সরাসরি মানচিত্র, পূর্বাভাস ও জরিপের গড়: PoliAgg (CC BY-SA 4.0)

পূর্ণ ফলাফল, মানচিত্র ও জরিপ
ব্রেকিং
রিয়াদে ক্ষেপণাস্ত্রের হুমকি, সৌদির প্রতিরোধের দাবি ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন উত্তেজনা বাড়ছেতাইওয়ানে টাইফুন চ্যাম্পির তাণ্ডব, নিহত ১, আহত ৫২৭, বিদ্যুৎ ও বিমান চলাচল বিপর্যস্তহরমুজ প্রণালিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপের খবর, যুদ্ধের নতুন আশঙ্কায় বিশ্বজুড়ে উদ্বেগযুক্তরাষ্ট্রে আগাম ভোট ২ কোটি ছাড়াল, সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বাড়ছে রাজনৈতিক উত্তেজনাপশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নজিরবিহীন অভিযান, ১৫ শহরে তল্লাশি, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিক

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নজিরবিহীন অভিযান, ১৫ শহরে তল্লাশি, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিক

পশ্চিম তীরের অন্তত পনেরো শহরে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি; হেবরনে ভবন ধ্বংস ও পরিবার উচ্ছেদের ঘটনায় বাড়ছে উদ্বেগ।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নজিরবিহীন অভিযান, ১৫ শহরে তল্লাশি, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিক
পশ্চিম তীরে ইসরায়েলের নজিরবিহীন অভিযান, ১৫ শহরে তল্লাশি, আটক কয়েক ডজন ফিলিস্তিনি নাগরিক

২৪ অক্টোবর প্রকাশিত সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযানে কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটক করা হয়েছে। হেবরনে দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর অভিযান জোরদার এবং চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপের খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে আটক ব্যক্তিদের সুনির্দিষ্ট সংখ্যা ও প্রত্যেকের পরিচয় স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।

পশ্চিম তীরের বিভিন্ন শহর ও জনপদে ইসরায়েলি বাহিনীর ধারাবাহিক সামরিক অভিযান, বাড়িঘরে তল্লাশি এবং কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটকের ঘটনায় নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শনিবার, ২৪ অক্টোবর প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের অন্তত পনেরোটি শহর ও জনপদে অভিযান চালানো হয়েছে। নাবলুস, জেনিন, তুবাস ও কালকিলিয়াসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় এসব অভিযান পরিচালিত হয়। একই সময়ে দক্ষিণাঞ্চলের হেবরনে ভবন ভাঙা, পরিবারগুলোকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়া এবং চলাচলে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপের খবর পাওয়া গেছে।

এই অভিযান এমন এক সময়ে শুরু হয়েছে, যখন হেবরনে এক সশস্ত্র হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত হওয়ার পর নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর হেবরনের কাছে একটি হামলায় দুই ইসরায়েলি সেনা নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হন বলে সংবাদ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। ইসরায়েলি বাহিনী পাল্টা গুলিতে দুই ফিলিস্তিনি হামলাকারীকেও হত্যা করে বলে উল্লেখ করা হয়। ঘটনার পর ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু পশ্চিম তীরে কঠোর সামরিক পদক্ষেপের নির্দেশ দেন।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উত্তর পশ্চিম তীরের নাবলুস এলাকার জালুদ ও কারিউত গ্রামে ইসরায়েলি বাহিনী ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘরে প্রবেশ করে তল্লাশি চালায় এবং কয়েকজনকে আটক করে। জেনিনের আশপাশের আরাব্বা ও বুরকিন এলাকাতেও আটকের খবর পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তুবাস ও এর নিকটবর্তী আক্কাবা জনপদে সেনাদের প্রবেশের কথা জানানো হয়েছে। জেরিকো শহর এবং আকাবাত জাবর শরণার্থীশিবিরেও অভিযান চালানো হয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। তবে প্রতিটি এলাকায় কতজনকে আটক করা হয়েছে, তার পূর্ণাঙ্গ ও স্বাধীনভাবে যাচাইকৃত হিসাব প্রকাশিত হয়নি।

দক্ষিণাঞ্চলের হেবরনে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বুলডোজার দিয়ে তিনতলা একটি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। সেখানে বসবাসকারী পরিবারগুলোকে নিজেদের জিনিসপত্র সরিয়ে নেওয়ার জন্য মাত্র পাঁচ মিনিট সময় দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া হেবরনের আইন দেইর বাহা এলাকা এবং আশপাশের অঞ্চল থেকে বহু ফিলিস্তিনি পরিবারকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশ দেওয়ার খবর পাওয়া গেছে। এসব পরিবারের কতজন ইতিমধ্যে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং তাঁদের বিকল্প আশ্রয়ের ব্যবস্থা হয়েছে কি না, তা নিয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।

হেবরনে হামলার সঙ্গে জড়িত সন্দেহভাজন একজনের বাড়িও ঘিরে ফেলে ইসরায়েলি সেনারা। শহরের আল-জালদা এলাকাতেও তল্লাশি অভিযান চালানো হয়। ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, হেবরনে তাদের অভিযান কয়েক দিন ধরে চলতে পারে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের আরও বহু এলাকায় নিরাপত্তা অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনার কথাও জানানো হয়েছে। তবে সামরিক অভিযানের আওতায় ঠিক কতটি বাড়িতে তল্লাশি চালানো হয়েছে, কতজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে এবং কতজনকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে, সে বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

