গত ১৭ বছরের শাসনে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি হয়নি: রাষ্ট্রপতি
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনার ঘাটতি কাটিয়ে সবার জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে চিকিৎসক নেতাদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়েছেন রাষ্ট্রপতি।
দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনার কারণে স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়ন হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। ২০২৬ সালের ২৪ সেপ্টেম্বর বঙ্গভবনে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ড্যাব) ২০ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে তিনি এ কথা বলেন। রাষ্ট্রপতির বক্তব্য অনুযায়ী, প্রয়োজনীয় চিকিৎসক, নার্স, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট, চিকিৎসা সরঞ্জাম ও অবকাঠামোর চাহিদা নির্ধারণে যথাযথ সমন্বিত পরিকল্পনার ঘাটতি ছিল।
রাষ্ট্রপতি বলেন, স্বাস্থ্যখাতে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের লক্ষ্যে পৌঁছাতে হলে দীর্ঘদিনের অব্যবস্থাপনা দূর করতে হবে। এ জন্য চিকিৎসক নেতাদের সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা ও প্রস্তাব নিয়ে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি। তাঁর মতে, স্বাস্থ্যসেবার মান উন্নয়নে প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগ, অবকাঠামো নির্মাণ এবং চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনার ক্ষেত্রে বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা গ্রহণ জরুরি।
স্বাস্থ্যখাতে বাজেট বরাদ্দের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে জাতীয় বাজেটে এ খাতে এ যাবৎকালের সর্বোচ্চ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এই বরাদ্দ যথাযথভাবে কাজে লাগিয়ে স্বাস্থ্যসেবায় একটি কার্যকর ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। একই সঙ্গে নতুন চিকিৎসক নিয়োগ, হাসপাতালের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা যন্ত্রপাতি কেনার ক্ষেত্রে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানান।
চিকিৎসকদের পদোন্নতি ও পদায়নের বিষয়েও বক্তব্য দেন রাষ্ট্রপতি। তিনি অতীতের তদবিরনির্ভর সংস্কৃতি বন্ধ করে যোগ্যতা ও দক্ষতার ভিত্তিতে চিকিৎসকদের উপযুক্ত পদে নিয়োগ ও পদায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। পাশাপাশি চিকিৎসা গবেষণায় চিকিৎসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান, যাতে গবেষণার ফলাফল স্বাস্থ্যসেবার উন্নয়নে কাজে লাগানো যায়।
দেশে অনিয়ন্ত্রিতভাবে গড়ে ওঠা ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন রাষ্ট্রপতি। তিনি বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানকে যথাযথ ব্যবস্থাপনা ও নিয়ন্ত্রণের আওতায় আনা প্রয়োজন। স্বাস্থ্যসেবার মান বজায় রাখতে প্রতিষ্ঠানগুলোর কার্যক্রম তদারকি এবং নিয়মকানুন বাস্তবায়নের ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
সাক্ষাৎকালে ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার এবং সভাপতি অধ্যাপক ডা. হারুন আল রশীদের নেতৃত্বে প্রতিনিধিদলটি রাষ্ট্রপতির সঙ্গে আলোচনা করে। এ সময় দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় চিকিৎসকদের ওপর হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেন ড্যাবের প্রধান উপদেষ্টা। এ ধরনের ঘটনা চিকিৎসকদের মধ্যে নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করছে উল্লেখ করে তিনি তা বন্ধে সরকারের সহযোগিতা কামনা করেন।
ড্যাব সভাপতি দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে সরকারের উদ্যোগের জন্য ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি স্বাস্থ্যখাতের নীতি প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সম্পৃক্ত করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রপতির সচিব ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
স্বাস্থ্যখাত নিয়ে রাষ্ট্রপতির এই বক্তব্যে জনবল সংকট, পরিকল্পনার ঘাটতি, চিকিৎসা সরঞ্জামের যথাযথ ব্যবহার, হাসপাতালের অবকাঠামো এবং চিকিৎসকদের পদায়ন ও গবেষণার মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয় উঠে এসেছে। এসব ক্ষেত্রে কার্যকর সংস্কার বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের জন্য মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করার পথ সুগম হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৭ বছরের শাসনামল নিয়ে শিরোনামে ব্যবহৃত রাজনৈতিক মূল্যায়নটি রাষ্ট্রপতির বক্তব্যের প্রেক্ষাপটে এসেছে। স্বাস্থ্যখাতের অগ্রগতির সামগ্রিক মূল্যায়নের জন্য সরকারি বরাদ্দ, চিকিৎসক ও নার্সের প্রাপ্যতা, হাসপাতালের সক্ষমতা এবং স্বাস্থ্যসেবার ফলাফলসংক্রান্ত তথ্যও বিবেচনা করা প্রয়োজন।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।