অংশ: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন ২০২৬
মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নতুন মার্কিন নাগরিকদের ভোটাধিকার নিয়ে উদ্বেগ
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করার আশঙ্কা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন অধিকারকর্মীরা। বিষয়টি নিয়ে আদালতে আইনি লড়াই চলছে।
যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের অধিকার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের ভোটার-যোগ্যতা যাচাই কার্যক্রমের কারণে বৈধ মার্কিন নাগরিকদের কেউ কেউ ভুলভাবে তদন্তের আওতায় পড়তে পারেন বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিভিন্ন নাগরিক অধিকার ও অভিবাসী অধিকার সংগঠন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৩ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধভাবে ভোট দেওয়া বা ভোটার হিসেবে নিবন্ধনের অভিযোগে ক্যালিফোর্নিয়ায় কয়েক ডজন বৈধ স্থায়ী বাসিন্দার বিরুদ্ধে অভিযোগ আনা হয়েছে। তবে এসব অভিযোগের অর্থ এই নয় যে অভিযুক্ত সবাই অপরাধ করেছেন। প্রতিটি মামলার বিচারিক প্রক্রিয়া আলাদাভাবে চলবে।
বিতর্কের কেন্দ্রে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই কার্যক্রম। এই উদ্যোগের মাধ্যমে বিভিন্ন সরকারি নথি, ভোটার তালিকা এবং অন্যান্য তথ্য মিলিয়ে সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। প্রশাসনের বক্তব্য, নির্বাচনে কেবল যোগ্য নাগরিকদের ভোট নিশ্চিত করা এবং সম্ভাব্য ভোটসংক্রান্ত অপরাধ তদন্ত করাই তাদের উদ্দেশ্য।
তবে অধিকারকর্মীদের অভিযোগ, তথ্য যাচাইয়ের পদ্ধতিতে ভুল থাকলে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও সন্দেহের তালিকায় চলে আসতে পারেন। এতে বৈধ ভোটারদের মধ্যে ভয় ও বিভ্রান্তি তৈরি হতে পারে এবং কেউ কেউ ভোট দিতে যাওয়ার ব্যাপারে দ্বিধায় পড়তে পারেন।
২২ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্ট ও অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদন অনুযায়ী, ক্যালিফোর্নিয়ার একজন ফেডারেল বিচারক নয়টি অঙ্গরাজ্যে সন্দেহভাজন অ-নাগরিক ভোটারদের নিয়ে কেন্দ্রীয় সরকারের তদন্ত কার্যক্রম সীমিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। অঙ্গরাজ্যগুলো হলো ক্যালিফোর্নিয়া, কানেকটিকাট, জর্জিয়া, মিসৌরি, নেভাদা, নিউইয়র্ক, পেনসিলভানিয়া, ওয়াশিংটন ও উইসকনসিন।
বিচারকের পর্যবেক্ষণে বলা হয়, নাগরিকত্ব যাচাইয়ের জন্য ব্যবহৃত তথ্যের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে এবং ভুল শনাক্তকরণের ঝুঁকি যথেষ্ট বেশি। সরকারি নথিতে অসংগতি থাকলে জন্মসূত্রে মার্কিন নাগরিক কিংবা পরে নাগরিকত্ব পাওয়া ব্যক্তিরাও ভুলভাবে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত হতে পারেন।
মামলার নথি অনুযায়ী, তদন্তকারীদের সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের তথ্য যাচাইয়ের জন্য সীমিত সময় দেওয়া হয়েছিল। বিচারক মনে করেন, পর্যাপ্ত যাচাই ছাড়া দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার পদ্ধতি ভুলের ঝুঁকি বাড়াতে পারে। তবে আদালতের এই পর্যবেক্ষণকে সব তদন্তে ভুল হয়েছে—এমন প্রমাণ হিসেবে দেখা উচিত নয়।
এদিকে অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকেও আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ক্যালিফোর্নিয়ার অভিবাসী অধিকার জোট এবং ইউসিএলএর ভোটাধিকারবিষয়ক প্রকল্পের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, ভুল বা অসম্পূর্ণ সরকারি তথ্য ব্যবহার করে বৈধ ভোটারদের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করার ঝুঁকি রয়েছে। সংগঠনগুলো বলছে, নাগরিকত্ব পাওয়ার পর একজন ব্যক্তি আইন অনুযায়ী ভোট দেওয়ার যোগ্য হলে তার ভোটাধিকার অক্ষুণ্ন থাকা প্রয়োজন।
অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের লক্ষ্য অবৈধ ভোট শনাক্ত করা, বৈধ নাগরিকদের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া নয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যাদের মার্কিন নাগরিক বলে তারা মনে করে, তাদের তদন্ত করার পরিকল্পনা তাদের নেই। ফলে বিষয়টি এখন ভোটারদের যোগ্যতা যাচাই, নাগরিক অধিকার এবং নির্বাচনে কেন্দ্রীয় সরকারের ভূমিকা নিয়ে চলমান আইনি বিরোধের অংশ হয়ে উঠেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নির্ধারণের পাশাপাশি এই বিরোধও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে অভিবাসী পরিবার ও নতুন নাগরিকত্ব পাওয়া ভোটারদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হলে তা নির্বাচনে অংশগ্রহণের পরিবেশকে প্রভাবিত করতে পারে বলে অধিকারকর্মীরা মনে করছেন।
তবে এখন পর্যন্ত পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুরো প্রশাসনের উদ্দেশ্য বৈধ ভোটারদের ভোট দেওয়া বন্ধ করা—এমন সিদ্ধান্তকে প্রতিষ্ঠিত সত্য হিসেবে উপস্থাপন করা যায় না। নিশ্চিতভাবে বলা যায়, ভোটারদের নাগরিকত্ব যাচাই নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে, অধিকারকর্মীরা সম্ভাব্য হয়রানি ও ভুল শনাক্তকরণ নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন এবং বিষয়টি আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে।

মাইক রজার্সের প্রচারে ট্রাম্প, মিশিগানের নির্বাচনে বাড়ছে উত্তাপ

ট্রাম্প প্রশাসন বনাম ক্যালিফোর্নিয়া, ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে আদালতে উত্তেজনা

ক্যালিফোর্নিয়ার নির্বাচন মামলায় বিচারকদের কঠিন প্রশ্নে চাপে ট্রাম্প প্রশাসন, অনিশ্চিত আইনি জয়ের সম্ভাবনা





মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।