ট্রাম্পের ১ লাখ ডলারের ফি ছাড়াই অনুমোদন পাচ্ছে এইচ-১বি ভিসার আবেদন
যুক্তরাষ্ট্রে এইচ-১বি ভিসার কিছু আবেদন ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি ছাড়াই অনুমোদিত হচ্ছে। তবে সব আবেদনকারীর জন্য এই সুবিধা নিশ্চিত নয়।
যুক্তরাষ্ট্রে দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য এইচ-১বি ভিসার কিছু আবেদন বিতর্কিত ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত ফি ছাড়াই অনুমোদন করতে শুরু করেছে দেশটির অভিবাসন কর্তৃপক্ষ। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপ করা এই ফি কার্যকরের ওপর ফেডারেল আদালতের বাধার পর নতুন করে আবেদন নিষ্পত্তি শুরু হয়েছে। এতে বিদেশ থেকে দক্ষ কর্মী নিয়োগ করতে চাওয়া প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্বস্তি দেখা দিয়েছে। তবে সব আবেদন একই গতিতে নিষ্পত্তি হচ্ছে না এবং কিছু আবেদন এখনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে।
অভিবাসন আইনবিষয়ক প্রতিষ্ঠান মেল্টজার হেলরাংয়ের প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, আদালতের আদেশের ওপর নির্ভর করে যেসব নিয়োগদাতা অতিরিক্ত ফি ছাড়াই আবেদন জমা দিয়েছিলেন, তাঁদের কয়েকটি আবেদন দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর অনুমোদন পেতে শুরু করেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, কিছু আবেদন দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আইনগত পদক্ষেপ নেওয়ার উদ্যোগও বিবেচনা করা হয়েছিল। তবে এ বিষয়ে প্রকাশ্যে জানানোর পর কিছু আবেদন অনুমোদিত হতে শুরু করে এবং প্রস্তাবিত মামলাটি দায়ের করার প্রয়োজন হয়নি বলে প্রতিষ্ঠানটি উল্লেখ করেছে।
এইচ-১বি ভিসা যুক্তরাষ্ট্রের একটি গুরুত্বপূর্ণ অস্থায়ী কর্মভিসা কর্মসূচি। এর মাধ্যমে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা, চিকিৎসা এবং অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় যোগ্য বিদেশি কর্মীদের নিয়োগ দেওয়া হয়। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো নিয়োগদাতাকে বিদেশি কর্মীর পক্ষে আবেদন করতে হয়। আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তাঁর ভিসার ধরন, অবস্থান ও অন্যান্য শর্ত অনুযায়ী যুক্তরাষ্ট্রে কাজ করার সুযোগ পেতে পারেন।
ট্রাম্প প্রশাসন ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বরে নির্দিষ্ট কিছু নতুন এইচ-১বি আবেদনের ক্ষেত্রে ১ লাখ ডলারের অতিরিক্ত অর্থ পরিশোধের শর্ত চালু করেছিল। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা কর্মীদের জন্য করা কিছু আবেদনে এই অর্থের প্রয়োজন হতো। এই বিপুল অতিরিক্ত ব্যয় নিয়ে নিয়োগদাতা প্রতিষ্ঠান ও বিভিন্ন সংগঠন আইনি চ্যালেঞ্জ শুরু করে।
পরবর্তীতে ম্যাসাচুসেটসের একটি ফেডারেল আদালত ফি বাস্তবায়নের সঙ্গে সম্পর্কিত সরকারি নীতিমালা বাতিল করে। এরপর আপিল আদালত সরকারের পক্ষ থেকে ওই সিদ্ধান্ত স্থগিত করার আবেদন নাকচ করে। ক্যালিফোর্নিয়ার আরেকটি ফেডারেল আদালতও সেপ্টেম্বরের শেষ দিকে ফি কার্যকরের নীতিমালার বিরুদ্ধে আদেশ দেয়। আদালতের যুক্তির মধ্যে ছিল, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থাগুলো বাধ্যতামূলক নিয়ম প্রণয়নের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া অনুসরণ করেনি।
