অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানসাসে রিপাবলিকান প্রার্থীকে সমর্থনে সমাবেশ করলেন ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে কানসাসে প্রচারে নেমেছেন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, সিনেটর রজার মার্শালের পুনর্নির্বাচনের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন চেয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে কানসাস অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী প্রচার জোরদার করেছেন দেশটির ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। সোমবার, ২৬ অক্টোবর, তিনি কানসাসের টোপেকা শহরে একটি নির্বাচনী সমাবেশে অংশ নিয়ে রিপাবলিকান সিনেটর রজার মার্শালের পক্ষে ভোটারদের সমর্থন চান। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে মার্শালের প্রতিদ্বন্দ্বী ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যাডাম হ্যামিলটন। কানসাসের এই সিনেট নির্বাচনকে ঘিরে দুই দলের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ায় রাজ্যটিতে জাতীয় পর্যায়ের নেতাদের উপস্থিতিও বেড়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম কেসিটিভি ফাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, টোপেকার এইচএমই ইনকরপোরেটেড নামের একটি ধাতু নির্মাণ প্রতিষ্ঠানে সমাবেশটি অনুষ্ঠিত হয়। ভ্যান্সের পাশাপাশি সেখানে বক্তব্য দেন সিনেটর রজার মার্শাল এবং রাজ্যের অন্যান্য রিপাবলিকান নেতা। সমাবেশে উপস্থিত সমর্থকেরা অর্থনীতি, দ্রব্যমূল্য, শুল্কনীতি এবং সীমান্ত নিরাপত্তাকে তাঁদের গুরুত্বপূর্ণ উদ্বেগ হিসেবে তুলে ধরেন। অনেকের কাছে নির্বাচনের প্রধান প্রশ্ন ছিল সংসারের খরচ সামলানো, অবসরের ভবিষ্যৎ এবং সরকারের অর্থনৈতিক নীতির প্রভাব।
ভ্যান্স তাঁর বক্তব্যে মার্শালের রাজনৈতিক ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি দাবি করেন, মার্শালের সমর্থনের কারণে রিপাবলিকানরা অতিরিক্ত কাজের আয়, বকশিশ এবং সামাজিক নিরাপত্তা থেকে পাওয়া অর্থের ওপর করসংক্রান্ত ছাড় কার্যকর করতে পেরেছে। এসব পদক্ষেপকে তিনি সাধারণ কর্মজীবী মানুষের আর্থিক সুবিধার সঙ্গে যুক্ত করেন। তবে করের নিয়ম ও ছাড়ের বাস্তব প্রভাব ব্যক্তির আয়, যোগ্যতা এবং প্রযোজ্য আইনের ওপর নির্ভর করে। ফলে প্রত্যেক ভোটার একই পরিমাণ সুবিধা পাবেন, এমন নয়।
সমাবেশে ভ্যান্স গরুর মাংসের দাম কমানোর উদ্যোগের কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, কৃষি বিভাগ কানসাসের দশটি মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ প্রতিষ্ঠানের জন্য নতুন অনুদানের ব্যবস্থা ঘোষণা করছে। সরকারের উদ্দেশ্য হলো মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে সক্ষমতা বাড়ানো এবং বাজারে সরবরাহের বাধা কমাতে সহায়তা করা। এই উদ্যোগ দীর্ঘমেয়াদে উৎপাদন ও সরবরাহে প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অনুদান ঘোষণার পরপরই বাজারে মাংসের দাম কমে যাবে, এমন নিশ্চয়তা নেই। উৎপাদন ব্যয়, পশুখাদ্যের দাম, পরিবহন খরচ এবং বাজারের চাহিদাও চূড়ান্ত দামের ওপর প্রভাব ফেলে।
কানসাসে ভ্যান্সের এই সফর এক মাসের ব্যবধানে রাজ্যটিতে তাঁর দ্বিতীয় নির্বাচনী সফর। এর আগে ১৪ সেপ্টেম্বর তিনি ওলাথ শহরে গিয়ে মার্শালের পক্ষে প্রচার করেছিলেন। সেই সফরে তিনি উৎপাদনশিল্প, কর্মসংস্থান, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং সরকারের অপরাধ দমনের নীতি নিয়ে বক্তব্য দেন। এবারও নির্বাচনের আগে রিপাবলিকান প্রার্থীর পক্ষে প্রচারে তাঁর উপস্থিতি দলটির কাছে কানসাসের সিনেট আসনটির গুরুত্ব তুলে ধরেছে।
