সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অভিবাসীপ্রয়োজনে সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করা হবে : শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে আইজিপিট্রাম্প প্রশাসন বনাম ক্যালিফোর্নিয়া, ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে আদালতে উত্তেজনাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি প্রবাসী ও আবেদনকারীদের জন্য কী জানা জরুরি?মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি, সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী নেতার সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলোচনায় জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি ও সার কারখানা আধুনিকায়ন গুরুত্ব পেয়েছে।

জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান
জাপানি বিনিয়োগ বাড়াতে মারুবেনি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক করলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করা এবং দেশে নতুন বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণের লক্ষ্যে জাপানের শীর্ষ ব্যবসায়ী প্রতিনিধি মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে বৈঠক করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকে বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে জাপানি বিনিয়োগ বাড়ানো, শিল্পের আধুনিকায়ন এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারের বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।

সোমবার জাপানের রাজধানী টোকিওর ইম্পেরিয়াল হোটেলে স্থানীয় সময় বিকেল ৩টা ৪৫ মিনিটে এই সৌজন্য সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়। মাসুমি কাকিনোকি জাপান-বাংলাদেশ বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা কমিটির সভাপতি এবং মারুবেনি করপোরেশনের চেয়ারম্যান। প্রধানমন্ত্রীর উপপ্রেস সচিব শাহাদাত হোসেন স্বাধীন বৈঠকের বিষয়টি জানিয়েছেন বলে সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার দীর্ঘদিনের বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বিস্তৃত করার ওপর গুরুত্ব দেন। দুই দেশের ব্যবসায়িক সহযোগিতা বাড়াতে মাসুমি কাকিনোকির নেতৃত্ব ও ভূমিকার প্রশংসা করেন তিনি। একই সঙ্গে বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ এবং অর্থনৈতিক সম্পর্ক উন্নয়নে তাঁর অবদানের জন্য ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী।

প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অর্থনীতিতে নতুন গতি আনতে জাপানের প্রযুক্তি, অভিজ্ঞতা ও বিনিয়োগ কাজে লাগানোর আহ্বান জানান। তিনি তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্পসহ বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতের কথা তুলে ধরেন। এসব ক্ষেত্রে বিদেশি প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্বের মাধ্যমে জাপানি উদ্যোক্তাদের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি হতে পারে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

আলোচনায় শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বাংলাদেশে নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলে উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি দক্ষ কর্মী তৈরির সুযোগ তৈরি হতে পারে। একই সঙ্গে জাপানের আধুনিক প্রযুক্তি ও শিল্প ব্যবস্থাপনার অভিজ্ঞতা বাংলাদেশের উৎপাদন খাতের উন্নয়নে সহায়ক হতে পারে। তবে এসব সম্ভাবনা বাস্তবে রূপ দিতে বিনিয়োগের সিদ্ধান্ত, অর্থায়ন, প্রযুক্তি স্থানান্তর এবং প্রকল্প বাস্তবায়নের মতো বিষয়গুলো গুরুত্বপূর্ণ হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশের সার উৎপাদন খাত আধুনিকায়নের বিষয়েও আলোচনা হয়। প্রধানমন্ত্রী কর্ণফুলী ফার্টিলাইজার কোম্পানি লিমিটেডের আধুনিকায়নে জাপানের সহযোগিতা চান। পাশাপাশি দেশে দ্বিতীয় একটি সার কারখানা স্থাপনের সম্ভাবনা যাচাইয়ের বিষয়টি তুলে ধরেন তিনি। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের সার উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে। তবে নতুন কারখানা স্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বা অনুমোদনের ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

বাংলাদেশের বিনিয়োগ পরিবেশ উন্নয়নের বিষয়েও প্রধানমন্ত্রী সরকারের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, বিনিয়োগকারীদের জন্য অনুকূল পরিবেশ তৈরিতে নিয়ন্ত্রক সংস্কার, অনুমোদনপ্রক্রিয়া সহজ করা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব শক্তিশালী করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিদেশি উদ্যোক্তারা যাতে তুলনামূলক সহজে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন, সে লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়ার কথাও তুলে ধরা হয়।

অন্যদিকে মাসুমি কাকিনোকি বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি কার্যকরভাবে বাস্তবায়নের মাধ্যমে বাণিজ্য সম্প্রসারণ এবং নতুন ব্যবসায়িক সুযোগ তৈরির প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এই চুক্তির কার্যকর বাস্তবায়ন দুই দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে এবং বিনিয়োগের সম্ভাবনা কাজে লাগাতে সহায়ক হতে পারে। তবে বৈঠকে চুক্তির অধীনে নতুন কোনো নির্দিষ্ট প্রকল্প বা বিনিয়োগের পরিমাণ চূড়ান্ত করা হয়েছে—এমন তথ্য প্রকাশিত হয়নি।

এর আগে ১১ অক্টোবর ঢাকায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন মারুবেনি করপোরেশনের প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মাসায়ুকি ওমোতোর নেতৃত্বাধীন একটি প্রতিনিধি দল। ওই বৈঠকে তথ্যপ্রযুক্তি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, সাইবার নিরাপত্তা, সার ও জ্বালানি খাতে সহযোগিতা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণ নিয়ে আলোচনা হয়েছিল। নতুন বৈঠকটি দুই দেশের ব্যবসায়িক যোগাযোগ অব্যাহত রাখার আরেকটি উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের জন্য জাপানি বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ, কারণ শিল্পায়ন, জ্বালানি অবকাঠামো এবং প্রযুক্তিনির্ভর উৎপাদন খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড সম্প্রসারণে ভূমিকা রাখতে পারে। তবে বিনিয়োগের প্রকৃত সুফল নির্ভর করবে প্রকল্প বাস্তবায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি, উৎপাদন বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অর্থনীতির সঙ্গে বিদেশি প্রতিষ্ঠানের কার্যকর সংযোগের ওপর।

মাসুমি কাকিনোকির সঙ্গে প্রধানমন্ত্রীর বৈঠকে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও গভীর করার বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তি, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, উন্নত উৎপাদনশিল্প এবং সার কারখানা আধুনিকায়নের মতো খাতে সহযোগিতার সম্ভাবনা আলোচনায় এসেছে। এখন এসব আলোচনা ভবিষ্যতে বাস্তব বিনিয়োগ ও প্রকল্পে রূপ নেয় কি না, সেদিকেই নজর থাকবে।

ট্যাগ: বাংলাদেশতারেকরহমানজাপানজাপানিবিনিয়োগঅর্থনৈতিকসহযোগিতাশিল্পায়ন

প্রতিবেদক

Staff Reporter

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।