যদিও ট্রাম্প প্রশাসন ফি-সংক্রান্ত ঘোষণা আরও এক বছরের জন্য বাড়িয়েছিল, আদালতের আদেশের কারণে সংশ্লিষ্ট নীতিমালার আওতায় অর্থ আদায় আটকে রয়েছে। সরকার এসব সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করেছে। ফলে ভবিষ্যতে ফিটির আইনি অবস্থান পরিবর্তিত হতে পারে। আপিলের চূড়ান্ত ফলাফল না আসা পর্যন্ত বিষয়টি নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকছে।
এদিকে আবেদন অনুমোদনের ক্ষেত্রে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সময়সীমা। দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য নির্ধারিত প্রিমিয়াম প্রসেসিং সেবার ক্ষেত্রে সাধারণত ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে আবেদন সম্পর্কে নির্ধারিত পদক্ষেপ নেওয়ার নিয়ম রয়েছে। কিন্তু মেল্টজার হেলরাং জানিয়েছে, ফি ছাড়া জমা দেওয়া কিছু আবেদন এই সময়সীমা পার হওয়ার পরও দীর্ঘদিন অপেক্ষমাণ ছিল। সাম্প্রতিক অনুমোদন শুরু হলেও সব আবেদন একইভাবে এগোচ্ছে না।
এই পরিবর্তনের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে থাকা দক্ষ বিদেশি কর্মীদের জন্য নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হতে পারে। আগে অতিরিক্ত ব্যয়ের কারণে যেসব নিয়োগদাতা বিদেশি প্রার্থী নিয়োগের পরিকল্পনা স্থগিত করেছিলেন, তাঁরা এখন পরিস্থিতি পুনর্বিবেচনা করতে পারেন। তবে নিয়োগদাতার সিদ্ধান্ত, কর্মীর যোগ্যতা এবং সংশ্লিষ্ট আবেদনের ধরন অনুযায়ী সুযোগ ভিন্ন হবে।
যাঁদের আগে এইচ-১বি কর্মসূচির নির্ধারিত সীমার মধ্যে গণনা করা হয়েছিল, তাঁদের কেউ কেউ নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে নতুন করে লটারিতে অংশ না নিয়েও আবেদন করার যোগ্য হতে পারেন। একইভাবে বৈধ ও মেয়াদ থাকা এইচ-১বি ভিসা রয়েছে এমন কিছু কর্মীর জন্য নতুন নিয়োগদাতার আবেদন অনুমোদনের পর যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সুযোগ থাকতে পারে। তবে প্রত্যেকের অভিবাসন ইতিহাস, ভিসার বৈধতা ও অন্যান্য শর্ত যাচাই করা জরুরি।
বাংলাদেশি পেশাজীবীদের জন্যও খবরটি গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে, বিশেষ করে যাঁরা যুক্তরাষ্ট্রে প্রযুক্তি, প্রকৌশল, গবেষণা কিংবা অন্যান্য বিশেষায়িত পেশায় কাজের সুযোগ খুঁজছেন। তবে এই খবরের অর্থ এই নয় যে বাংলাদেশ থেকে আবেদন করলেই ভিসা পাওয়া যাবে, অথবা প্রত্যেক আবেদনকারীকে ১ লাখ ডলারের ফি ছাড় দেওয়া হয়েছে। এইচ-১বি ভিসার যোগ্যতা, নিয়োগদাতার স্পনসরশিপ এবং অন্যান্য অভিবাসনসংক্রান্ত শর্ত এখনো গুরুত্বপূর্ণ।
আদালতের বাধার মধ্যে এইচ-১বি আবেদনের কিছু অনুমোদন শুরু হওয়া বিদেশি কর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রে ইতিবাচক অগ্রগতি। কিন্তু ফি নিয়ে আইনি লড়াই এখনো শেষ হয়নি এবং আবেদন নিষ্পত্তির গতিও সমান নয়। তাই কর্মী ও নিয়োগদাতা উভয়েরই সর্বশেষ সরকারি নির্দেশনা যাচাই করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।






মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।