সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
আদালতের রায়েও মিলছে না ভিসা, পরিবার থেকে দূরে হাজারো অভিবাসীপ্রয়োজনে সরকার অনুমতি দিলে ক্রসফায়ার করা হবে : শেখ হাসিনার ফেরার প্রসঙ্গে আইজিপিট্রাম্প প্রশাসন বনাম ক্যালিফোর্নিয়া, ২০ হাজার ব্যালট নিয়ে আদালতে উত্তেজনাযুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখের বেশি ভিসা বাতিল, বাংলাদেশি প্রবাসী ও আবেদনকারীদের জন্য কী জানা জরুরি?মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন অর্থনীতি, সুদের হার নিয়ে ফেডের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে অনিশ্চয়তা

তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন পরিবার, ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

জ্বালানির বাড়তি দাম ও মূল্যস্ফীতিতে চাপে যুক্তরাষ্ট্রের পরিবারগুলো। ফেডের আসন্ন সুদের সিদ্ধান্তের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন বিনিয়োগকারী, ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ।

তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন পরিবার, ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ
তেলের দাম ও মূল্যস্ফীতির চাপে মার্কিন পরিবার, ফেডের সুদের সিদ্ধান্ত ঘিরে বাড়ছে উদ্বেগ

জ্বালানির উচ্চমূল্য, মূল্যস্ফীতির চাপ এবং ঋণের খরচ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ অর্থনৈতিক সপ্তাহ পার করছে যুক্তরাষ্ট্র। তেলের দাম বাড়ায় পরিবহন, কৃষি ও ব্যবসার ব্যয় বেড়েছে। একই সঙ্গে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য ও সেবার মূল্য নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের আসন্ন সুদের সিদ্ধান্ত দেশের অর্থনীতি ও সাধারণ মানুষের ব্যয়ের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা নিয়ে আলোচনা বাড়ছে।

সোমবার প্রকাশিত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক বাজারে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১০৯ ডলার ৯৫ সেন্টে নেমে আসে। যুক্তরাষ্ট্রের অপরিশোধিত তেলের দামও কমে ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১০১ ডলারে দাঁড়ায়। তবে সাম্প্রতিক সময়ে তেলের দাম উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত এবং তেল সরবরাহে বিঘ্নের আশঙ্কা বাজারে অস্থিরতা তৈরি করছে।

জ্বালানির দাম বাড়লে তার প্রভাব শুধু গাড়ির জ্বালানি কেনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে না। পণ্য পরিবহন, কৃষিকাজ, কারখানা পরিচালনা এবং সরবরাহ ব্যবস্থার খরচও বেড়ে যেতে পারে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এসব বাড়তি ব্যয়ের একটি অংশ পণ্যের দাম বাড়িয়ে ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দিলে পরিবারগুলোর দৈনন্দিন ব্যয় আরও বাড়তে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি পরিসংখ্যানেও মূল্যস্ফীতির চাপ স্পষ্ট। শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরোর প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বরে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের মাসের তুলনায় ০.৬ শতাংশ বেড়েছে। গত বছরের সেপ্টেম্বরের তুলনায় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি ছিল ৩.৭ শতাংশ। একই মাসে পেট্রলের দাম বেড়েছে ৯.১ শতাংশ এবং সামগ্রিক জ্বালানি সূচক বেড়েছে ৫.২ শতাংশ। ফলে জ্বালানির খরচ মূল্যবৃদ্ধির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কারণ হয়ে উঠেছে।

খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে একই সময়ে পরিস্থিতি কিছুটা ভিন্ন ছিল। সেপ্টেম্বরে সামগ্রিক খাদ্যসূচক আগের মাসের তুলনায় অপরিবর্তিত থাকলেও রেস্তোরাঁয় খাবারের দাম ০.২ শতাংশ বেড়েছে। গত এক বছরে খাদ্যসূচক বেড়েছে ২.৫ শতাংশ। অর্থাৎ সব পণ্যের দাম একই হারে বাড়ছে না, তবে পরিবারগুলোর সামগ্রিক ব্যয়ের ওপর মূল্যস্ফীতির প্রভাব রয়ে গেছে।