এদিকে পশ্চিম তীরজুড়ে চলাচলে বিধিনিষেধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। সংবাদ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বহু সামরিক তল্লাশিচৌকি ও প্রবেশপথ বন্ধ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এসব বিধিনিষেধ কার্যকর হলে লাখ লাখ ফিলিস্তিনির দৈনন্দিন জীবন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কর্মস্থলে যাওয়া, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পৌঁছানো, পণ্য পরিবহন এবং জরুরি চিকিৎসাসেবা গ্রহণের ক্ষেত্রে মানুষের ভোগান্তি বাড়তে পারে। বিশেষ করে যেসব রোগীকে নিয়মিত হাসপাতালে যেতে হয়, তাঁদের জন্য দীর্ঘ পথ ঘুরে চলাচল করা কিংবা নিরাপত্তা তল্লাশির কারণে বিলম্ব হওয়া গুরুতর সমস্যার সৃষ্টি করতে পারে।

ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব মুস্তাফা বারঘুতি এই কঠোর বিধিনিষেধের সমালোচনা করেছেন। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, শহর ও গ্রামগুলোর প্রবেশপথ বন্ধ করে দেওয়া হলে সাধারণ মানুষের চলাচল, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়। তিনি সতর্ক করেছেন, ব্যাপক বিধিনিষেধ ও সম্মিলিত শাস্তির মতো পদক্ষেপ পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলতে পারে। অন্যদিকে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ তাদের পদক্ষেপকে নিরাপত্তা অভিযান হিসেবে উপস্থাপন করছে। হামলার পর সন্দেহভাজনদের খোঁজ করা এবং ভবিষ্যৎ হামলা ঠেকানোই তাদের ঘোষিত লক্ষ্য। তবে নিরাপত্তার যুক্তিতে গৃহীত পদক্ষেপ সাধারণ বেসামরিক মানুষের ওপর কী প্রভাব ফেলছে, তা নিয়ে উদ্বেগ অব্যাহত রয়েছে।

পশ্চিম তীরের বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে হলে সাম্প্রতিক সময়ের সহিংসতা ও বসতি সম্প্রসারণের বিষয়টিও বিবেচনায় নিতে হয়। বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদনে ফিলিস্তিনি কৃষকদের ওপর হামলা, জলপাই সংগ্রহে বাধা, জমি ও সম্পত্তির ক্ষয়ক্ষতি এবং বাড়িঘর ভাঙার ঘটনার কথা উঠে এসেছে। বিশেষ করে জলপাই সংগ্রহের মৌসুমে কৃষকদের নিরাপত্তা এবং নিজেদের জমিতে প্রবেশাধিকার নিয়ে উদ্বেগ বেড়েছে। এসব ঘটনা স্থানীয় জনগণের জীবিকা, খাদ্যনিরাপত্তা ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রাকে প্রভাবিত করছে। তবে প্রতিটি ঘটনার দায়, ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ভূমিকা পৃথকভাবে যাচাই করা জরুরি।

আন্তর্জাতিক আইনের দৃষ্টিতেও পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ। অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে ইসরায়েলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিকভাবে ব্যাপকভাবে অবৈধ হিসেবে বিবেচিত। একই সঙ্গে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা, জোরপূর্বক স্থানান্তর, সম্পত্তি ধ্বংস এবং আটক ব্যক্তিদের অধিকার সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক আইন মানা বাধ্যতামূলক। নিরাপত্তাজনিত প্রয়োজনের দাবি থাকলেও প্রতিটি পদক্ষেপের বৈধতা, প্রয়োজনীয়তা ও আনুপাতিকতা বিবেচনা করতে হয়। এ ঘটনায় ভবন ধ্বংস ও পরিবারগুলোকে বাড়ি ছাড়ার নির্দেশের পূর্ণ পরিস্থিতি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো, সামরিক অভিযান কত দিন চলবে, আটক ফিলিস্তিনিদের কতজনকে মুক্তি দেওয়া হবে এবং বন্ধ প্রবেশপথগুলো কবে খুলে দেওয়া হবে। একই সঙ্গে বাস্তুচ্যুত পরিবারগুলোর আশ্রয়, চিকিৎসা ও অন্যান্য মৌলিক চাহিদা নিশ্চিত করা জরুরি। নতুন করে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে সাধারণ মানুষের প্রাণহানি ও দুর্ভোগ আরও বাড়তে পারে। তাই ঘটনাগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, বেসামরিক মানুষের সুরক্ষা এবং উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

সার্বিকভাবে, ২৪ অক্টোবরের সংবাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী পশ্চিম তীরের অন্তত পনেরোটি শহর ও জনপদে ইসরায়েলি বাহিনীর অভিযান এবং কয়েক ডজন ফিলিস্তিনিকে আটকের খবর প্রকাশিত হয়েছে। হেবরনে ভবন ধ্বংস ও পরিবারগুলোকে সরিয়ে দেওয়ার খবরও এসেছে। তবে আটকের চূড়ান্ত সংখ্যা, ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পূর্ণ হিসাব এবং প্রতিটি অভিযানের বিস্তারিত পরিস্থিতি এখনো স্বাধীনভাবে নিশ্চিত নয়। নতুন তথ্য পাওয়া গেলে হতাহত, আটক ব্যক্তিদের পরিচয় এবং বাস্তুচ্যুত মানুষের পরিস্থিতি সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।


ট্যাগ: িলিস্তিনপশ্চিম তীরইসরায়েলফিলিস্তিনিসামরিক অভিযানগ্রেপ্তারহেবরনমধ্যপ্রাচ্যমানবাধিকারআন্তর্জাতিক সংবাদ

প্রতিবেদক

CSB News USA

ফটোকার্ড তৈরি হচ্ছে…

সিএসবি নিউজ ইউএসএ ফলো করুন

প্রতিদিন সকালে প্রধান সংবাদ, আর ব্রেকিং নিউজ ঘটার সাথে সাথে। বিনামূল্যে।