দোকান রয়েছে। তুলনামূলক কম দামে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কেনার জন্য বিশেষ করে গ্রামীণ এলাকার মানুষ এবং সীমিত আয়ের পরিবারগুলোর একটি অংশ এ ধরনের দোকানের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রদর্শিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ নেওয়ার অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা ক্রেতাদের দৈনন্দিন ব্যয় এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থার ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।
মামলায় ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন ও অঙ্গরাজ্যগুলো বিভিন্ন ভোক্তা সুরক্ষা আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ এনেছে। এর মধ্যে ফেডারেল বাণিজ্য কমিশন আইন এবং আর্থিক তথ্যের গোপনীয়তা-সংক্রান্ত একটি ফেডারেল আইন রয়েছে। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অঙ্গরাজ্যগুলো নিজ নিজ আইনের অধীনে দাবি তুলেছে। অভিযোগকারীরা আদালতের কাছে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞা, আর্থিক ক্ষতিপূরণ, দেওয়ানি জরিমানা এবং অন্যান্য প্রতিকার চেয়েছেন। আদালত এসব দাবি গ্রহণ করবেন কি না, তা বিচারপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারিত হবে।
মামলায় ফেডারেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আলাবামা, অ্যারিজোনা, আরকানসাস, ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, ফ্লোরিডা, ইলিনয়, আইওয়া, কানসাস, লুইজিয়ানা, মিশিগান, মিসিসিপি, নেব্রাস্কা, নিউ জার্সি, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, ওকলাহোমা, টেনেসি, ইউটা ও উইসকনসিন। অর্থাৎ, ফেডারেল সংস্থাটির পাশাপাশি মোট ২০টি অঙ্গরাজ্য এই আইনি পদক্ষেপে অংশ নিয়েছে।
এটি ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে মূল্যসংক্রান্ত প্রথম আইনি পদক্ষেপ নয়। এর আগে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে একই ধরনের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ওহাইও অঙ্গরাজ্যে ২০২২ সালে মূল্যসংক্রান্ত অভিযোগের পর ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠানটি এক মিলিয়ন ডলারের সমঝোতায় পৌঁছেছিল বলে অঙ্গরাজ্যটির অ্যাটর্নি জেনারেলের কার্যালয় জানিয়েছে। চলতি মাসেও নিউইয়র্কে ক্রেতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের নিষ্পত্তিতে প্রতিষ্ঠানটি ১৮ লাখ ৭৫ হাজার ডলারের একটি সমঝোতায় সম্মত হয়েছে বলে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। এসব আগের ঘটনা বর্তমান মামলার অভিযোগকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে প্রমাণ করে না, তবে মূল্য নির্ভুল রাখার বিষয়টি নিয়ে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর উদ্বেগের ধারাবাহিকতা তুলে ধরে।
অন্যদিকে, প্রতিষ্ঠানটির বক্তব্য হলো, তাকের প্রদর্শিত মূল্য ও বিক্রির সময় নেওয়া মূল্যের মধ্যে যথাসম্ভব সামঞ্জস্য বজায় রাখাই তাদের লক্ষ্য। কোনো অসংগতি দেখা দিলে কর্মীদের তা সংশোধন করে ক্রেতাকে সহায়তা করার নির্দেশ দেওয়া হয় বলে প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির দাবি, তদন্তের সময় তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নথি, তথ্য ও সাক্ষ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছে এবং মামলা দায়েরের আগে সম্ভাব্য সমাধান নিয়েও আলোচনা হয়েছিল। একই সঙ্গে তারা মামলার অভিযোগের বিরুদ্ধে আদালতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার কথা জানিয়েছে।
এই মামলার ফলাফল যুক্তরাষ্ট্রের খুচরা বাজারে মূল্য প্রদর্শন, ক্রেতার অধিকার এবং দোকানের অভ্যন্তরীণ তদারকি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে। ক্রেতাদের জন্য সবচেয়ে জরুরি বিষয় হলো, পণ্যের তাকে লেখা দাম ও বিলের দাম মিলিয়ে দেখা, রসিদ সংরক্ষণ করা এবং পার্থক্য দেখা দিলে দোকান কর্তৃপক্ষ বা সংশ্লিষ্ট ভোক্তা সুরক্ষা সংস্থাকে জানানো। তবে ডলার জেনারেলের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের চূড়ান্ত সত্যতা, দায় নির্ধারণ এবং সম্ভাব্য আর্থিক প্রতিকারের বিষয়ে সিদ্ধান্ত দেবে আদালত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।