এই পরিস্থিতিতে ফেডারেল রিজার্ভের ২৭ ও ২৮ অক্টোবরের বৈঠক বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। বাজার বিশ্লেষকদের বড় অংশ আশা করছেন, কেন্দ্রীয় ব্যাংক আপাতত সুদের হার অপরিবর্তিত রাখবে। তবে মূল্যস্ফীতি ফেডের দীর্ঘমেয়াদি ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার অনেক ওপরে থাকায় ভবিষ্যতে সুদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না। সুদের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের পাশাপাশি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বক্তব্য থেকেও ভবিষ্যৎ নীতির ইঙ্গিত খুঁজবেন বিনিয়োগকারীরা।

সুদের হার সাধারণ মানুষের জীবনে বিভিন্নভাবে প্রভাব ফেলে। ঋণের খরচ বেশি থাকলে বাড়ি কেনার বন্ধকী ঋণ, গাড়ির ঋণ এবং ব্যবসার জন্য অর্থ সংগ্রহ ব্যয়বহুল হতে পারে। এতে নতুন বাড়ি কেনা, ব্যবসা সম্প্রসারণ কিংবা বড় কেনাকাটার সিদ্ধান্ত পিছিয়ে দিতে পারেন অনেকে। অন্যদিকে সুদের হার বেশি থাকলে সঞ্চয়ী হিসাব ও কিছু আমানতের সুদও তুলনামূলক আকর্ষণীয় হতে পারে। ফলে সুদের পরিবর্তনের প্রভাব ঋণগ্রহীতা ও সঞ্চয়কারীদের ক্ষেত্রে এক রকম হয় না।

ফেডের সামনে মূল চ্যালেঞ্জ হলো মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখা, কিন্তু একই সঙ্গে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও কর্মসংস্থানের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি না করা। সুদের হার বাড়ালে ঋণ ও বিনিয়োগ কমে মূল্যবৃদ্ধির চাপ কিছুটা কমতে পারে। তবে এতে ব্যবসার সম্প্রসারণ ধীর হওয়ার ঝুঁকিও থাকে। আবার মূল্যস্ফীতি বেশি থাকা অবস্থায় সুদের হার কমানোর পদক্ষেপ নিলে মূল্যবৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হতে পারে।

এ সপ্তাহে অর্থনীতির আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য প্রকাশিত হওয়ার কথা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ভোক্তাদের আস্থা, তৃতীয় প্রান্তিকের মোট দেশজ উৎপাদন এবং সেপ্টেম্বরের ব্যক্তিগত ভোগব্যয় মূল্যসূচক। শেষের সূচকটি ফেডের পছন্দের মূল্যস্ফীতি পরিমাপক হিসেবে বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এসব তথ্য অর্থনীতির বর্তমান গতি এবং মূল্যবৃদ্ধির চাপ সম্পর্কে নতুন ধারণা দিতে পারে।

যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতি এখন জ্বালানির ব্যয়, মূল্যস্ফীতি এবং সুদের নীতির এক জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তেলের দাম কমতে শুরু করলেও দীর্ঘমেয়াদি চাপ কতটা কমবে, তা নির্ভর করবে সরবরাহ পরিস্থিতি, আন্তর্জাতিক সংঘাত এবং পরবর্তী অর্থনৈতিক তথ্যের ওপর। ফেডের সিদ্ধান্ত তাই শুধু আর্থিক বাজারের জন্য নয়, ঋণগ্রহীতা, ব্যবসায়ী এবং সাধারণ পরিবারের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

ট্যাগ: যুক্তরাষ্ট্রমার্কিনঅর্থনীতিমূল্যস্ফীতিতেলেরদামসুদেরহারজীবনযাত্রারব্যয়

প্রতিবেদক

Desk Report

Reporter

মন্তব্য ০

এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।