এর আগে ১৯ অক্টোবর প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও কানসাসের উইচিটা শহরের কাছে একটি সমাবেশে মার্শালের পক্ষে ভোট চেয়েছিলেন। ট্রাম্পের পর ভ্যান্সের সফর এবং একই প্রার্থীর পক্ষে দুই শীর্ষ নেতার প্রচারকে নির্বাচনের শেষ পর্যায়ে রিপাবলিকানদের সংগঠিত প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কেসিটিভি ফাইভের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মার্শাল ও হ্যামিলটনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা রাজ্যটির রাজনৈতিক আলোচনায় বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
কানসাস ঐতিহাসিকভাবে রিপাবলিকানদের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। রাজ্যটি ১৯৩২ সালের পর থেকে কোনো ডেমোক্র্যাট প্রার্থীকে যুক্তরাষ্ট্রের সিনেটে নির্বাচিত করেনি। তবে এবারের প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ডেমোক্র্যাট প্রার্থী হ্যামিলটন মার্শালের জন্য চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছেন। জাতীয় সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওসের ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কানসাসের এই আসনকে ঘিরে প্রতিযোগিতা বেড়েছে এবং নির্বাচনী প্রচারে বিপুল অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে। তবে জনমত জরিপের ফল পরিবর্তনশীল; সেগুলোকে চূড়ান্ত নির্বাচনী ফল হিসেবে বিবেচনা করা যায় না।
নির্বাচনী প্রচারে অর্থনীতিই ভোটারদের অন্যতম প্রধান আলোচ্য বিষয় হয়ে উঠেছে। জ্বালানির দাম, কৃষি উৎপাদনের খরচ, আমদানি শুল্ক এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ রয়েছে। রিপাবলিকান নেতারা করছাড়, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং সীমান্ত নিয়ন্ত্রণের নীতিকে তাঁদের সরকারের সাফল্য হিসেবে তুলে ধরছেন। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট প্রার্থীরা জীবনযাত্রার ব্যয়, স্বাস্থ্যসেবা এবং সরকারের নীতির অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। ভোটারদের সিদ্ধান্তে এসব বিষয় কতটা প্রভাব ফেলবে, তা নির্বাচনের ফল প্রকাশের পরই স্পষ্ট হবে।
ভ্যান্স সমাবেশের শেষ পর্যায়ে অনিশ্চিত সিদ্ধান্তে থাকা ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন এবং মার্শালের পক্ষে সমর্থন চান। তাঁর সফরের মূল লক্ষ্য ছিল রিপাবলিকান প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারে গতি আনা এবং ভোটারদের নির্বাচনে অংশ নিতে উৎসাহিত করা। একই সময়ে কানসাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আরেকটি সফরের পরিকল্পনার খবরও প্রকাশিত হয়েছে। ফলে নির্বাচনের শেষ সপ্তাহে রাজ্যটিতে রিপাবলিকান নেতাদের প্রচার আরও বাড়তে পারে।
আগামী ৩ নভেম্বরের ভোটে কানসাসের সিনেট আসনটি কার দখলে থাকবে, তা জাতীয় রাজনীতির ভারসাম্যের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। নির্বাচনের ফল সিনেটে দুই দলের আসনসংখ্যায় প্রভাব ফেলতে পারে। তবে ফলাফল সম্পর্কে আগাম সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। ভোটারদের উপস্থিতি, স্থানীয় ইস্যু, প্রার্থীদের প্রচার এবং শেষ মুহূর্তের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নির্বাচনের ফল নির্ধারণে ভূমিকা রাখবে।

ভেনেজুয়েলায় ভোটের আগে পুরো নির্বাচনী ব্যবস্থা বদলের কড়া বার্তা দিলেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী রুবিও

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে ট্রাম্পের ভবিষ্যৎ নির্ধারণে ভোটারদের নজর এখন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণে

ভোটারদের গোপন তথ্য চেয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের মামলা খারিজ করলেন নিজ দলের নিয়োগ দেওয়া বিচারক





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।