যুক্তরাষ্ট্রের বিখ্যাত ওটস কারখানায় বিস্ফোরণ ও আগুন, অল্পের জন্য রক্ষা পেলেন কর্মীরা
আইওয়ার একটি বড় খাদ্য উৎপাদন কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন ছড়িয়ে পড়ে। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের আইওয়া অঙ্গরাজ্যের সিডার র্যাপিডস শহরে কোয়েকার ওটসের একটি বড় কারখানায় বিস্ফোরণের পর আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের ২৬ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাটি ঘটে শনিবার, ২৪ অক্টোবর বিকেলে। আগুনের খবর পেয়ে দমকল বাহিনী দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার ও নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম শুরু করে।
সিডার র্যাপিডসের দমকল বিভাগ জানায়, স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৪৫ মিনিটে তারা কারখানাটিতে সাড়া দেয়। প্রাথমিকভাবে আগুনের আগে বিস্ফোরণ ঘটেছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে বিস্ফোরণের সুনির্দিষ্ট কারণ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
শহরের মেয়র টিফানি ও’ডনেল জানান, কারখানার সব কর্মীকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং তাঁদের সবাইকে শনাক্ত করা হয়েছে। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। বড় শিল্পকারখানায় বিস্ফোরণ ও আগুনের মতো দুর্ঘটনায় প্রাণহানির আশঙ্কা থাকায় কর্মীদের দ্রুত সরিয়ে নেওয়াকে গুরুত্বপূর্ণ বলে বিবেচনা করা হচ্ছে।
কারখানাটির মালিক প্রতিষ্ঠান পেপসিকো ফুডস ইউএস জানিয়েছে, জরুরি বিভাগের কর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছেছিলেন এবং ঘটনার কারণ খতিয়ে দেখা হবে। কারখানার যে অংশে আগুনের সূত্রপাত হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, সেখানে সাধারণত তুলনামূলক কম কর্মী কাজ করেন।
প্রতিষ্ঠানটির তথ্য অনুযায়ী, এই কারখানা বিশ্বের বৃহত্তম ওটস প্রক্রিয়াকরণ কেন্দ্রগুলোর একটি। এখানে প্রতিদিন ২০ লাখ পাউন্ডের বেশি—প্রায় ৯ লাখ কেজি—ওটস প্রক্রিয়াকরণ করা হয়। ফলে আগুনের ঘটনাটি শুধু স্থানীয় জননিরাপত্তার বিষয় নয়, খাদ্য উৎপাদন ও সরবরাহব্যবস্থার দিক থেকেও গুরুত্বপূর্ণ।
এ ধরনের শিল্প দুর্ঘটনার পর তদন্তকারীরা সাধারণত যন্ত্রপাতি, বৈদ্যুতিক ব্যবস্থা, উৎপাদন প্রক্রিয়া এবং অগ্নিনিরাপত্তা ব্যবস্থার সম্ভাব্য ত্রুটি পরীক্ষা করেন। তবে এই ঘটনায় বিস্ফোরণের কারণ বা কারখানার ক্ষয়ক্ষতির পূর্ণ বিবরণ নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত কোনো নির্দিষ্ট কারণকে দায়ী করা যাচ্ছে না।
যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীদের জন্যও ঘটনাটি কর্মক্ষেত্রের নিরাপত্তার গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দেয়। কারখানা, গুদাম বা খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ প্রতিষ্ঠানে কাজ করা কর্মীদের জরুরি বহির্গমন পথ, অগ্নিনিরাপত্তা নির্দেশনা এবং কর্মস্থলের সতর্কতামূলক নিয়ম সম্পর্কে জানা জরুরি।




মন্তব্য ০
লগইন করুন অথবা বিনা মূল্যে অ্যাকাউন্ট খুলুন আলোচনায় যোগ দিতে। নাম গোপন রেখেও মন্তব্য করতে পারবেন।
এখনো কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি করুন।